মোঃ মুছা তপদারঃ
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ইনডোরে ভর্তিকৃত রোগীরা যে খাবার পাচ্ছেন তা দিয়ে বাচ্চাদেরও পেট ভরছে না। রোগী প্রতি সরকারি বরাদ্দের ৬০ ভাগ খাবার চুরি করে ৪০ ভাগ খাবার বণ্টন করা হচ্ছে। ইজারাদার হাসপাতালের তত্তাবধায়কের সাথে কথা বলতে বলেন, আর তত্ত্বাবধায়ক ইজারাদারকে সমর্থন করে বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে দায়ী করেন।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সহকারীর সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীপ্রতি ২৪৩ গ্রাম চালের ভাত, মাছ ৩০৭ গ্রাম, আলু এবং সবজি ২৫০ গ্রাম, রুটি ৩৫৯ গ্রাম, কলা ২টিরও বেশী পাওয়ার কথা থাকলেও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪০ ভাগ খাবার রোগীরা পাচ্ছেন। বাকি ৬০ ভাগ চুরি করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৩৫৯ গ্রামের পাউরুটি মেপে পাওয়া যায় ১৩৮ গ্রাম। ৩০৭গ্রাম মাছের পিছ মেপে পাওয়া যায় ৩০গ্রাম, ২৪৩ গ্রাম চালের ভাত হয় ১৫০ গ্রাম চালের ভাতের সমান। কলা ২টিরও বেশী দেওয়ার কথা থাকলেও রোগীরা পাচ্ছেন ১টি করে।
ফরিদগঞ্জের সাহেবগঞ্জ থেকে আসা হাসপাতালে ৫দিন থেকে ভর্তি হওয়া পারুল নামে এক নারী জানান, তিন লোকমা ভাত দেয়। তিন বেলার মধ্যে এক বেলা মাছ দেয় আঙুলের মত চেকন এক ইঞ্চি সাইজ। খাবার যা দেয় তা দিয়ে বাচ্চারও পেট ভরে না।
মতলব উত্তর থেকে এসে ১৬দিন ধরে ভর্তি হওয়া রোগী মর্জিনা নামক আরেক নারী জানান, আসরের পরে রাতের খাবার দেয় যেটা দুপুরে রান্না করা। ভাত ঘাইমা নষ্ট হয়ে যায়। যে খাবার দেয়, না খাইয়া থাকলেও তা খাওনা যায় না। এই কয়ডা ভাত দেয়। পেটের ক্ষুধা পেটেই থাকে।
বয়রা লক্ষীপুর থেকে আসা হালিম শেখ জানান, দুই নলা ভাত দেয়, তাও আসে ২ঃ৩০টায়।
ফরিদগঞ্জের গাজীপুর থেকে আসা আমির হোসেন জানান, তিনবেলার মধ্যে একবেলা মাছ কদ্দূর দেয়, ২০ গ্রামও হইব না।
মতলব থেকে আসা আঃ রহমান জানান, খাবার একদিন দিলে আরেকদিন দেয় না। গতকাল আমারে খাবার দিছে, আজকে দেয় নাই। বলে খাবার নাই।
বালিয়া থেকে আসা আক্তার হোসেন এবং আঃ ছালাম জানান, মাছ দেয় এক বেলা, ২০গ্রামও হইব না। দেখেন, কদ্দুর ভাত দিছে, বাচ্চা পোলাপানেরও পেট ভরবে না। তাও আজকে আপনাদের দেইখা একটু বেশি দিছে, অন্যদিন আরও কম দেয়। তিনবেলায় ৫০ টাকার খাবারও দেয় না।
ফরিদগঞ্জের টোরামুন্সিরহাট থেকে আসা নুরুন্নবী জানান, খাবার কি দিছে দেখেন, পোলাপানেরও হইব না, লবনও দেয় নাই।
বাবুরহাট থেকে আসা স্বপন জানান, ২টা বাজার পরও খাবার দেয় নাই। পরে খিদা সহ্য করতে না পাইরা বাইরে থেকে খাবার আনাইছি।
মতলব থেকে আসা মোজাম্মেল হাসপাতাল থেকে দেওয়া তার পাউরুটিটি দিয়ে বলেন, এই পাউরুটি দিয়ে পেট ভরে? মেপে দেখেন কতটুকো আছে?
মোজাম্মেলের কাছ থেকে পাউরুটিটি নিয়ে হাসপাতালের বাইরে ফল বিক্রেতা হায়দার আলীকে পাউরুটিটি ওজন করতে দিলে তিনি তার ডিজিটাল স্কেলে পাউরুটিটি মেপে জানান, ১৩৮ গ্রাম।
হাসপাতালের খাবারের ইজারাদার সঞ্জিব পোদ্দারের কাছে এসকল বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সাথে কথা বলতে বলেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এ কে এম মাহবুবুর রহমানের কাছে এসকল বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ রোগী প্রতি ১২৫ টাকা। ভ্যাট এবং আয়কর ১২.৫০% কেটে বাকি থাকে ১১২.৫০ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্যে এ দিয়ে কি হয়! সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রোগী প্রতি ২৫০ টাকা বরাদ্দ দিবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে খাবারের মানে পরিবর্তন আসবে।