শিরোনাম:
মতলবে খামার শ্রমিক হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চরকুমিরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে খতমে শেফা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে গুপ্টিতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মারধরে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ওব্যাট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার বিতরণ চাঁদপুর পৌর এলাকায় স্কাউট সদস্যদের সাথে ইফতার ও রোড ডিউটি পরিদর্শন যানজট নিরসনে মাঠে ফরিদগঞ্জ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মতলব-ঢাকা রুটের বাসগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

শীতলক্ষ্যায় কার্গোজাহাজের দৌড়াত্ম্য \ খেয়া পারাপারে জীবন ঝুঁকি

reporter / ৩৪৮ ভিউ
আপডেট : রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২

মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যায় রাত দিন চলে মালবাহী
কার্গো জাহাজ। এছাড়াও রয়েছে, বালিবাহী ট্রলারের
চলাচল। আবার এ নদী পারাপারে স্থানীয়দের জন্য রয়েছে
২০টির অধিক খেয়াপারাপারের ঘাট। এসব ঘাট দিয়ে
শীতলক্ষ্যার উভয় পারের হাজারো লোক চলাচল করে নিয়মিত।
কিন্তু বিশালাকার জাহাজের চলাচলের মাঝখান দিয়ে ছোট
ছোট ডিঙ্গি নৌকা চলাচলে প্রায়ই ঘটে নৌ
দূর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারায় নদী পারাপারকারীদের অনেকে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তারাবো
পৌরসভার নোয়াপাড়া বাজার থেকে চনপাড়া খেয়াঘাট,
গন্ধর্বপূর থেকে ডাক্তারখালী , রূপসী থেকে পূর্বগ্রাম,
মুড়াপাড়া থেকে ইছাখালী, মুড়াপাড়া বাজার থেকে
রূপগঞ্জ , পূর্ব ফেরী ঘাট, হাটাবো হতে জাঙ্গীর, কাঞ্চন
বাজার হতে পিতলগঞ্জ, কেন্দুয়া হতে শিমুলিয়া বাজার,
বিরাবো হতে কাজিরবাগ, বিরাবো হতে দেবই ,
বিরাবো হতে বেলদী বাজার, আতলাপুর বাজার থেকে
দাউদপুর, ডাঙ্গা থেকে খৈসাইরসহ ২০টি খেয়াপারাপার
ঘাট রয়েছে। সেই প্রাচীন কাল থেকেই নদীর আশপাশে
বসবাস ও নদী কেন্দ্রীক জীবন জীবিকা নির্বাহে ব্যস্ত
লোকজন এপার ওপার যাতায়াত করে থাকে।তাই নদীর এপার
ওপারে যাতায়াত বাহন হিসেবে রয়েছে ডিঙ্গি বা
গোদারা জাতীয় ছোট ছোট নৌকা। এসব নৌকায়
একসঙ্গে ৫ থেকে ১০ জন বহনের ক্ষমতা থাকলেও ১২ থেকে
১৫জন পারাপারের দৃশ্যও দেখা গেছে। আবার এ নদী দিয়ে
স্থানীয় শিল্প কারখানা ও আবাসন কোম্পানীর বালি ও পাথর
বহনের কাজে চলাচল করে কার্গো জাহাজ ও বালিবাহি

ট্রলার। এসব জাহাজ ও ট্রলারগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল
করায় ওই নদীতে চলাচলরত ডিঙ্গি নৌকার মাঝি ও যাত্রীরা
থাকে চরম আতঙ্কে।
কাঞ্চন পৌর এলাকার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা এমন ঝুঁকি থাকায়
ছেড়েছে নামী দামী স্কুল। আশপাশের স্কুলেই লেখাপড়া
করতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ছোয়াদ নামের স্কুল
শিক্ষার্থী। একইভাবে দাউদপুর খেয়াঘাটের ইজারাদার উজ্জল
মিয়া বলেন, আমরা সরকারী শর্ত পূরন করে ঘাট ইজারায়
পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু নদীতে অব্যাহত বড় বড়
জাহাজ চলাচলের কারনে খুব প্রয়োজন না পড়লে কেউ পার
হতে চায় না। তাই আমাদের ইজারার টাকা ওঠা নিয়ে
শঙ্কায় রয়েছি।
অভিযোগ রয়েছে, নদীতে চলাচলরত জাহাজগুলো নিয়ন্ত্রণে
নৌ পুলিশের তৎপরতা নেই রূপগঞ্জ অঞ্চলে। তাই থানা
পুলিশকেই মাঝে মধ্যে কোন সমস্যা হলে মোকাবেলা
করতে হয়। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, আমরা থানা পুলিশের কাজ
নিয়েই ব্যস্ত থাকি। এরমাঝে নদীতে কোন সমস্যা হলে বা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজরদারী করতে হয়। তবে এসব দেখভালের
জন্য নৌ পুলিশ রয়েছে।
এদিকে খেয়াঘাটে ইজারা পাওয়ার নির্ধারিত শর্ত ফরমে
প্রতিটি ঘাটে ২ টি করে গুদারা বা সরকারীভাবে
পারাপারের ব্যবস্থার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়নি তা।
ইজারা প্রাপ্তরা ঘাটের ডিঙ্গি মাঝিদের সাথে চুক্তি করে
যাত্রীদের সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রাখে। কিন্তু টোল
আদায় থামে না। তাদের চাহিদা মতো টোল না দিয়ে
লাঞ্চিত হতে হয় বলে রয়েছে অভিযোগ।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, কোথাও নেই গুদারা (সরকারী
ডিঙ্গি নৌকা ) যদিও কোথাও থাকে তা সংশ্লিস্ট ঘাটের
ইজারাদার বন্ধ রেখেছে।প্রতিটি ঘাট দিয়ে নুন্যতম গড়ে
২০০ থেকে ৫ হাজার লোকের যাতায়াত হয়। তাদের থেকে
রাখা নূন্যতম ৩ টাকা করে ৬ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও ৫
টাকা করে ১০ টাকা নেয়ারও রয়েছে অভিযোগ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান বলেন, কোন ইজারাদার
অনিয়ম করে থাকলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর
জাহাজের বেপরোয়া গতি বা তাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে
থাকলে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেখবে।


এই বিভাগের আরও খবর