মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জঃ
২৮ ডিসেম্বর ঢাকা শহরের নাগরিকদের জন্য যাতায়াত
সুবিধায় উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম মেট্টোরেল যাত্রার। মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী এ উন্নয়নের মাইল ফলকে পৌঁছে দিলেন নতুন
মাত্রায়। আর তাই এবারের ২৭ তম আসরের কিন্তু পূর্বাচল নতুন
শহরের বাণিজ্য মেলার স্থায়ী প্যাভিলিয়নের প্রবেশ ফটক তৈরী
হয়েছে মেট্টোরেলের আদলে। গতবারে পদ্মা সেতুর আদলে তৈরী
ফটকের এবার স্থান পেলো মেট্টোরেল প্রকল্পের রেল সম্বলিত নকশায়
দৃষ্টি নন্দন কারুকাজে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী পহেলা
জানুয়ারী দেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বশরীরে
উপস্থিত হয়ে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। যদিও গত ২৬ তম আসর
করোনা পরিস্থিতির কারনে ভার্চ্যুয়াল উদ্বোধন করেছিলেন
তিনি। এবার আয়োজনেও আসছে নতুন মাত্রা। এমনটাই
জানালেন মেলার পরিচালক রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর সচীব ইফতেখার
আহমেদ চৌধূরী।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার
রাজউকের অধীনে নির্মাণাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের
৪নং সেক্টর এলাকায় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশীপ
এক্সিভিশন নামীয় স্থায়ী প্যাভিলিয়নে চলছে স্টল নির্মাণ ও সাজ
সজ্জার কাজ। মেলার প্রধান ফটকের প্রবেশ ও বাহির পথের উপরাংশে
রাখা হয়েছে মেট্টোরেলের সড়ক ও রেল নকশা। আর এর ভেতরেই
প্রবেশ করতে দেখা যায়, বিভিন্ন কোম্পানী তাদের স্টল বুঝে
পেয়ে ইতোমধ্যে তাদের স্টল দাড় করিয়েছেন। এখন করছেন রংসহ
সাজসজ্জার কাজ। সংশ্লিষ্ট স্টল পাওয়া ব্যবসায়ীদের দাবী, গতবারের
চেয়ে এবার মেলায় বাড়বে দর্শনার্থী। কেনাকাটাও হবে আগের
তুলনায় দ্বিগুন। এবার তাদের প্রত্যাশার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি
হওয়ার আশা করছেন তারা।
সূত্রমতে, বৈশি^ক মহামারি করোনা পরিস্থিতির পর এবার ২য়
বারের মতো বাংলাদেশ রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মেলাকে
প্রাণবন্ত করতে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। এবার ৩২৫টি স্টলসহ
শিশুদের জন্য বিনোদন, খাবারের মানে রাখা হয়েছে বিশেষ
নজরদারীর আয়োজন, যাতায়াত ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন হয়েছে। ফলে
এ মেলাকে ঘিরে তৈরী হতে যাচ্ছে উৎসব মূখর পরিবেশ।
ইতোমধ্যে ঝলমল আলোয় আর ডিজিটাল সাজসজ্জায় সেজেছে
বানিজ্য মেলার বেশ কিছু স্টল। ১ লা জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করার পরই বাড়বে কেনাকাটা। তাই
আগে ভাগেই স্টলগুলো প্রস্তুত হতে যাচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বরের
আগেই সব সাজসজ্জা শেষ হবে বলে দাবী করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মেলা ও এর আশপাশের
নিরাপত্তায় মেলার নিয়োজিত বিপুল পরিমাণ পুলিশ, র্যাবসহ
সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহীনি নিয়েছে নানা পদক্ষেপ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্য ছাড়াও ঢাকা, নরসিংদী,
গাজীপুর জেলা পুলিশরাও কাজ করবেন নিরাপত্তার দায়িত্বে।
রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন,
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
মেলায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা আগত দর্শনার্থীদের
সার্বিক নিরাপত্তা বিষয় দেখভাল করবেন। সাদা পোষাকেও বিশেষ
টীম নিরাপত্তায় কাজ শুরু করেছেন। ফলে নিরাপদ পরিবেশে এ মেলা
পুরোপুরি জমে ওঠবে।
আবার পূর্বাচল নতুন শহর ও আশপাশের সাধারণ মানুষের কাছে
একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তারাও পরিবার পরিজন
নিয়ে বেড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে আশপাশের
বাসিন্দাদের অস্থায়ী ঘর বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন ব্যবসায়ী ও তাদের
কর্মচারীদের থাকার জন্য। পূর্বাচলের আব্দুর রউফ মালুম বলেন,
আমাদের বাড়ির পাশে মেলা, তাই খুব আনন্দ লাগছে। প্রথম বছর
হওয়ায় হয়তো প্রস্তুত গতে সময় নিচ্ছে। আশাকরি অতীতের সব
রেকর্ড ছাড়িয়ে জমজমাট হবে এ আসর।
জাঙ্গীরের বাসিন্দা এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন রাজিব
বলেন, মেলা প্রাঙ্গণ প্রস্তুত হচ্ছে। স্টল সাজাচ্ছেন,ক্রেতা
বিক্রেতাদের ব্যস্ততা দেখছি। এটা যেমন আনন্দের। তেমনি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে আসবেন তা সবচেয়ে বেশি
আনন্দের। ইতোমধ্যে স্টলগুলোর ৯০ভাগ প্রস্তুত হয়ে গেছে।
ইবিপির দেওয়া তথ্যমতে, এবারের বানিজ্য মেলায় এবার মোট
৩২৫ টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্কয়ার ফুট হিসেবে
একেক দোকানের মূল্য একেক রকম ধরা হয়েছে। এবারের বানিজ্য
মেলায় আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত
এক্সিবিশন সেন্টারের নিজস্ব জায়গায় (প্রায় ১,৫৫,০০০
বর্গফুট) আয়তনের ২টি হলে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন
ক্যাটাগরীর দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এবছর দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ভারত, থাইল্যান্ড, তুরস্কসহ ১১টি
বিদেশী প্রতিষ্ঠানের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় আসা
দর্শনার্থীদের সুবিধার লক্ষ্যে কুড়িল বিশ^ রোড থেকে মেলা
প্রাঙ্গণে আসার জন্য বিআরটিসির ৬৫টি বাস বরাদ্দ দেয়া
হয়েছে। শারিরিক প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রবেশ ফ্রি
করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ২৬০টি সিসি ক্যামেরা
বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মেলা প্রাঙ্গণ ও তার আশেপাশে
৭শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এ ব্যাপারে ইপিবির সচিব ও বানিজ্য মেলার পরিচালক ইখতেখার
আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিবছরই মেলা শুরুর দুই তিনদিন পর
স্টল নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এখানে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক
বানিজ্যমেলার আসর বসেছে। তাও আমরা চেষ্টা করছি
বানিজ্যমেলাকে যথাসাধ্য সাজাতে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর
উপস্থিতি নিয়ে আমাদের সব বিভাগ বিশেষ ব্যস্ত সময় পার
করছি। ইতোমধ্যে মেলার সার্বিক দায়িত্বরতদের নিয়ে সভা করে
সব পরিকল্পণা নির্ধারন করা হয়েছে। আশা করি এবার মেলা অন্য
যে কোন বছরের তুলনায় সুন্দর ও স্বার্থক হবে।