শিরোনাম:
মতলবে খামার শ্রমিক হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চরকুমিরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে খতমে শেফা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে গুপ্টিতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মারধরে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ওব্যাট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার বিতরণ চাঁদপুর পৌর এলাকায় স্কাউট সদস্যদের সাথে ইফতার ও রোড ডিউটি পরিদর্শন যানজট নিরসনে মাঠে ফরিদগঞ্জ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মতলব-ঢাকা রুটের বাসগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাপণ্য প্রদর্শনে সফল, বিক্রিতে হতাশ ব্যবসায়ীরা ; ফের ঢাকা বাইপাসে যানজট ভোগান্তি 

reporter / ৩১৫ ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৩

মাহবুব আলম প্রিয়ঃ
 ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৭ তম আসরের পূর্বাচলে ২য় আসরের  ১৯ তম দিনেও বিক্রিতে খুশি নয় ব্যবসায়ীরা। পন্য মুল্যে ছাড় দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন কম। তবে বাড়তে শুরু করেছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা। বরাবরের মতোই প্রায় সব পন্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ ছিলো বেশি। যদিও দেশীয় ও নিত্য পন্যের দিকে অফার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রেতারা। তবে যাতায়াত ভোগান্তি ছিলো ঢাকা বাইপাস সড়কে।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ফার্নিচারের দোকানে ভীর থাকলেও বিক্রি নেই খুব একটা। মেলায় থাকা পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার বলেন, আমাদের মেলার স্টল নেয়ার উদ্দেশ্য হলো প্রচার। বিক্রিকে প্রাধান্য দেয়া হয়না। যা হয় তাতেই সন্তুষ্ট।  তবে মেলা থেকে দেশী ও বিদেশী তৈরী আদেশ পাওয়া যায়। যা ব্যবসায়ীক উন্নতিতে ভুমিকা রাখে।
মেলার ঘুরতে মুড়াপাড়ার বাসিন্দা জান্নাতি আক্তার ঝিম বলেন,বিদেশী পন্যের প্রায় সবকটা স্টলে  অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছে। যা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তাই শুধুমাত্র কিছু গৃহস্থালি পন্য ক্রয় করে চলে আসছি।
১৯  জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকালে স্টল ঘুরে দেখা যায়  ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভীর। ফার্নিচার দোকানে ও  প্যাভিলিয়নে ভীর থাকলেও বিক্রি করতে দেখা যায়নি।  সাধারণ ক্রেতাদের আকর্ষণে থাকা ১৬ পরীর খাট হলেও তার দাম শুনে সটকে পড়ছেন তারা। এদিকে খাটটিতে পরী নামের  মূর্তি থাকায় মুসলিম ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়েও হিমসিম খাচ্ছে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যারা। গত ১৯ দিনে মেলা থেকে ২৫ জন পকেটমার ও ছিনতাইকারীকে আইনের আঁওতায় নেয়া হয়েছে বলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, মেলার পাশে ঢাকা বাইপাস সড়কের অবস্থান। আর এ সড়কের ৮ লেনে উন্নয়ন কাজ চলমান। ফলে মেলায় প্রবেশে যানজট ভোগান্তি রয়েছে। তবে নিরাপত্তার জন্য ৩ শতাধিক সিসি ক্যামেরা আর ৭ শতাধিক পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে শিশুদের খেলনা আর শিশুপার্কে ভীর দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি। পাঁচাইখা এলাকার বাসিন্দা গৃহীনি ফারজানা আক্তার হাসনা বলেন, মেলায় সব পন্যের দাম বেশি রাখা হচ্ছে।   তবে শিশুরা খেলাধুলার জন্য একটি মিনি পার্ক পেয়েছে। যা ভালো লেগেছে।
মেলা ঘুরতে আসা জাঙ্গীরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন,  মেলার নামী দামী কোম্পানির পন্য বিক্রি হচ্ছে কম। তাদের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। তবে মেলায় থাকা কমদামের পন্য বিক্রি হচ্ছে বেশি।  তবে মানের আর দামের দিক থেকে পার্থক্য আছে।
  মেলা প্রাঙ্গণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মনিটরিং ছিলো দেখার৷ মতো।  সাধারণ ক্রেতা‌দের অভিযোগের  ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার ক্ষুন্ন হয় এমন অপরাধে দন্ড দেয়া হচ্ছে।  মেলায় প্রতিদিন অভিযোগ প্রমাণিত হলে নানা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করেছে অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রচার) আতিয়া সুলতানা বলেন, বাণিজ্য মেলা চলাকালে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিদিন মেলায় প্রতিষ্ঠানগুলো  মনিটরিং করছি।জনস্বার্থে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মেলার পরিচালক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচীব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার প্রচুর দর্শনার্থী হচ্ছে।  তবে ঢাকা বাইপাস সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য যাতায়াতে কিছুটা কষ্ট হলেও মেলা ঘুরতে পারায় লোকজন সন্তুষ্ট।
সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সাল থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তার জন্য এ মেলার আয়োজন করা হয়। আগে বাণিজ্য মেলা শেরে বাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হতো। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রাঙ্গণ মেলার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
মেলায় কথা হয়,  হোমটেক্সের ব্যবস্থাপক মাহফুজ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, মেলার দর্শনার্থী প্রচুর কিন্তু  বিক্রি কম। যা বিক্রি হচ্ছে তাতে মাস শেষে লোকসানের আশংকা রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, মানুষ অর্থনেতিক সংকট ও ব্যয় সংকোচন করতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেশি কিনছেন। বিলাসবহুল বা কম প্রয়োজনীয় পণ্য অধিকাংশই কিনছেন না। আর বিদেশী পন্যের দাম বেশি হাঁকায় ক্রেতারা শুধু দেখছেন কিন্তু কিনছেন না।
মেলায় নিত্য পন্যের  কাপড়ের দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য, ক্রোকারিজ, খাবার, আসবাবপত্র, ইমিটেশনের দোকান, কসমেটিকসের দোকানের পন্যগুলো আমাদের কাজে লাগে বেশি৷ তাই এসব দোকানের সাধ্যের মধ্যের কিছু পন্য ক্রয় করেছি।
সূত্র জানায়, এবারের মেলায় মোট স্টল ৫০৬টি। এর মধ্যে ১২ দেশের ৩১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য নিয়ে এসেছে। পাকিস্তান, ভারত, চীন, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কোর স্টল রয়েছে মেলায়। বিদেশি স্টলগুলোয় নানা রকম ছোটখাটো পণ্য ভালোই বিক্রি হচ্ছে।
 সূত্রমতে, মেলায় প্যাভেলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভেলিয়ন, মিনি প্যাভেলিয়ন, সাধারণ স্টলে বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধক সামগ্রী, ইলেকট্রনিকস পণ্য, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা, খেলার সামগ্রী, খেলনা, স্টেশনারি, জুয়েলারি, সিরামিকস পণ্য, মেলামাইন পণ্য, দেশি বস্ত্র, আসবাবপত্র, হস্তজাতসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর