শিরোনাম:
অসহায় ও দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে ছাত্র হিযবুল্লাহর শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাসিরচরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা মতলব উত্তরে শীতার্তদের পাশে ‘নবজাগরণ ঐক্য ফাউন্ডেশন’ মতলবে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, মালামাল লুট মতলব দক্ষিণে পরিত্যক্ত রান্নাঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল মতলব দক্ষিণে ভেটেরিনারি ফার্মেসীগুলোতে অভিযান, চাঁদপুরে সম্পত্তিগত বিরোধ : হাতুড়ির আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু মতলবে সরকারি গাছ নিধন: বনবিভাগ-এলজিইডির দোষারোপে জনরোষ মতলব উত্তরে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

হাজীগঞ্জের শিশু আহমেদকে সৎ মা রামগঞ্জে নিয়ে হত্যা।। লাশ উদ্ধার, ঘাতক মা কোহিনূর গ্রেফতার

reporter / ২৯২ ভিউ
আপডেট : সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০২২

আনোয়ার হোসেন মানিকঃ
হাজীগঞ্জের শিশু আহম্মদ (৩)লক্ষীপুরের রামগঞ্জে নিয়ে হত্যা করে বসতঘরে মাটিচাপা দিয়েছে সৎ মা।
হত্যার পর নিখোঁজ ঘটনার নাটক সাজিয়েও পার পেলেন না। এই লোমহর্ষক হত্যার মূল ঘটনা হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের ব্যাপক তদন্তে বেরিয়ে আসে।
হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ সৎ মাকে জিজ্ঞেসাবাদে চাঞ্চল্যকর এই  হত্যাকান্ডের ঘটনা শিকার করেন সৎ মা কোহিনূর বেগম। পরে সৎ মাকে সঙ্গে নিয়ে শিশু আহম্মদ এর মৃতদেহ উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ।
 ফুটফুটে শিশু আহম্মদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় সৎ মা কোহিনূর বেগমকে আটক করা হয়েছে । জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয় ঘাতক কোহিনূর বেগমের মা ও খালাকে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শিশু আহম্মদ এর পিতা হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের জিয়ানগর গ্রামের ছৈয়াল বাড়ির হাফেজ শাহ মিরন, তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রামগঞ্জ উপজেলার ৭নং উত্তর দরবেশপুর ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির কোহিনূর বেগমকে। কোহিনূর বেগমও তার আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে হাফেজ শাহ মিরনের সাথো পারিবারিক ভাবে দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হয়।
গত শুক্রবার (২৬ আগষ্ট)  কোহিনূর বেগম তার স্বামী শাহ মিরনের প্রথম ঘরের শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি রামগঞ্জের দরবেশপুর গ্রামে বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে কয়েকদিন অবস্থান করার পর সৎ ছেলে আহম্মদকে শুক্রবার (যে কোন) সময়ে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের কোন আলামত যেন না থাকে এজন্য তিনি শিশুটির মৃতদেহ বসতঘরের খাটের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখে। পরে তিনি হাজীগঞ্জের ভাড়া বাসায় চলে আসে।
 শনিবার (২৭ আগষ্ট) থেকে শিশু আহম্মদ নিখোঁজ হয়েছেন বলে এলাকার মানুষজনের মাঝে ছড়িয়ে দেন। পরে চাঁদপুরে ডুবুরি দলকে খবর দিয়ে এলাকার কয়েকটি পুকুরে শিশু আহম্মদের সন্ধানে নামানো হয়। কিন্ত তারা শিশুটির হদিস পায়নি। পরে শিশুর পিতা শাহ মিরন হাজীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সৎ মা ও সৎ নানীকে জিজ্ঞাসাবাদ জন্য হেফাজতে নেয় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
জিজ্ঞেসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটিকে লাথি মেরে হত্যার দায় শিকার করে ঘাতক সৎ মা কোহিনূর বেগম।
পরে আইনিকার্য শেষে রামগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট ঘাতক মা’কে হস্তান্তর করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
এরপর পরই লক্ষীপুর জেলা পুলিশের( রামগঞ্জ সার্কেল) শেখ সাদীর নেতৃত্বে থানা পুলিশ সৎ মা কোহিনূর বেগমকে সঙ্গে নিয়ে বসতঘরের খাটের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা শিশু আহম্মদের লাশ উদ্ধার করে। পরে শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানা নিয়ে যাওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পিতার নিকট আহম্মদের মরদেহ আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুর সৎ মাকে আটক দেখিয়েছে পুলিশ এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৎ নানীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, জিজ্ঞেসাবাদের পর সৎ মা হত্যার দায় শিকার করায়, রামগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সৎ মা কোহিনূর বেগমকে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের লক্ষীপুর জেলার (রামগঞ্জ সার্কেল) শেখ সাদী বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্ত শেষে পিতার নিকট লাশ হস্তান্তর করা হবে। সে সাথে ঘাতককে আটক দেখানো হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না সেটিও আমরা তদন্তের মাধ্যমে বের করবো । আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করবো।


এই বিভাগের আরও খবর