শিরোনাম:
ফরিদগঞ্জে এতিম ভাতিজী’র সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অভিযোগ আপন জেঠার বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে তালাক দিতে সাজানো মামলা শ্বশুরের! ফরিদগঞ্জে ভয়াবহ অ**গ্নী***কাণ্ডে ১১টি পরিবারের বসতঘর পু**ড়ে ছাই মতলবে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক বহিষ্কার মতলবে খামার শ্রমিক হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চরকুমিরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে খতমে শেফা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে গুপ্টিতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মারধরে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ওব্যাট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার বিতরণ

কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ভাবনা

reporter / ৪১৪ ভিউ
আপডেট : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২

মাহবুব আলম প্রিয়ঃ
কন্যা বা কন্যা শিশু ঘরে থাকলেই  দুশ্চিন্তা আর ঘরের বাইরেও একই অবস্থার মধ্যদিয়ে যায় পরিবারের কর্তাদের। কারন,  বয়ঃসন্ধিকালে প্রায় ৬০ শতাংশ মেয়েশিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। কেউ ঘরের বাইরে কিংবা ঘরের ভেতরে।   জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের  এক গবেষণায় এমন উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন।  জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামে মাঠ জরিপে অংশ নেয়া শতভাগ নারীই মনে করেন, পাবলিক পরিসরে ও অফিস-আদালতে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির বিচারে পৃথক আইন প্রণয়ন আবশ্যক। বয়ঃসন্ধিকালে অনাকাঙ্খিত যৌন সংস্পর্শের কারণে মেয়েশিশুদের পরবর্তী যৌন জীবন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে ট্রমার মধ্য দিয়ে বয়ঃসন্ধিকালে প্রায় মেয়েশিশু বড় হয়, সেখানে আচরণে স্বাভাবিকত্ব লোপ পাওয়ার শঙ্কা থাকে।
জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম সম্প্রতি ১২ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩৯২ জন নারীর ওপর জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে অংশ নেয়া ৩৯২ নারীর মতামতের ভিত্তিতে জরিপে দেখানো হয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ নারী ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যেই পাবলিক প্লেসে জীবনে প্রথমবারের মতো যৌন হয়রানির শিকার হয়। ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ নারী ছয় বছর বয়সের আগেই এবং ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ নারী ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে জীবনে প্রথমবারের মতো যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বা হচ্ছেন।
অল্প বয়সেই এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা তাদের পরবর্তী যৌন জীবনে অস্বাভাবিক প্রভাব ফেলে।
 সূত্রমতে, বাজার, ডাক্তারের চেম্বার, ধর্মীয় উপাসনালয় যেখানেই যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো  ইঙ্গিতের মাধ্যমে ঘটেছে এমন নয়, শারীরিক স্পর্শের মধ্য দিয়েও গেছে।
 এমন  সব ঘটনার নারী ও পুরুষ নীরব, সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে থাকেন। সামাজিক হেয় হওয়ার আশঙ্কায়৷ তবে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে যারা সোচ্চার হয়েছেন, তারা নানাভাবে হয়রানির শিকারও হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সমন্বিত আইন প্রয়োজন। তাতে ‘নারীর চলাচল সহজ করতে হবে। নতুবা অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। নারীর বাইরের জগৎ নিরবচ্ছিন্ন করতেই হবে। নতুবা আমরা আর্থিক ও জাতিগতভাবে অনেক পিছিয়ে যাবো। একটা মেয়েশিশু এ সমাজে বড় হয়ে ওঠার পথে তার চারপাশে তার অগ্রজ নারীদের যেভাবে দেখেছে, সেটাকেই সে স্বাভাবিক হিসেবেই ভেবে নেয়। তাকে ছোটবেলা থেকে শেখানো প্রয়োজন, কোন আচরণগুলো নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে এবং ওই নির্যাতন প্রতিরোধে তার কী করা উচিত। এ ছাড়া কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় তা তাকে শেখাতে হবে। তবেই হ্রাস পাবে নারী তথা কন্যাশিশু নির্যাতন-নিপীড়ন।
কিভাবে বয়ঃসন্ধিকালে অনাকাক্সিক্ষত যৌন হয়রানি থেকে মেয়েশিশুকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কেউই কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ মেয়েশিশুদের দিচ্ছেন না। ফলে দিন দিন মেয়েশিশুদের মনে এ নিয়ে ভীতির সঞ্চার হচ্ছে। মেয়েশিশুদের অনাকাক্সিক্ষত যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে হলে প্রথমে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছেলে ও মেয়েশিশুদের শেখাতে হবে পরস্পরের সাথে কোন আচরণগুলো একেবারেই করা যাবে না। কোন আচরণগুলো ছেলে ও মেয়েশিশুদের ভবিষ্যৎ বিনষ্ট করবে এবং কোন আচরণগুলো নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। মেয়েশিশুরা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে নিজেদের কিভাবে রক্ষা করবে বা আত্মরক্ষার কৌশল, দক্ষতা ও প্রতিকারের পদ্ধতি সম্পর্কে বাল্যকালেই শিক্ষা দিতে হবে। বাল্যকালেই শিক্ষা দিতে হবে ছেলে ও মেয়েদের সম মর্যাদা ও অধিকারের পুরো বিষয়গুলো। একটি মেয়েশিশু যেন কোনো অবস্থায়ই অন্যের দ্বারা ঘটানো কোনো নির্যাতনকে মেনে নিয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখার কৌশল অবলম্বন না করে, সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রারম্ভেই প্রতিটি ছেলে ও মেয়েকে তার প্রতিটি আচরণ যেন দায়িত্বশীল হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে এবং প্রতিটি শিশুকে আচরণের তারতম্যের কারণে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই মানসিকতাসম্পন্ন শিশুকে গড়ে তুলতে প্রথমেই শিশুদের নিজের পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।
বাস্তবতা হলো এমন, আজকাল পত্রিকার পাতায় দেখা যায়, কন্যাদের যৌন হয়রানীর হায়েনার খাতায় নাম দিয়েছে বৃদ্ধরাও।
নারায়ণগঞ্জের
 রূপগঞ্জে ৬০ বছরের বৃদ্ধ বাবুলকে ৪ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। ১৮ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব খালপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় সে।  অভিযুক্ত বাবুল মিয়া (৬০)  বিরাব খালপাড় এলাকার বাসিন্দা । এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কন্যা শিশুর  বাবা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বৃদ্ধ
বাবুল  খেলার ছলে মেয়েটিকে যৌন হয়রানি করার চেষ্টা করে।
সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, উকিল বাবা, চাচা, মামা,  খালুর মতো পবিত্র সম্পর্কের লোকেদের হাতে নারীদের, কন্যা শিশুদের যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়।এমনকী সৎ বাবাও ছাড় দেয় না মেয়েকে। আবার যেখানে মানুষ হওয়ার জন্য মেয়েদের ভর্তি করানো হয়, সেখানকার কতিপয়  শিক্ষকদের হাতে একই পরিণতি ভোগ করতে দেখা যায় আমাদের কন্যাদের। এমন অপকর্মের তালিকায় মসজিদের ইমামও ও বাদ নেই। তাহলে সংকট কোথায়?
সূত্রমতে,   নারীদের বিকাশের যে কয়েকটি স্তর আছে, তার মধ্যে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়কালে প্রতিটি মেয়েশিশু বিভিন্ন দিক থেকে পরিণত হতে শুরু করে এবং দ্রুত বিকাশ ঘটে। এই সময় হরমোনজনিত নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে মেয়েশিশুকে পরিবেশ ও প্রতিবেশের সাথে সমন্বয় সাধন করা শিখতে হয়। সে সময় যদি কোনো মেয়েশিশু যৌন সংস্পর্শের শিকার হয় বা যৌন হয়রানির মতো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়, তবে তার বাকি জীবনে সে আর ইতিবাচকভাবে ভাবতে শিখবে না বা শিখতে পারবে না। যার কারণে আমরা আর্থিকভাবে ও জাতিগতভাবে অনেক পিছিয়ে পড়ব। তাই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে সবাইকে। অভিভাবকদের বাড়তি সচেতনতা পারবে আমাদের কন্যাদের নিরাপদ পরিবেশ গড়ে দিতে। যদি কন্যাদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া যায়৷ পরিবারে অনেক সময় এমনও দেখা যায়, কেউ ছোট শিশুদের গাল ধরে, চুমু খেয়ে আদর করে কোলে নেয়। এসব আদর কারী দূর সম্পর্কের হলে তাকেও নজরদারি করতে হবে অভিভাবকদের। পাশাপাশি নীতি নৈতিকতার চর্চা ও বাস্তবায়ন উভয়ের সংমিশ্রণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক- সাংবাদিক


এই বিভাগের আরও খবর