শিরোনাম:
মতলবে খামার শ্রমিক হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চরকুমিরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে খতমে শেফা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে গুপ্টিতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মারধরে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ওব্যাট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার বিতরণ চাঁদপুর পৌর এলাকায় স্কাউট সদস্যদের সাথে ইফতার ও রোড ডিউটি পরিদর্শন যানজট নিরসনে মাঠে ফরিদগঞ্জ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মতলব-ঢাকা রুটের বাসগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

মুড়াপাড়া কলেজের পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসে মাদকসেবীদের আখড়া

reporter / ৩০৮ ভিউ
আপডেট : বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২

মাহবুব আলম প্রিয়ঃ
 নারায়ণগঞ্জের  রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহি  বর্তমান মুড়াপাড়া কলেজের পরিত্যক্ত আবাসিক হল এখন মাদকের আস্তানা। কালের বিবর্তনে বেহাল দশায় পরিণত  একসময় দূরদুরান্ত থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের   নানা জটিলতায় এখন তার করুণ পরিণতি। অভিযোগ রয়েছে,  গত প্রায় দেড় যুগ ধরে ছাত্রাবাসটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যত্ন  আর সংরক্ষন অবহেলার কারণে তৎকালীন জমিদারদের (বর্তমানে ছাত্রাবাস) ভবনটি জীর্ণদশায় রূপ নিয়েছে। খসে পড়ছে পলেস্তরা। রাতে-দিনে বসে মাদকসেবীদের আসর।
কলেজ সূত্র জানায় , ১৮৮৬ সালে তৎকালীন রামরতন ব্যাণার্জী মুড়াপাড়ায় জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। জমিদার বাড়ির পাশেই পাইক-পেয়াদের থাকার জন্য আলাদাভাবে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন। জমিদাররা দেশ ছেড়ে চলে গেলে ১৯৬৬ সালে জমিদার বাড়িটি মুড়াপাড়া কলেজের কার্যক্রম শুরু করে। তৎকালীন সময়ে সোনারগাঁও, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় একমাত্র কলেজ থাকায় শিক্ষার্থীরা এ কলেজে লেখাপড়া করতো। দূরদুরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে ঐ সময়কার কলেজ কর্তৃপক্ষ জমিদারদের পাইক-পেয়াদের ভবনটিতে ছাত্রদের আবাসিক হল হিসাবে ব্যবহার করার অনুমতি দেন।
মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন যেখানে-সেখানে কলেজ হওয়া, যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ার কারণে মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরদুরান্তের ছাত্র কমে গেছে। তবে এখনো অনেক ছাত্র দূরদুরান্ত থেকে আসে। ছাত্রাবাস না থাকায় তারা কষ্ট করেই আসে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,  ছাত্রাবাসে দূরদুরান্ত আসা ছাত্ররা স্থানীয় ছাত্রদের অত্যাচারেই থাকেনি। তাই ব্যবহার না করাতে এখন ছাত্রাবাস পরিত্যক্ত। দিনে বখাটেদের আনাগোনা। রাতে চলে মদ-গাঁজার আসারসহ নানা অপকর্ম। তারা বলেন, ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ছে। ভবনে বট পাকুড়ে, ফনীমনসাসহ নানা গাছ জন্ম নিয়ে স্যাঁতস্যাতে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ভবনের দরজা-জানালা কিছুই নেই। সবকিছু খুলে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরের দল। খুলে নিয়ে যাচ্ছে ভবনের ইট-পাথরও। একসময়কার ছাত্রাবাসটি এখন ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রাবাসের ভবনটি প্রতœতাত্তি¡ক বিভাগের আওতায় হওয়ায় এবং সংস্কার করার অনুমোদন না পাওয়ায় ভবনটি ঝুকিপূর্ণই রয়ে যায়।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ বলেন, ১৯৯৮ সালে যখন আমি এই কলেজের ছাত্র ছিলাম তখন এই ছাত্রাবাস জমজমাট ছিলো। তখন উপজেলার আশ-পাশের থানা এলাকার ছাত্ররা দুর হওয়াতে এখানে থাকতো। পরে যার যার এলাকায় কলেজ নির্মাণ হওয়ার কারনে এই ছাত্রাবাসটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
এসএম শাহাদাত নামের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা যখন মুড়াপাড়া কলেজের ছাত্র ছিলাম, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারনে দুরদুরান্তের ছাত্ররা কলেজে এসে সঠিক সময়ে ক্লাস করতে পারেনি।  তাই অনেক ছাত্র এ ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করতো। বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে তাতে অপরাধ সংগঠনিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ নজর দিলে ছাত্রাবাসটি আগের মতো ব্যবহার উপযোগী হতে পারে।
সরকারী মুড়াপাড়া বিশ^বিদ্যালয় কলেজের ভিপি সাইফুল ইসলাম তুহিন বলেন, ছাত্রাবাসটি কলেজের নামে লীজ নেয়া। এছাড়া পুরাতন ভবন হওয়াতে সরকারের অনুমোদন ছাড়া আমরা হাত দিতে পারছিনা। এছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে আমার কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা কিছু দিন পর পর ছাত্রাবাসটি পরিষ্কার করে থাকি। মাদক ও জুয়ারীদের আনাগোনা বাড়লে আমার তাদের ধাওয়াও দিয়ে থাকি। এখন অনেকটা এসব কমে গেছে।
সরকারী মুড়াপাড়া সরকারি  কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন,  কলেজটি সরকারীকরণ হলেও এখনও কাগজপত্রে সম্পূর্ণ হতে পক্রিয়ার বাকি রয়েছে। আর পুরোপুরি সম্পন্ন হলে এই ছাত্রাবাসটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযুগী করতে সরকারের বরাবর আবেদন করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রাবাসে মাদক ও জুয়ার আখড়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না আপনার মাধ্যমেই জানলাম। বিষয়টি আমি আগামী মাসিক সমন্বয় সভায় উথ্যাপন করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল হক বলেন, এ বিষয়ে  আপনার মাধ্যমে জানলাম। কলেজ ম্যানেজম্যান্টের সাথে কথা বলে কি কি সমস্যা রয়েছে সে ব্যপারে উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া মাদক ও জুয়ার বিষয়টি রয়েছে তা তদন্ত করে যথাযখথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তরের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক রাখী রায়  বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ চাইলে পরিত্যাক্ত ভবনটি সংস্কার করতে পারবে তবে তা আমাদের প্রত্নত্তাত্বিক অধিদপ্তরের গাইড লাইন অনুযায়ী করতে হবে। তবে তারা এটি ভেঙ্গে নতুন করে কোন ভবন নির্মাণ করতে পারবে না। মাদক ও জুয়ার আখড়ার ব্যাপারটি আমি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।


এই বিভাগের আরও খবর