শিরোনাম:
মতলবে খামার শ্রমিক হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চরকুমিরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে খতমে শেফা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে গুপ্টিতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মারধরে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ওব্যাট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার বিতরণ চাঁদপুর পৌর এলাকায় স্কাউট সদস্যদের সাথে ইফতার ও রোড ডিউটি পরিদর্শন যানজট নিরসনে মাঠে ফরিদগঞ্জ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মতলব-ঢাকা রুটের বাসগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

রূপগঞ্জে ওয়াটা ক্যামিকেলের নির্গত এসিড আক্রান্ত হয়ে ৫ গ্রামের অর্ধশতাধিক অসুস্থ ;

reporter / ৩১৯ ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২

মাহবুব আলম প্রিয়ঃ
রূপগঞ্জে ওয়াটা কেমিক্যালের সালফার এসিডে আক্রান্ত হয়ে ৫ গ্রামের শিশুসহ ৫৪ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ব্যপারে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এদিকে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই কারখানা চলছে বলে দাবী করেছেন মালিকপক্ষ। মালিকপক্ষের দাবী,  উপজেলা পুলিশ-প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করেই এই মরণঘাতি গ্যাস ছাড়ছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগে কারখানার কিছু যায় আসেনা। এর আগে রূপগঞ্জে ওয়াটা কেমিক্যালের সালফার এসিডের গ্যাসে ৫ গ্রামের ৫৪ নারী-পুরুষ ও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ্যদর মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেসরাকারী হাসপাতাল ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে কারখানার গ্যাসে এমন  ঘটনা ঘটলে এলাকাবাসি মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করে।  স্থানীয়দের দাবী,  প্রায় এক যুগ ধরে এ কারখানার গ্যাসের কারণে এখানকার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বানিয়াদি, বলাইনগর, ফরিদআলীরটেক, মঙ্গলখালী ও মকিমনগর এলাকা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ওয়াটা কেমিক্যাল কারখানা। জনবহুল এলাকায় কেমিক্যাল কারখানা করার বিধান না থাকলেও ওয়াটা কেমিক্যাল কারখানা পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়ে কারখানা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে গত এক যুগ ধরে এসব এলাকার প্রায় ৯ হাজার মানুষ নীরব যাতনা সহ্য করে আসছে। কারখানার গ্যাসের কারণে গত এক যুগে কয়েক হাজার লোক অসুস্থ হয়েছিলো বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, রোববার (৭আগষ্ট) সকালে কারখানার গ্যাস নির্গমন করলে পথচারী ও স্থানীয় ৫৪ জন নারী-পুরুষ ও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ মাসুদা বেগম, ওসমান আলী, আমির আলী, মাহাথির (৬মাস), সামিয়া, মনু মিয়া, ইফসব আলী, মরিয়ম আক্তার, আরিফা (৫মাস), বিলাতন নেছা, জয়নব বেগম, ববি আক্তার, পারুল, হালিমা, জিসান, আমেনা, রাবেয়া জান্নাতী (৫মাস), শাহনা আক্তার, ওসমান আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মল্লিকা গেম নামে এক নারী বলেন, গত ৫ মাস আগে গ্যাসের কারণে তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে আমেনা বিনতে রিনা শ^াসকষ্টে আক্রান্ত হয়। দুইদিন চিকিৎসাধীন থেকে পর মারা যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গ্যাস ছাড়ার পর বুক জ্বালা করে, মাথাব্যথা করে, শ্বাস কষ্ট হয়। গ্যাসের কারণে স্থানীয় এলাকাগুলোর গাছপালা জালে যাচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাড়ীঘরের টিন। জামান মিয়া নামে একজন বলেন, তার ৮ টি আম গাছ ছিলো। গ্যাসের কারণে সেগুলো মরে গেছে।
ওয়াটা ক্যামিকেল কারখানার মালিকপক্ষ হয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন স্থানীয় সালাম উদ্দিন ও আলী আকবর নামের দুই প্রভাবশালী। আর ওই দুই প্রভাবশালীর সেল্টারে লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় নিরীহ মানুষকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। কারখানার গ্যাসের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের হাতে লাঠির আঘাতে আহত হতে হয়।
এ ব্যপারে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করবেন বল্লে মালিকপক্ষ এলাকাবাসীকে বলেন, উপজেলা পুলিশ-প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করেই এই মরণঘাতি গ্যাস ছাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগে কারখানার কিছু যায় আসেনা।
অভিযোগের ভিক্তিতে কারখানার মালিকপক্ষের লোক হিসাবে পরিচিত সালামদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এসব জানিনা।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাজে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক তানহারুল ইসলাম বলেন, ওয়াটা কেমিক্যাল কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস আগে কারখানা ফায়ার সেফটি প্ল্যানের জন্য আবেদন করেছে।
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ কারখানার ছাড়পত্র আছে। যখন ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে তখন আবাসিক এলাকা ছিলোনা। তবে গ্যাসের কারণে যদি লোকজন অসুস্থ হয় তাহলে দেখবো। আগামীকাল  সোমবার) পরিদর্শনে যাবো।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আইভী বলেন, আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল কারখানা থাকা ঠিক নয়। কারখানার গ্যাস মানুষের চোখে-মুখে গেলে অনেক ক্ষতি হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ নুসরাত জাহান বলেন, ওয়াটা কেমিক্যালের গ্যাস নির্গমনের খবর পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু করতে দেওয়া হবে না।


এই বিভাগের আরও খবর