নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে অবৈধ ড্রেজার চালানোর ‘প্রশাসনিক অনুমতি’ দেন এক ইউপি সদস্য! কৃষি মাঠে ফসলি জমিতে ড্রেজার চালানোর অনুমতি দেয়ার নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে উপজেলার ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বেলঘর গ্রামের ইউপি সদস্য ইউসুফ পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, প্রশাসনের এক ‘কালো মানিক’ কে ম্যানেজ করে বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে এই অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য। টাকা দিলেই ‘কালো মানিক’ ম্যানেজ করা যায় এই ধারনাকে কাজে লাগিয়ে ‘প্রশাসনের অনুমতির’ নামে নিজেও ফায়দা নেয়ার ফন্দি আঁটেন ইউপি সদস্য ইউসুফ পাটওয়ারী ।এরপর নিজ ওয়ার্ডের বিভিন্ন মাঠের ফসলি জমিতে ‘প্রশাসনের অনুমতি’ আছে বলে ড্রেজার বসাতে সহযোগিতা করেন ড্রেজার ব্যবসায়ী ও বালি ক্রেতা- বিক্রেতাদের।প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নামে হাতিয়ে মধ্যস্ততাকারী হিসেব উভয় পক্ষ থেকে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা।এভাবেই চলছে ইউপি মেম্বারের ড্রেজার চালানোর ‘অনুমতি’ বাণিজ্য।ফলে ফসলী জমি বিনষ্ট হলেও নির্বিকার রয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করতে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে বেলঘর গ্রামে কয়েকটি ড্রেজার, ড্রেজারের পাইপ বিনষ্ট করে জরিমানা করার পরও সেই ‘কালো মানিক’কে ম্যানেজ করে পুনরায় আবার শুরু হয় ইউপি সদস্যের অবৈধ ড্রেজারে বালি উত্তোলনের ‘অনুমতি’ বাণিজ্য।ফলে কৃষি জমি বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জমির মালিকগণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইউপি সদস্যের ক্ষমতার প্রভাবে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
আরও জানা গেছে,এই ইউপি সদস্য বর্তমানে বলিয়া হাই স্কুল রোডে বেলঘর গ্রামে সফিউল্লাহ পাটোয়ারী বাড়ি, হাসান পাটোয়ারি বাড়ির উত্তর পাশে ব্রিজের উপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ টেনে নিয়ে হাসান পাটোয়ারীর বাড়ির দক্ষিণ পাশে ড্রেজার বসিয়ে রাত দিন বালি উত্তোলন করার জন্য ‘প্রশাসনিক অনুমতি’ নিয়েছেন। দুইদিন যাবত অবৈধ ড্রেজার চলছে।স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করার পরও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অবৈধ ড্রেজার বসানোর কথা স্বীকার করেন ইউপি সদস্য ইউসুফ পাটওয়ারী।তিনি বলেন,আমার জেঠাতো ভাইয়ের মাটি উত্তোলনের কাজে একটি ড্রেজার চলমান রয়েছে।