শিরোনাম:
ফরিদগঞ্জে কুকুরের কামড়ে আহত ২০ কচুয়ায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার মেঘনায় কার্গোর ধাক্কায় তলা ফেটেছে সুন্দরবন -১৬ লঞ্চের, নারী নিখোঁজ ষোলঘর আদর্শ উবি’র ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডঃ হুমায়ূন কবির সুমন কচুয়ায় নবযোগদানকৃত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে শিক্ষক সমিতি শুভেচ্ছা মতলব উত্তরে লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা উপাদী উত্তর ইউনিয়নে দীপু চৌধুরীর স্মরণে মিলাদ ও দোয়া পশ্চিম সকদী ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহন মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তলিয়ে গেছে এক যুবক ফরিদগঞ্জের ঘনিয়া দরবার শরীফের পীরের সঙ্গে ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভুঁইয়ার সাক্ষাৎ

মতলব উত্তরে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন

reporter / ১৩৮ ভিউ
আপডেট : সোমবার, ৫ জুন, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
শৈশব জীবনে বিদ্যুৎবিহীন গ্রামের আলোর চাহিদা মিটানো বা অন্ধকার দূর করার একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেন বা কুপিবাতির আলো। সেই হারিকেন আজ বিলুপ্তির পথে।
যার অন্যতম জ্বালানি উপাদান ছিল কেরোসিন। তখনকার সময় এসব জ্বালিয়ে গ্রামাঞ্চলে রাতে বিয়ে-সাদি যাত্রাগান, প্রেনিগান, মঞ্চ নাটক, ওয়াজ মাহফিল কিংবা বাড়িতে দোয়ার অনুষ্ঠান করা হতো। হারিকেন জ্বালিয়ে বাড়ির উঠানে কিংবা ঘরের বারান্দায় ভাই-বোন একসাথে পড়াশোনা করতো। হারিকেনের জ্বালানি উপাদান কেরোসিন আনার জন্য কাচের বোতল ছিল। যা রশি দিয়ে বেধে রান্না ঘরের কোন স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হতো। সন্ধ্যার আগেই হারিকেনের কাছ মুছে তেল ভরে জ্বালানো হতো।
তবে ঠিক ‘আনারসের মত দেখতে কাচের চিমনির নীচের অংশ টিনের তৈরি তেলের ট্যাংক থাকত। যেখানে কেরোসিন তেল ঢালা হতো। মাঝখানে থাকতো ফিতে, গ্রাম বাংলায় বলা হতো পলতে বা শৈলতে। যার এক চতুর্থাংশ ট্যাংকের তেলে মধ্যে চুবানো থাকতো। আর বাকি অংশ থাকতো উপরে কাচের মধ্যে। গেসলাইট কিংবা আগুন দিয়ে জ্বাললেই জ্বলেই আলো ছড়াত। ট্যাংকারের পাশে থাকা রেগুলেটর দিয়ে আলো বাড়ানো কমানো হতো।
গ্রামের ইতিহাসে অন্ধকার রাতে হারিকেনের মিটি মিটি আলো জ্বালিয়ে পথ চলার স্মৃতি কার না মনে পড়ে। এপাড়া থেকে ওপাড়া যেতে. হাটে বাজারে, পথ চলায় কিংবা তৎকালে প্রাণের স্বামী হাট-বাজার থেকে ফিরতে রাত হলে স্ত্রী হারিকেন হতে পথ পানে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকত।
চলচ্চিত্রের প্রথম আমলের ছবিগুলোর দিকে এক নজর তাকালে বোঝা যায় যেখানে সিনেমার নায়িকা তার ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজতে অন্ধকার রাতে হারিকেন নিয়ে বের হতো।
দেশ পরিচালনার দায়িত্বে উচ্চ পর্যায়ে ছিলেন কিংবা আছেন যারা তাদের অনেকেই এই হারিকেন কিংবা কুপির মৃদু আলোর সাহায্যে লেখা পড়া করেছেন। ব্যবসা ও গৃহস্থালির কাজেও হারিকেনের ব্যাপক চাহিদা ছিল। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ‘ডাক হরকরা’ গল্পের নায়ক তার এক হাতে হারিকেন আর অন্য হাতে বল্লভ নিয়ে রাতের আধারে ছুটে চলে তার কর্ম পালনে। একসময় ডাক পিয়নরা চিঠির বোঝা পিঠে করে হাতে হারিকেন নিয়ে গ্রামের পর গ্রাম ছুটে চলতো।
উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এখন হারিকেন যেমন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর তেমনি বিদ্যুৎ নেই এমন গ্রামও হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে হারিকেনের জায়গা দখল করে নিয়েছে সৌর বিদ্যুতের আলো বা চার্জার লাইট। গ্রামাঞ্চলে এখনও দু-এক বাড়িতে হারিকেন পাওয়া গেলেও দেখা যায় ব্যবহার না করায় সেগুলোতে ময়লা ও মরিচা পড়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা জোড়খালী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম রসুল মিয়াজী বলেন, ছোটবেলায় আমরা ল্যাম্প কিংবা হারিকেনের মৃদু আলোয় লেখাপড়া করেছি। বাতাসের ঝাপটায় কখনও কখনও আলো নিভে গেছে। আবার দিয়াশলাই অথবা চুলার আগুনে পাটকাঠি দিয়ে আলো জ্বালিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, হারিকেনের আলো মৃদু হলেও সেই সময় শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের চোখের তেমন সমস্যা হতো না। কিন্তু আজ বিদ্যুতের আলোর ঝলকানিতে শিশু ও প্রবীণদের চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি। নতুন প্রজন্ম হয়তো হারিকেন সম্পর্কে জানবে না, পড়তে হবে ইতিহাস। হয়তো এক সময় হারিকেনেরে দেখা মিলবে বাংলার জাদুঘরে।


এই বিভাগের আরও খবর