শিরোনাম:
ফরিদগঞ্জে কুকুরের কামড়ে আহত ২০ কচুয়ায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার মেঘনায় কার্গোর ধাক্কায় তলা ফেটেছে সুন্দরবন -১৬ লঞ্চের, নারী নিখোঁজ ষোলঘর আদর্শ উবি’র ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডঃ হুমায়ূন কবির সুমন কচুয়ায় নবযোগদানকৃত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে শিক্ষক সমিতি শুভেচ্ছা মতলব উত্তরে লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা উপাদী উত্তর ইউনিয়নে দীপু চৌধুরীর স্মরণে মিলাদ ও দোয়া পশ্চিম সকদী ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহন মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তলিয়ে গেছে এক যুবক ফরিদগঞ্জের ঘনিয়া দরবার শরীফের পীরের সঙ্গে ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভুঁইয়ার সাক্ষাৎ

গণমাধ্যমের অন্দরমহল’ ভাষ্য ঝুঁকিপূর্ণ মফস্বল সাংবাদিকতায় বীরদর্পে এতোদিন

reporter / ১৬৫ ভিউ
আপডেট : বুধবার, ১ জুন, ২০২২

গণমাধ্যমের অন্দরমহল’ ভাষ্য
ঝুঁকিপূর্ণ মফস্বল সাংবাদিকতায় 
বীরদর্পে এতোদিন
——–মাহবুব আলম প্রিয়————–
খুব ভালো করে লিখতে জানি না। তখন সবে ৮ম শ্রেণির ছাত্র। ভাঙ্গা ভাঙ্গা
হাতে দু চার লাইন ছড়া লিখে সহপাঠিদের শুনাতাম। মাঝে মাঝে স্থানীয়
অনুষ্ঠানে নিজের লেখা কবিতা পাঠ,আবার তা স্থানীয় সাপ্তাহিকে
পাঠানোর মধ্য দিয়ে লেখার জগতে প্রবেশ। সময়টা তখন ২০০০ সাল।
এর কিছুদিন পর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার বিচ্ছু নামীয় প্রতি রবিবারের
প্রকাশনায় ছড়া পাঠালে ছাঁপা হয়। এতে আনন্দিত হই। মন ভরে যায়। শুরু
করি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের চিঠিপত্র কলামে স্থানীয় সমস্যা ও সংকট
তুলে ধরা। আমার নাম ঠিকানা প্রকাশ হতে শুরু করলে মনোনিবেশ করি
পুরোপুরি সাংবাদিকতায়। তবে কিভাবে কোথায় সাংবাদিকতা শুরু
করবো খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সময়ের ব্যবধানে ২০০৩ সালে তখন
এইচএসসির ছাত্র। সৌভাগ্যক্রমে স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক রূপগঞ্জ
পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আলম হোসেন আমার প্রতিষ্ঠানের নবীন
বরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছেন। সেখানে আমার বক্তব্য ও উপস্থাপনা
শুনে তিনি আমাকে তার কার্যালয়ে যেতে বললেন। আমি যেন পেয়ে যাই
কাংখিত সাংবাদিকের খোঁজ। হুম সাংবাদিকতায় প্রবেশ করতে
হাতেখড়ির তারই হাতে।একই সময়ে রূপগঞ্জ থেকে কলামিষ্ট ও গবেষক লায়ন
মীর আব্দুল আলীম’র সম্পাদনায় সাপ্তাহিক অপরাধ বার্তা নামেও পত্রিকা
প্রকাশ হতো। তিনি রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি থাকায় দ্রত তার
সান্নিধ্য লাভ করি। আমাকে তার বিশেষ নজরে রেখে নিজ হাতে তৈরী
করেন। ক্রমেই বেড়ে যায় সামাজিক দায়িত্ববোধ। সমাজে ঘটে যাওয়া
ঘটনা ছাড়াও তুলে আনি নানা মহলের অনিয়মগুলো। মাদক ও জুয়ার
বিরম্নদ্ধে কলম চলে ক্ষুরধারভাবে। প্রথম প্রথম বুঝতে পারতাম না যে
সাংবাদিকতা করলে জীবনের চরম ঝুঁকি তৈরী হয়। না বুঝেই সেদিন
আমার গ্রাম ও আশপাশের গ্রামের চিহ্নিত মাদককারবারিদের তথ্যসহ
সংবাদ প্রকাশ শুরু করি। শুধু তাই নয়, জুয়ার মাঠ পরিচালনাকারীদের,
রাস্তাঘাটের মেরামতের নামে জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদারদের অনিয়ম,
পরিবেশ বিনষ্টকারীদের তথ্য, নদী দখলদার, জমি দখলদারদের মুখোষ উন্মোচন
শুরু করি। এতে গ্রামের মাদক কারবারিদের তোপের মুখে পড়ি। তারা
আমার প্রতিপ্রাপ্তি হয়ে দলবেঁধে আমার বাড়িতে হামলা চালাতে চেষ্টা
করে। তখন ছাত্র থাকায় বাড়িতে ছিলাম না। তাই মাদক কারবারিরা আমার
জন্য কাফনের কাপড় কিনে তা আমার বাবা ও মাকে দেখিয়ে হুমকি
ধামকি দেয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ ভেবে আমার বাবা আমার ছাত্রাবাসে চলে
আসেন। সেখানে গিয়ে সব খুলে বলেন। তিনি আমার নিরাপত্তা নিয়ে
চিন্তিত হয়ে পড়েন। এসব খুলে বলি সাংবাদিকদের। তখন থানায় একটি
সাধারন ডায়েরী করার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমার বয়স ও লেখা
বিবেচনায় আমাকে আদর করে তার নিজ গাড়ী দিয়ে আমার বাড়িতে
পৌঁছে দেন। বুঝলাম, সাংবাদিক পুলিশ ভাই ভাই। তখন রূপগঞ্জ থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন কামরুল হাসান নামের এক ভদ্রলোক। সে
সময়ে সাংবাদিকদের মর্যাদা এতো ছিলো যে, গ্রাম এলাকার কোন
স্পটে সাংবাদিক গেলে তাদের দেখতে আসতো লোকজন। তখন
সাংবাদিকদের সংখ্যা বেশি ছিলো না। তাই সচরাচর বহুজনেই
সাংবাদিক চিনতেন না। তবে সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা
ছিলো ভরপুর। সময়ের ব্যবধানে সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষন গ্রহণ করি।
পিআইবির প্রশিক্ষন পাওয়ারও সৌভাগ্য হয়। পরপর আমার লেখা ৪টি
উপন্যাস ও ১টি কবিতার বই প্রকাশেরও সুযোগ হয়। অনার্স
পাঠদানকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ফোরামের সদস্য হই
এবং দৈনিক সমকালে কাজ করার সুযোগ হয়। মাস্টার্স করার পর পরিবারের
ইচ্ছায় আবার আমার জন্মস্থান উপজেলায় চলে আসি। সেখানের হয়ে
দৈনিক বণিক বার্তায় কাজ করি। পত্রিকাটিতে স্থানীয় সম্ভাবনার কথা
তুলে ধরি। নদী দখল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পরের দিন
বিআইডব্লিউটিএর লোকজন উচ্ছেদে এলে ব্যাপক আলোচনায় আসি।
সাধারনরা সাধুবাদ জানালেও দখলদাররা আমাকে খুঁজতে থাকে। স্থানীয়
কতিপয় সাংবাদিক ওই দখলদার শিল্পপতিদের পক্ষ নেয়। তবে রূপগঞ্জ
প্রেসক্লাব ছিলো আমার পক্ষে। তারাও আমার প্রকাশিত সংবাদকে
প্রাধান্য দেয়। এতে আমি তৃপ্ত হই।
বুঝতে পারলাম, সাংবাদিকতা শুধু লেখনিতেই সীমাবদ্ধ নয়। কাজ করার
বহুমাত্রিক মাধ্যম এটি। তাই দেশ ও দশের দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করায় এমন
তৃপ্তির তালিকায় যোগ হয় সমাজসেবায় অবদান রাখার মতো কিছু
কর্ম। এরমাঝে মাদক কারবারি ও ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে সফলতাই
বেশি। তবে মানবিক সংবাদ প্রকাশ করে বহুজনের দুর্দিনে পাশে
দাড়ানোর সৌভাগ্যও হয়েছে। এরমাঝে পূর্বাচলের আদিবাসিদের
উচ্ছেদকালীন ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ না দেয়ার তথ্য তুলে ধরি। সময়ের
ব্যবধানে ক্ষতিগ্রস্থরা তাদের ন্যায্য অধিকার পায়। ১৩ বছরের শিক্ষার্থী
আছমা আক্তার ১ পা দিয়ে খুড়িয়ে খুঁড়িয়ে স্কুলে যাওয়ার দৃশ্য চোখে
পড়ে। জানতে পারি, তার জন্মগতভাবেই ১ পা নেই। আমি তা ফলাও করে
প্রচার করি। দৃষ্টিগোঁচর হয় রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান
ভুঁইয়া এবং রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কলামিষ্ট লায়ণ মীর আব্দুল
আলীম’র। তারা যৌথভাবে শিক্ষার্থী আছমার জন্য কৃত্রিম পা স্থাপন করে
দেয়। আমিও তাতে অর্থ সহায়তা দিয়ে অংশ নেই। এছাড়াও ক্যান্সার
আক্রান্ত শিশু হাদিদের ২০ লাখ টাকার জন্য চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না
তার দরিদ্র সিএনজি চালক বাবা। এ বিষয়ে পত্রিকায় মানবিক সংবাদ
প্রকাশ করলে স্থানীয় স্বেচ্চাসেবকরা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারা
চিকিৎসার অর্থ ব্যবস্থা করলে সেই শিশু হাদিদের চিকিৎসা
হয়।একইভাবে দরিদ্র রিক্সা চালক ও শিল্পি ভোলাবোর নুরুল ইসলামের বিষয়ে
সংবাদ প্রকাশ হলে রূপগঞ্জ ইউএনও তাকে ডেকে সরকারী সহায়তা
প্রদান করেন। এছাড়ও গাউছিয়া থেকে পূর্বাচল হয়ে রাজধানীতে
প্রবেশের জন্য ছিলো না কোন গণপরিবহণ।এই পথে জনভোগান্তি
নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে টনক নড়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের। স্থানীয়
স্বেচ্চাসেবীরা মাঠে নেমে মানবন্ধন করেন। এখন এ পথে একাদিক
গণপরিবহণ সংস্থা সচল। সাধারন মানুষের কাছে সাংবাদিকতার
মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এভাবেই।
মফস্বল সাংবাদিকতায় ব্যাপক সংকট রয়েছে। এসব সংকটের মধ্যে
রয়েছে অশিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত লোকজনকে প্রতিনিধিত্ব করার
সুযোগ দেয়া। এ সুযোগে যার বিবেকবোধ নাই সেও নিজেকে
বিবেকবানদের তালিকায় নাম লেখাচ্ছে। ফলে সমাজের দায়বদ্ধতা ও ভালো
মন্দ বিচারিক ক্ষমতা না থাকায় প্রকৃত সেবা বঞ্চিত হয় স্থানীয়
পর্যায়ে। আমি মনে করি একজন সংবাদ কর্মীর দেশের আইন, সংবিধান
দেশপ্রেম, সামাজিক ও ধর্মীয় জ্ঞান থাকা অতীব জরুরী। যাতে সে
প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে পারে। ধর্মের নামে অনাচার তুলে ধরে জাতিকে
সচেতন করতে পারে। এমন কাজটি রূপগঞ্জ অঞ্চলে আমার দ্বারা
হয়েছে।তবে ভন্ডদের দৌড়াত্ব থাকায় পুরোপুরি সফল হইনি বটে।
রূপগঞ্জের তারাবো পৌর অঞ্চলের ময়ফুল নগরে এক ভন্ডপীর তার আস্তানা গড়ে
সেখানে ১৩ বছরের কিশোরীর সঙ্গে ক্যালেঙ্কারীতে জড়িয়ে যায়। এ
ঘটনা জেনে আমরা ঘটনাস্থলে তৎকালীন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তাকে নিয়ে গেলে গ্রামবাসি ওই ভন্ড পীরের বিরুদ্ধে সোচ্চার
হয়। কিন্তু ভক্তদের আবেদনে প্রশাসন নিরব হতে বাধ্য হয়। ওই ভন্ডপীরের আরো
কুকীর্তি তুলে ধরে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করি। অতৎপর ধর্মপ্রাণ
মানুষগুলো ওই ভন্ডপীরের আস্তানা আগুন জ্বালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। একইভাবে
রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইলে ২যুগ ধরে একজন পরিচয়হীন মানষিক
ভারসাম্যহীন লোকের কবরকে আওলিয়ার মাজার বলে ভক্তি করে আসছিলেন। ওই
মাজারকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বোচ্চ মিনার স্থাপনসহ ১০
কোটি টাকার স্থাপনা তৈরী করে ভক্তরা। প্রতি বছর মান্বতের নামে, মেলার
নামে অশ্লীলতা চলতো। এসব তুলে আনার পর এখন সেখানে সচেতনতা
তৈরী হয়েছে। মেলা আর জমছে না গত ৪ বছর ধরে। আবার পূর্বাচল নতুন
শহর এলাকায় একইভাবে পরিচয়হীন এবং বস্ত্রহীন এক মানষিক
ভারসাম্যহীন লোকের কবরকে মাজার করে দখলে নিয়েছে পূর্বাচলের
মুল্যবান ১০টির অধিক প্লট। ধর্মীয় অনুভুতি বিবেচনায় রাজউকে
সেখানে কিছু করতে পারছিলেন না। এসব নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর
রাজউক ওই মাজারকে সরিয়ে দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করে। এছাড়াও প্রতি
বছর অশ্লীলতা নিত্য,জুয়া ও গাজার আসরের মেলা হিড়নাল মাজারকে ঘিরে
মেলা বন্ধেও ছিলো লেখনির অবদান। এসব কাজ করা সম্ভব হয়েছে একজন
সংবাদকর্মীর ধর্মীয় জ্ঞাতসার হওয়ায়।
এতো কিছু সফলতার পরও ব্যর্থতাই বেশি। সাধারন লোকজনের অভিযোগ
সাংবাদিকরা সব কিছু লিখতে পারেন না। তারা চাটুকার, তারা
একপেশী ইত্যাদি। আমাদের রূপগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিকদের প্রতি এমন
অভিযোগ কম নয়। তবে খোলা মনে সাংবাদিকতার অন্তরায় রয়েছে বহু।
১৯৯৬ইং সন থেকে পূর্বাচল নতুন শহর বাস্তবায়ন শুরু হলে আশপাশের
মৌজায় রূপগঞ্জ অঞ্চলে বেড়ে যায় বেসরকারী নামে বেনামে আবাসনের
সংখ্যা। তারা নিরীহ কৃষকের জমি দখলে নিতে নানাবিধ অপকৌশল
প্রয়োগ করে। রাতের আঁধারে বালি ফেলে দখলে নিয়ে নামে মাত্র মুল্যে
বিক্রি করতে বাধ্য করে। এসব অন্যায় নিয়ে খুব একটা লেখাও যায় না।
কারন ওই জবর দখলে জড়িত থাকে জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের প্রভাবশালী
মহল। তাদের বিরুদ্ধে কিছু লিখতে গেলে স্থানীয়ভাবে সাংবাদিক
নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে থাকে। সে পরিস্থিতিতেও কলম থামেনি। নানা
কৌশলে কৃষকদের কথা তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
বিনিময়ে ওই আবাসন সংশ্লিষ্টদের  উপহার পেতে হয়েছে। তারা
সুযোগ পেলে যে কোন ধরনের ক্ষতি করেই ছাড়বে। ইতোমধ্যে সাধারন
কৃষকের কথা বলায় একটি আবাসন কোম্পানী আমাকে বালির তলায়
পূঁতে ফেলার হুমকী দেয়। এতে থানায় সাধারন ডায়েরী করেও নিরাপত্তা
পেয়েছি বলে মনে করিনা। আবার রূপগঞ্জ উপজেলার কুলিয়াদি মৌজায়
২০ একর বনের জমিতে শতাধিক ঘর বাড়ি নির্মাণ করে দখলে রাখলেও
বনকর্মকর্তা নির্বিকার। এসব নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও রহস্যজনক
সফলতা মেলেনি। সম্প্রতি রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক
সংকট নিয়ে দৈনিক খোলাকাগজের প্রকাশিত সংবাদটি ব্যাপক
আলোচনায় আসে। শুধূ তাই নয়, পরের আরেকটি রিপোর্ট রূপগঞ্জে
বেতন ও নিয়োগ, কাজ করেন ঢাকায়, এমন ৪জন চিকিৎসকের সংবাদ
প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি জেলা সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের।
তবে অপরাধীর হুমকী ধামকী এড়িয়ে দেশের জন্য, সমাজের জন্য দুচারটি
কথা লিখতে পারি, সবার মতামত নিতে পারি; এই বা কম কিসে?
নিজেকে একজন সফল সংবাদকর্মী দাবী করে বলতে চাই, এ পেশায়
থেকে সমাজের জন্য, সাধারন মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় নির্বাচিত হয়ে বহু জনপ্রতিনিধি
লুটপাটকারীর খাতায় নাম লেখায়। গরিবের হক মেরে খায়। গরীবের চাল
চুরি, ওজনে কম দেয়ার ঘটনায়ও জড়িত হয়। এমন এক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট
খাদ্য পরিদর্শকের অপরাধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তা প্রমাণিত হয়। ওই
দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়ে সে ক্ষিপ্ত  হয়ে সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে আমার সমালোচনা করে একটি পোস্ট দেয়। তাতে
আমি তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের ই পেপার কপি মন্তব্য ঘরে দেই।
সে সময় সাধারন মানুষের মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারলাম, সাধারন মানুষ
সত্যকে গ্রহণ করে। দূর্ণীতিকে না বলে।তারা ওই দূর্নীতিবাজকে
নাস্তানুবাদ করে ছাড়ে। এভাবেই মানুষের হৃদয় বুঝে ওঠার মাধ্যমে
কুড়িয়ে পাওয়া সুখ আমার অমুল্য সম্বল। আমি সংবাদ কর্মী না হলে
এমন ভালোবাসায় সিক্ত হতাম না। আমি গর্বিত হই যে, আমি মানুষের
কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। কাজ করছি বলে তৃপ্তি পাচ্ছি।
বাস্তবতা হলো আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, আমার আর্থিক অভাব অনটন
নিরসনের ব্যবস্থার নিশ্চয়তা কিন্তু নাই। এ পেশাটাই আজব। যার ঘরে
বাইরে নানা না বলা কথা থাকে। তবে নিজের অভুক্ত পেটে দশের ক্ষুরধার
জ্বালা তুলে ধরি আমরা এ পেশার লোকজন।এটার ব্যাখ্যাও ঘরের লোকই
জানে। সব কথা খুলে বলাকি অত সহজ? সাবধান! আইন আছে।
আধুনিক, স্বাধীন, সার্বভৌম এ গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের
নিজস্ব উন্নয়নশীল ধারায় আজো ব্রিটিশ আইন নামীয় গনমাধ্যমের
জন্য বিষফোঁড়া। চোখ রাঙ্গায় ১৯২৩ সনের করা কন্ঠরোধী আইন।
যেখানে সংবাদ প্রকাশের জন্য সরকারী দপ্তরের অনিয়ম জেনেও তা তুলে
ধরলে জবাব দিহিতা কিংবা দন্ডের হুশিয়ারি।আবার ৩২ ধারা, ৫৭ ধারার
মতো আইন রয়েছে। যেসব আইনের লঙ্ঘণে একজন সংবাদ কর্মী হয়ে
যান চোর, গুপ্তচারী, দেশদ্রোহী! অথচ আমাদের অধিকারের কথা, আমাদের
নিরাপত্তার কথা,আমাদের প্রতিষ্ঠার কথা সমাজের জেষ্ঠ্যরা উপযুক্তস্থানে
বলছেন না। এমনকি সংবাদকর্মীদের অধিকার নিয়ে আমরাও নিজেদের
কথা বলি না বা বলার ক্ষেত্র পাইনা। দৈনিক খোলাকাগজের এমন সুযোগ
আমাদের মতো সংবাদকর্মীদের জন্য মহৎ পাওয়া। ‘গণমাধ্যমের অন্দরমহল’
ভাষ্য’র মাধ্যমে জানবো, বলবো আরো আমাদের কথা।
পরিচিতি—-
মাহবুব আলম প্রিয়
লেখক ও সাংবাদিক
মুঠোফোন: ০১৯১৬-৯৫৭৪৯৪


এই বিভাগের আরও খবর