মাহবুব আলম প্রিয়ঃ
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৭তম আসর জমে ওঠেছে। শীতের তীব্রতা রোধে এবার গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। সকাল থেকে দুপুরে খুব একটা দর্শনার্থী না হলেও দিনে শেষে সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে দর্শনার্থীরা সংখ্যা। এতে বেড়েছে বেচা কেনা। তবে দাম নিয়ে আগের মতই অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের। এদিকে প্রতিদিন কাঞ্চন ব্রিজের টোল ঘরে টোল আদায়ে ধীর গতি থাকায় যানজট সমস্যা লেগে থাকে সড়কে। অন্যদিকে মেলায় থাকা শিশুপার্কে শিশু ও অভিভাবকদের ভীর ছিলো লক্ষণীয়।বেশির ভাগ দর্শনার্থীরা অপেক্ষা করছেন শেষের দিকে ছাড় পেয়ে পন্য ক্রয়ের।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ১৮ জানুয়ায়ী বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তেমন দর্শণার্থীর প্রবেশ নেই। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রধান ফটক দিয়ে দলবেধে প্রবেশ করে সাধারন দর্শনার্থী। এদিন মেলার ভেতরে
থাকা শীতের কাপড়ের দোকানে ভীর দেখার পাশাপাশি বিক্রির চিত্র পাওয়া গেছে বেশি। বেশির ভাগ লোকজনই কাশমিরি শাল, দেশীয় শীতের কাপড় ক্রয় করছেন। এবার কিছু স্টলে ২টি কিনলে ১টি ফ্রি কিংবা কোন স্টলে ৩টি কিনলে ১টি ফ্রি ঘোষণা করায় সেসব স্টলে আগ্রহী ক্রেতাদের ভীর ছিলো লক্ষণীয়। তবে মেলার অভ্যন্তরীণ খাবারের দাম ও মান নিয়ে ক্রেতাদের বাক বিতন্ডা করতেও দেখা গেছে। মেলায় ঘুরতে আসা মুশুরী এলাকার বাসিন্দা রওনাক হাসান আশিক বলেন, এবার স্থানীয় লোকজন ছাড়াও আশপাশের জেলার লোকজন মেলায় বেশি এসেছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায়। এতোদিন শীতের কারনে দূর জেলার লোকজন কিছুটা কম আসছে। অনেকেই স্থায়ী প্যাভিলিয়নের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা দেখে সেলফী তুলের নিজেদের উপস্থিতি শেয়ার করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মেলায় যেন উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মেলায় আসার একমাত্র সড়ক শীতলক্ষ্যার পশ্চিম পাড়ের ডেমরা কালীগঞ্জ সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তির শেষ নেই। আবার মেলার যাওয়ার পথে রূপগঞ্জের মুশুরী থেকে ভক্তবাড়ি পর্যন্ত বেহাল সড়কেও ভোগান্তি রয়েছে। এতো ভোগান্তি পেরিয়ে মেলায় এসেও আশানুরুপ দামে কোন মালামাল পাচ্ছি না। ফলে ২টি কাশমিরি শাল ক্রয় করেই চলে যাচ্ছি।
গুতিয়াবো এলাকার বাসিন্দা নারগিস আক্তার বলেন, মেলার এবার শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সীদের জন্য ভালো মানের স্কুল ব্যাগ, উপযুক্ত শীতের পোষাক ওঠেছে। দাম বেশি চাইলেও বাড়ির পাশে ক্রয় করে রাখলাম। তবে অফার পেয়ে অনেকেই বেশি বেশি কিনে রাখছেন।
এদিকে মেলা ঘুরে দেখা যায়, মাসব্যাপী মেলায় শীতের কাপড় ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানীর পন্য সাজানো হয়েছে বিশেষভাবে। শীত ফের বাড়তে শুরু করায় আবারও শীতের কাপড়ের দিকে ঝুঁকছে । মেলায় স্থানীয় তাঁতীদের তৈরী জামদানী, শীতের চাদর,দেশীয় বস্ত্র রয়েছে পর্যাপ্ত। অন্যদিকে মেশিনারিজ, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ-সামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিজাত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
কাঞ্চনের কেন্দুয়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, মেলায় শেষ সময়ের দিকে প্রায় সব ব্যবসায়ীরা ছাড় দেয় । আর কিছু কিছু ক্রেতা সেদিনের জন্য অপেক্ষায় থাকে। ফলে মেলার ব্যবসায়ীরাও শেষ ১০দিনের বিক্রির আশায় থাকেন।