কমান্ডার শহীদ গাজী কর্তৃক উদ্ধার, মডেল থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ
শওকত আলী,চাঁদপুর:
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেদমভাবে পিটনী সহৃকরতে নাপেরে পালিয়ে আসা
মাদ্রাসার ২শিক্ষার্থী মো: আবদুল্লাহ (১৩) ও তানভিড় হাসান(১২) কে
চাঁদপুর শহর কমিউনিটি পুলিশ অঞ্চল-৪, কমান্ডার শহীদ গাজী সু-
কৌশলে তাদের পালিয়ে আসার বিষয়টি বুঝতে পেরে উদ্ধার করে চাঁদপুর
মডেল থানা পুলিশের নিকট পৌছে দেন এবং তাদের অভিভাবক ও মাদ্রাসা
শিক্ষকের নিকট তাদেরকে পৌছে দেওয়ার জন্য মডেল থানা ডিউটি
অফিসার কবির হোসেনকে অনুরোধ করেন। কমান্ডার শহীদ গাজী এ
মানবিক ও মহৎ কাজটি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন
এ ঘটনাটি ঘটেছে,গতকাল সোমবার(৮মে) দিনগত রাত অনুমান
আড়াইটার সময় শহরের রেলওয়ে কোর্টস্টেশন এলাকার ফ্লাটফরমে।
পরে তাদেরকে ঐদিন ভোর রাত পৌনে ৪টায় চাঁদপুর মডেল থানার
অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের নিদ্দের্শে থানার উপ-
পরিদর্শক মো: রাকিব তার সাথে থাকা পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় ২
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে উদ্বার করে চাঁদপুর মডেল থানা হেফাজতে নিয়ে
যান।
জানা যায়,চাঁদপুর সদর উপজেলার গাছতলা এলাকার জমিয়া উলুম
আলিমুল মাদ্রাসার হেফজ্ধসঢ়; বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহ গতকাল (৮মে)
সোমবার রাতে মাদ্রাসার রাতের খাবার শেষ করে সে মাদ্রাসার শিক্ষকদের
না’বলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে কোর্টস্টেশন এলাকায় এসে অবস্থান
নেয়, অজানার উদ্দের্শে পাড়ি দেওয়ার জন্য।
তার পিতার নাম মোস্তফা বন্দুকসী,বাড়ি উত্তর ইচলী এলাকার বন্দুকসী
বাড়ি। তার ৩ ভাই ও ২ বোন রয়েছে। সে ভাইদের মধ্যে বড়। তার বাবা
সিএনজি চালিত অটোরিকসা চালায়। আবদুল্লাহ্ধসঢ়; গত প্রায় ২ বছর
যাবত এ মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে যাচ্ছে। সে এখন হেফজ্ধসঢ়; বিভাগ থেকে
১৫পাড়া কোরআন শরীফ শেষ করেছে।
সে জানায় মাদ্রাসায় শিক্ষকরা তাকে বেদম ভাবে পিটায়। সে শিক্ষককের
পিঠুনি সইতে নাপেরে মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছে। সে আর এ
মাদ্রাসায় পড়বেনা। তাই সে অন্য মাদ্রাসায় পড়ার জন্য পালিয়েছে।
অপরদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর তরপুরচন্ডী কাঠের পুল জিটি রোড
এলাকার কাজী আলি হোসেন কমপ্লেক্র নামক মাদ্রাসার ছাত্র তানভির
হাসান(১২) গতকাল সোমবার বিকেলে আছর নামাজ শেষ করে মাদ্রাসার
শিক্ষকদের না’বলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আসে। তার বাবার নাম মো:
শাহআলম গাজী,বাড়ি লাকসাম এলাকার উত্তর দাসদী দশআনী দীর্ঘির
পাড় গাজী বাড়ি।
তার ২ভাই ও ২ বোন রয়েছে। সে সবাইর ছোট। বাবা কৃষি কাজ করে।
সে এ মাদ্রাসায় গত প্রায় ৩ বছর যাবত পড়াশুনা করছে। সে বর্তমানে
এ মাদ্রাসার হেফজ্ধসঢ়; বিভাগের অধ্যায়নরত আছে। সে কোরআন শরীফ ২৩
পাড়া শেষ করেছে। সে জানান,মাদাসার শিক্ষকরা পড়াশুনার জন্য বেদমভাবে
কারেন্টের তার দিয়ে পিটায়। যা’সে সহৃকরতে পারেনা। এ ছাড়া কলমের
মাথা দিয়েও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘাই মারে বলেও জানান।
তানভির হাসান জানান,সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে এসে শহরের
বিভিন্ন স্থানে ঘুরা ফেরা শেষে শহরের রেলওয়ে কোর্টস্টেশন এলাকায়
এসে অবস্থান নেয়। সেখানে এসে সে আবদুল্লাহ নামক অপর এক
মাদ্রাসা পালানো শিক্ষার্থীকে পেয়ে তারা ২জনে সেখানে বসে তারা
অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা করছিল। সে সময় চাঁদপুর শহর
কমিউনিটি পুলিশ অঞ্চল-৪, কমান্ডার শহীদ গাজী সু-কৌশলে তাদের
পালিয়ে আসার বিষয়টি আছ করতে পেরে তাদেরকে রক্ষাকল্পে এগিয়ে
এসে তাদের সাথে কথা বলে তাদেরকে নিজ অর্থে নাস্তা খাবান। এ পর
একজন সংবাদ কর্মীর সহায়তায় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের কাছে
পৌছে দিয়ে এক মানবিক ও মহৎ কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।