শিরোনাম:
হবিগঞ্জে ৪১৩তম রোভার স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্স সম্পন্ন শাহরাস্তিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ১৫ ভরণ-পোষণের দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে আফিয়া, স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া, নিম্নমানের খাবার ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন আইন ভাঙলেই ছাড় নয়: জুলাইয়ে চাঁদপুরে ট্রাফিক পুলিশের ১,২৮৫ মামলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ: পারিবারিক রাজনীতির বলির পাঁঠা, তবুও নীতিতে দৃঢ় মতলব উত্তরে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার চাঁদপুরে স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড পোর্টাল ওয়ার্কশপ ফরিদগঞ্জে চুরির আতঙ্ক: এক সপ্তাহে ২০টির বেশি ঘটনা, নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন চাঁদপুর ডিবির জালে বাঘ শাহজাহান

শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনে স্বাবলম্বী চাঁদপুরের কৃষকরা

reporter / ৪০২ ভিউ
আপডেট : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চাঁদপুর  জেলায় শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনে শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদন করে  স্বাবলম্বী হয়েছেন চাঁদপুরের বহুসংখ্যক  কৃষক চাঁদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সরজমিনে জেলার বিভিন্ন কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানায়ায়, এখন তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন । উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরী করে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। চারা উৎপাদনে কৃষকদের প্রাথমিকভাবে বীজতলা তৈরীর কাজে মনোযোগী হতে হয়। পরবর্তীতে বীজতলার পরিচর্চা করতে করতে বিভিন্ন জাতের সবজি চারা উৎপাদন করা হয়ে থাকে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিভিন্ন জাতের এসব চারা বিক্রি করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। চাঁদপুরের চারা উৎপাদনকারী কৃষকরা বলেন, প্রতি বছর আগস্টের মাঝামাঝি বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়। বীজ বোনা থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা বিক্রি করা হয়। প্রতি হাজার চারা ১হাজার  থেকে ১৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়। এক মৌসুমে এক একটি বীজতলায় ৪-৫ বার চারা উৎপাদন করা হয় । প্রতি মৌসুমে আড়াই থেকে তিন কোটি চারা উৎপাদন হয়ে থাকে। যা সাড়ে ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। এদিকে চাঁদপুর জেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সবজি চারা উৎপাদন চাঁদপুর  দেশের মধ্যে প্রসিদ্ধ। চাঁদপুর  জেলায় অন্তত ২শ’ জন কৃষক শীতকালীন লাউ, কুমড়া, মরিচ, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, ব্রোকলি, সিম, চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত।  এ দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী  গ্রামের সবজি চারা উৎপাদনকারী মোঃ বিল্লাল হোসেন বেপারী জানান, আগস্টের মধ্যভাগে ৬০ শতক জমিতে তিনি ফুলকপি, বাধাকপি চারা চাষ করেন । এতে তার ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। সে চারা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে।
এছারাও ফরিদগঞ্জ উপজেলার সোবান গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর মিজি জানান, আমি এ বছর প্রায় ৩ একর জমিতে শীতকালীন সবজি চারা চাষ করেছি, এটি একটি ব্যয়বহুল ব্যবসা এতে আমার প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আমি এই চারা চট্টগ্রাম খুলনা সহ আশেপাশের জেলাগুলোতে বিক্রি করি এতে আমার প্রচুর লাভ হয়। এতে আমি স্বাবলম্বী  হয়েছি,তবে এবার ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারনে কিছু চারা নষ্ট হয়েছে। তবে আশারাখি তা পুষিয়ে নিতে পারবো। এ ছারাও  হাজিগন্জ উপজেলা বলাখাল ও ১০ নং গন্ধবপুর ইউনিয়নে শীতকালিন শবজি চারা উৎপাদন হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে কৃষক উত্তম দেবনাথ জানান আমি ফুলকপি বাঁধা কপি চারা চাষ করেছি প্রায় ৩০ শতক জমির মধ্যে সেখানে আমার ব্যয় হয়েছে দইলাখ টাকা। বিক্রি হবে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।
বলাখালের কৃষক পরিতোষ রায় জানান, আমি প্রায় একশ শতক জমিতে বিভিন্ন রকমের শীতকালিন শবজি চারা চাষ করেছি তবে এবার ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে আমার সবগুলি চারা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে, আমি অনেক আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পরেছি।উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেছি ওনারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছে আমাকে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগী করা করবে। এ ব্যাপারে হাজিগন্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম বলেন হাজিগন্জ উপজেলাতে কিছু কিছু জায়গায় শীতকালীন সবজি চারা চাষ হয়ে থাকে এবং এটা খুব লাভজনক ব্যবসা এখানথেকে চাঁদপুর জেলার কৃষক গন চারা কিনেনিয়ে চাষাবাদ করে। আমরা আমাদের যখন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় তখন তাদের কে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।
চাঁদপুর  জেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন  বলেন, এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বেশিরভাগ বিভিন্ন জাতের সবজি চারা উৎপাদন করে থাকেন সদরের কৃষকরা। সবজি চারা উৎপাদন লাভজনক পেশা। কয়েকটি এলাকার কৃষক সবজি চারা উৎপাদনকে প্রধান পেশা হিসাবে নিয়েছেন। চারা উৎপাদনে জৈবসার ও খৈল ব্যবহার করা হয়। ফলে চারার গুণগত মান ভালো।  আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ সহ সার বিজ দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করছি।


এই বিভাগের আরও খবর