মতলব উত্তর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে চরম হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। এইচএসসিতে গত বছরের তুলনায় পাসের হার কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। অন্যদিকে আলিম পরীক্ষায় পাসের হার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দুই পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৩৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৪২৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ১২টি কলেজ থেকে ১ হাজার ১৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৩৮১ জন। পাসের হার ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
অন্যদিকে, ৬টি আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৪২ জন। পাসের হার ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
গত বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৮২০ জন অংশ নিয়ে পাস করেছিল ৪১৯ জন। পাসের হার ছিল ২৩ দশমিক ০২ শতাংশ। সে হিসাবে এবার এইচএসসিতে পাসের হার বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ পয়েন্ট। তবে আলিমে গত বছর ১৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ জন পাস করেছিল। পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আলিমে পাসের হার কমেছে ২১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট।
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলার ১২টি কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে শরিফ উল্লাহ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১০ জন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত বছর প্রতিষ্ঠানটির কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এক বছরের ব্যবধানে এমন ঘুরে দাঁড়ানো ফলাফল উপজেলায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দি কার্টার একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১২ জন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা লুধুয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৮ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।
এ ছাড়া ধনাগোদা তালতলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৬ জনের মধ্যে ১০ জন (৩৮ দশমিক ৪৬%), ছেংগারচর সরকারি কলেজে ৩১৪ জনের মধ্যে ১১৪ জন (৩৬ দশমিক ৩১%), নাউরী আদর্শ কলেজে ১৬৯ জনের মধ্যে ৫৭ জন (৩৩ দশমিক ৭৩%) পাস করেছে। নাউরী আদর্শ কলেজ থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
মুন্সী আজিম উদ্দিন কলেজে ৬১ জনের মধ্যে ১৬ জন (২৬ দশমিক ২৩%), কালিপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১০৩ জনের মধ্যে ২৯ জন (২৮ দশমিক ১৬%), জীবগাঁও জেনারেল হক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৮ জনের মধ্যে ২ জন (২৫%), নিশ্চিন্তপুর কলেজে ২০১ জনের মধ্যে ৫০ জন (২৪ দশমিক ৮৮%), সুজাতপুর কলেজে ৯৭ জনের মধ্যে ২৪ জন (২৪ দশমিক ৭৪%) এবং আলী আহমদ মিয়া কলেজে ৯১ জনের মধ্যে ১৯ জন (২০ দশমিক ৮৮%) পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
আলিম পরীক্ষায় ৬টি মাদ্রাসার মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার বদরপুর আদমিয়া ফাজিল মাদ্রাসার। প্রতিষ্ঠানটির ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ জন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।
ফরাজীকান্দি আল ওয়াসিয়ে কামিল মাদ্রাসায় ৩২ জনের মধ্যে ১৩ জন (৪০ দশমিক ৬২%), সাড়ে পাঁচআনী ফাজিল মাদ্রাসায় ২৬ জনের মধ্যে ১০ জন (৩৮ দশমিক ৪৬%), লবাইরকান্দি আল আমিন আলিম মাদ্রাসায় ১১ জনের মধ্যে ২ জন (১৮ দশমিক ১৮%), নেদায়ে ইসলাম মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় ৩১ জনের মধ্যে ৪ জন (১২ দশমিক ৯০%) এবং হাশিমপুর আলিম মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন (৯ দশমিক ০৯%) পাস করেছে।
সামগ্রিকভাবে এইচএসসিতে পাসের হার কিছুটা বাড়লেও জিপিএ-৫ মাত্র দুইজন এবং আলিমে পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে নেমে আসা উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধেকের বেশি পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে।