শিরোনাম:
মতলবে খামার শ্রমিক হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চরকুমিরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে খতমে শেফা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে গুপ্টিতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মারধরে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ওব্যাট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার বিতরণ চাঁদপুর পৌর এলাকায় স্কাউট সদস্যদের সাথে ইফতার ও রোড ডিউটি পরিদর্শন যানজট নিরসনে মাঠে ফরিদগঞ্জ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মতলব-ঢাকা রুটের বাসগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

চাঁদপুরে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ‘টর্চার সেল’! 

reporter / ২৬৭ ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৩

 
অর্পণ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রোগী নির্যাতনের অভিযোগ 
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁদপুর শহরের খলিশাডুলি এলাকায় অবস্থিত  অর্পণ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগী কে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদক নিরাময় কেন্দ্রেটিকে একধরনের  টর্সার সেলে পরিনত করেছেন পরিচালক মিতাতের নেতৃত্বে কয়একজন কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে 
নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী তরুন সরকার  জানান, আমাকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে তারা, আমি আমার পরিবারের কাছে ঔষধ চাওয়ায় কারনে আমাকের শারিরীক নির্যাতন শুরু করেন। এছাড়াও শাহরাস্তি উপজেলার সুচিপাড়ারা এলাকার শরিফ মিজি নামের একজন রোগীকেও ব্যাপক  নির্যাতনের কথা জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানাযায় অর্পণ  মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে  নেই পর্যন্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা কর্মী। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণও নেই। ন্যূনতম মান বজায় রেখে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার নামে চলছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নজরদারির অভাবে  কেন্দ্র হয়ে উঠেছে রোগীদের জন্য”টর্চার সেল” এমন একটি টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে চাঁদপুর শহরের মঠখোলা  এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, “অর্পন মাদকাসক্ত  নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র” নামে বিশেষায়িত এই চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রায়ই ভেসে আসে রোগীর কান্নার আওয়াজ। কখনো কখনো রাতে গগণবিদারী কান্নায় ঘুম ভেঙে যায় তাদের। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিরাময় কেন্দ্রটিতে প্রতিদিনই রোগীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করে থাকে। ভিতরে চিকিৎসাসেবা দানের আড়ালে যে আলাদা টর্চার সেল রয়েছে যে তা তাদের অজানা ছিল। ১২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে   ওই নিরাময় কেন্দ্রে থাকা তরুন সরকার নামক একজন রোগী   অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনই তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি বলেন, মারধর করা, ঘুষি দেওয়া এবং শাস্তি হিসেবে না খাইয়ে রাখা হয়। কখনো রাতের বেলা দাঁড় করিয়ে রাখে। খাবারের কোনো নিয়ম নেই। পঁচাবাসি খাবার জোর করে খাওয়ানো হয়। শুধু কথায় কথায় মারধর আর ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোই এখানকার চিকিৎসা। তিনি আরও বলেন, আসক্তির কারণে অস্থির হয়ে উঠলে কর্মীরা আমাকে লাঠি দিয়ে পেটান। গোপনাঙ্গে মেরে জখম করে দেন। কিল ঘুষি তো আছেই। মাঝে মাঝে এই অমানবিক আচরণ সহ্য করতে আমার মতো অনেকেই গলা ছেড়ে চিৎকার করি। কেউ আমাদেরকে বাঁচাতে আসে না। সবাই মনে করে এখানে চিকিৎসা হচ্ছে।
 কেন্দ্রের ইনচার্জ মিতাত তাদেরকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প  দিয়ে পায়ের ও ঘাড়ের মধ্যে চেপে ধরে মারধর করে। আমার হাত আঘাত করলে আমার ডান হাত গুরতর আঘাত প্রাপ্ত হই। এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তার না দেখানোর কারনে আমরা হাত এখন প্রায় অকেজো আমি এখন কাজ  করতে পারছি না।
অভিযোগের বিষয়ে অর্পণ মাদকাসক্তির পরিচালক মিতাত হোসেন মুঠোফোনে  বলেন এ ধরনের অভিযোগ উদ্দেশ্য মুলক। আমরা কাউকেই নির্যাতন করিনা।
এ ব্যাপারে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন জানান মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে কোন রোগী কে নির্যাতন করার সুযোগ নাই, অর্পন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রটি এখনো অনুমতি পায়নি তাদের বিরুদ্ধে যদি এধরণের লিখিত  অভিযোগ কোন রোগীর পরিবার করে থাকে তাহলে উক্ত অভিযোগ টি আমাদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, এবং  তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর