শিরোনাম:
ফরিদগঞ্জে কুকুরের কামড়ে আহত ২০ কচুয়ায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার মেঘনায় কার্গোর ধাক্কায় তলা ফেটেছে সুন্দরবন -১৬ লঞ্চের, নারী নিখোঁজ ষোলঘর আদর্শ উবি’র ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডঃ হুমায়ূন কবির সুমন কচুয়ায় নবযোগদানকৃত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে শিক্ষক সমিতি শুভেচ্ছা মতলব উত্তরে লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা উপাদী উত্তর ইউনিয়নে দীপু চৌধুরীর স্মরণে মিলাদ ও দোয়া পশ্চিম সকদী ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহন মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তলিয়ে গেছে এক যুবক ফরিদগঞ্জের ঘনিয়া দরবার শরীফের পীরের সঙ্গে ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভুঁইয়ার সাক্ষাৎ

জননিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনে বাধ্যতমুলক আইন চাই

reporter / ৭৬ ভিউ
আপডেট : রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩

মাহবুব আলম প্রিয়ঃ
প্রতিদিন পত্রিকার পাতা আর টেলিভিশন পর্দায় যেমন শুনি হত্যা,খুন,ধর্ষণে, ছিনতাই, ডাকাতি চুরির কথা তেমনি শুনি এ পাড়ায় কিংবা ওই পাড়ার কারো না কারো বাড়িতে চুরি, দোকানে লুটপাট,জমি জবর দখলের সময় হামলা মামলার কথা। এসব নিয়ে ভুক্তভোগীরা সাধারণত আইনি ব্যবস্থার দারস্থ হলে প্রমাণের অভাব থাকে। ফলে প্রকৃত অপরাধী রা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু সিসি টিভি ক্যামেরায় ধারন করা ফুটেজ বিনা অপরাধে কাউকে আসামী করা থেকে মুক্তি দিতে পারে। আসল অপরাধীকে ধরা যায় সহজেই।
আমরা শহর এলাকায় দেখি,  এই ভবনটি সিসি ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক আপনার গতিবিধি  নজরদারী বা রেকর্ড করা হচ্ছে। এখন অনেক বাড়ি, অফিস বা ভবনে এমন সতর্কবার্তা টাঙানো থাকে।  কেউ যাতে কোনো দুষ্কর্ম করার আগে একবার অন্তত ভেবে দেখে যে তাঁর কার্যক্রম নজরদারি করা হচ্ছে। সে কারণেই সিসিটিভি। ভিডিওর মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থায় (সার্ভিলেন্স সিস্টেম) সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন) ক্যামেরার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বিশেষ করে জননিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরার চাহিদাও বাড়ছে। বাইরে তো বটেই, কর্মজীবী দম্পতি, যাঁদের শিশুসন্তানকে বাসায় কারও কাছে রেখে আসতে হয়, তাঁরাও বাসার ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সিসি ক্যামেরা বসান। ফলে দূর থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাসার ওপর নজরদারি রাখা যায়। দেশের লোকজন এমন বহু কাজের বুয়া দ্বারা শিশু কিংবা বাড়ির কর্তা দ্বারা কাজের লোককে নির্যাতনের ঘটনা দেখেছে। এসবের জন্য তিরস্কার পেয়েছে সংশ্লিষ্ট অপরাধী।
সূত্রমতে, বাণিজ্যিকভাবে চল্লিশের দশকের পর থেকে সিসিটিভির ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৪২ সালে জার্মানিতে প্রথম সিসিটিভি দেখা গেছে। এটি তৈরি করে সিমেন্স এজি। রেকর্ডিং তারের মাধ্যমে বা পিয়ার টু পিয়ার (স্বাধীন গ্রাহক থেকে গ্রাহকের মধ্যে যোগাযোগ) তারহীন যোগাযোগের মাধ্যমে সম্প্রচার করার সুবিধা ছিল। সেই সময়কার সিসিটিভির সঙ্গে আধুনিক কালের সিসিটিভির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য চোখে পড়ে। আধুনিক সিসিটিভি নেটওয়ার্কে নজরদারির কাজের জন্য একসঙ্গে একাধিক ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ব্যাংক থেকে শুরু করে রাস্তা, অফিস, দোকান এমনকি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বাড়িতেও সিসিটিভি বসানো হচ্ছে। কিন্তু বাধ্যতামুলক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের আইন না থাকায় একে অতিরিক্ত খরচ ভেবে অনেকেই তা থেকে দূরে রয়েছেন। আবার  শখ,প্রয়োজন কিংবা নিরাপত্তার কথা ভেবে কেউ একবার ক্যামেরা বসালেও তা সচল কি না খেয়াল রাখেন না।  এভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ ডিভাইসের সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে জনসাধারণ। দূর্ঘটনার শিকার হয়েও প্রকৃত ঘটনা আড়ালে চলে যাচ্ছে।
 কালের পরিক্রমায় অপরাধীরা ধূর্ত হয়ে উঠেছে, নতুন নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় নির্বিঘ্নে অপরাধকর্ম করে বেড়াচ্ছে অপরাধীরা। অপরাধীদের গ্রুপে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও কৌশলী জনবল থাকে। ফলে অপরাধীদের নানা সিসিটিভিকে কিভাবে অকেজো করা যায়, সিকিউরিটি সার্ভিসের চোখ কিভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়, কোন্ এলাকায় ঝুঁকি বেশি, কোন্ এলাকা অপরাধকর্মের জন্য নিরাপদ, ক্রাইম জোন এরিয়া প্রভৃতি তথ্য উপাত্ত জেনে বুঝে অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনের দিকে ধাবিত হয়। সুতরাং এদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ রয়েছে, তৎসাপেক্ষে এদের মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশকেও আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে বলীয়ান হতে হওয়ার প্রয়োজন। পাশাপাশি আইনের বাস্তবায়ন দরকার।  যাহাতে শহরের মহল্লা
প্রবেশ পথে, মসজিদ,মন্দির, গির্জা, সরকারী বেসরকারি অফিস আদালত, গ্রামের প্রবেশ পথ, প্রধান সড়ক,দুই রাস্তা, তিন রাস্তা, চৌরাস্তায়, স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক কবরস্থান, মাদরাসায় সড়কমুখি, সড়জ মহা সড়কের ট্রাফিক মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বাধ্যতামুলক আইন করা এবং সংশ্লিষ্ট আইন না মানলে দন্ডের বাস্তবায়ন করা জরুরী।
এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে বাংলাদেশ পুলিশ। তারা অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বটে।  এ ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায় বাধ্যতামুলক ক্যামেরা স্থাপনে তাদের নজরদারী কার্যকর হতে পারতো। ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার   সফলতাও পেয়েছে এ দেশের জনগণ। আধুনিক ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর তাগিদে নানাবিধ উদ্যোগ ও প্রকল্পের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে বাহিনীটি।
প্রকৃতপক্ষে  অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ‘ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা’। এই ধরনের প্রযুক্তির ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে অনেক অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সঙ্গে রহস্যভেদ হয়েছে অনেক চাঞ্চল্যকর মামলারও। প্রযুক্তিটির বহুবিধ ব্যবহারের কারণেই প্রাইভেটলি এটি বিভিন্ন পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে স্থাপন করা এক হাজার ৬০০ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে অসংখ্য চাঞ্চল্যকর, গুরুত্বপূর্ণ মামলাসহ নানা ধরনের অপরাধের রহস্য অনুসন্ধান ও অপরাধী গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অনেকে এ প্রযুক্তির বিষয়ে অবগত হয়ে অপরাধ সংঘটনে ব্রতী হতে পারে না। অর্থাৎ বিষয়টি একটি প্রতিরোধমূলক হিসেবে কাজ করছে। মাঝে মধ্যে দেখা যায়, অভিযুক্তরা অনেকেই পুলিশের নিকট আত্মসমর্পণ করছে। অর্থাৎ তারা যখন বুঝতে পারে, তাদের দিন ফুরিয়ে গেছে, ফেরারি আসামি হয়ে বাঁচার কোনো উপায় নেই, তখনই তারা আত্মসমর্পণের পথ খুঁজে নেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের আট বিভাগে বেসরকারি পর্যায়ে আরও ৫০ হাজার সিসিটিভি বসানোর পরিকল্পনা করেছে পুলিশ। পুলিশ যেসব সিসিটিভি বসিয়েছে, তার মধ্যে অপরাধ দমন ও অপরাধী ধরতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) যুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। এসব সিসিটিভি অপরাধ করে অপরাধী পালানোর সময় এই ধরনের সিসিটিভি সংকেত দেবে। রাজধানী ঢাকার অপরাধ দমন, নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তায় সিসিটিভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বিবেচনা করেই পরিকল্পনাটি পুলিশ হাতে নিয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে, বিশেষ করে ব্যস্ত রাস্তার মোড়, ইন্টারসেকশন, প্রবেশ-বাহির পথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা- কেপিআই সংলগ্ন পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এমন পরিস্থিতিতে ক্রাইম ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকার সার্বিক নিরাপত্তা আরও ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম সিস্টেম, ফেস ডিটেকশন (চেহারা চিহ্নিতকরণ), গাড়ির নম্বর প্লেট চিহ্নিতকরণ প্রযুক্তি বা এএনপিআরসহ অন্তত ১১ ধরনের সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে। এই পরিকল্পনার একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, ডিজিটাল টহল নিশ্চিত করা। অর্থাৎ গভীর রাতেও নির্জন রাস্তা থাকবে পুলিশের নজরদারিতে।
তবে গ্রাম এলাকায় এখনো বাড়েনি সচেতনতা। তারা সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে বাড়তি খরচের কারন মনে করছে৷ অথচ চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারীরা আকষ্মিক অনেককেই  আঘাত করে জান মালের ক্ষতি করে যাচ্ছে।
আমরা চাইলে সহজেই ডিজিটাল এ সেবা গ্রহণ করতে পারি। নিরাপত্তায় ৯৯% সফলতা পাওয়া যায়।
সিসি ক্যামেরার পূর্ণরূপ হল ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। সিসি ক্যামেরা কে নজরদারি ক্যামেরা বলা হয়ে থাকে। আমাদের জান,মালের নিরাপত্তা প্রশ্নে কেন আপোষ করবো? আমাদের নিরাপত্তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।  নিরাপত্তার জন্য অনেকে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করে থাকেন। সিসি ক্যামেরার ব্যবহার জীবনযাত্রায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
সিসি ক্যামেরা চালু থাকা অবস্থায় যে কোনো ধরনের ভিডিও ধারণ করতে পারে। সিসি ক্যামেরা ভিডিও ধারণের পাশাপাশি ভিডিও সংরক্ষণ করেও রাখতে পারে
সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি বা আপনার নিরাপত্তামূলক না থেকেও সব সময় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। বিশেষ করে, আপনার যদি কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে থাকে তাহলে আপনি সেখানে উপস্থিত না থেকেও আপনার কর্মচারীরা কি করছে আপনি সেটা খুব সহজেই পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
সিসি ক্যামেরা থাকা স্থানে কোন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে পরবর্তীতে আপনারা সিসি ক্যামেরা ফুটেজ এর মাধ্যমে সেটা খুব সহজেই দেখতে পারবেন। সিসি ক্যামেরার ওয়াইফাই ক্যামেরা সুবিধার মাধ্যমে আপনি বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে খুব সহজেই শুধুমাত্র মোবাইল ব্যবহার করে সিসি ক্যামেরার ভিডিও সরাসরি দেখতে পারবেন। চুরি বা অন্যান্য অপরাধ কর্মকাণ্ড গুলো অনেক কমে যায় সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করার মাধ্যমে।
অতএব,  সিসি ক্যামেরা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আইনের আশ্রয় নিতে গেলে সবার আগে প্রমানের চাহিদা থাকে। আর প্রমান বা আলামত সংরক্ষণে সিসি ক্যামেরার বিকল্প নাই। তাই সমাজকে নিরাপদ করতে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে ব্যক্তি পর্যায় অল্প খরচে সিসি ক্যামেরার আওতায় আসা কঠিন কিছু নয়।
লেখক: সাংবাদিক
মাহবুব আলম প্রিয়


এই বিভাগের আরও খবর