৪ লাখ টাকায় বিক্রি হলো সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মুক্তা’র প্রাণ
মতলব উত্তর প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলায় লেগুনা গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে মুক্তা আক্তার নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত মুক্তা ষাটনল রসুখার কান্দি গ্রামের রিকশাচালক আয়েত আলীর মেয়ে। গতকাল সোমবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি। বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে গত ১২ দিনের ব্যবধানে মতলব উত্তরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হলো। জানা যায়, নিহত মুক্তা উপজেলার শরীফ উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। সকালে এক শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় লালপুর বেড়ী বাঁধে স্থানে লেগুনা গাড়ী থেকে নামার সময় মুক্তা আক্তার ছিটকে পড়ে মাথায় জখম হয়ে গুরুতর আহত হয়। মুক্তা আক্তারের মৃত্যুতে তার সহপাঠীসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এছাড়াও শরীফ উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গাড়ি চালকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। ঘটনার পর থেকে চালক শিকিরচর গ্রামের নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। স্কুল শিক্ষার্থীরা জানায়, কালীপুর থেকে চরমাছুয়া এই রুটে লেগুনা সার্ভিস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ । ছাত্র/ছাত্রীদের থেকে ফুল ভাড়া আদায় করা হয়। হাফ ভাড়ার কথা বললে বাজে আচরণ করে। এইসব লেগুনা গাড়িতে হেলপার না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। এমনকি লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে লেগুনা গাড়িগুলো পরিচালিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ছাত্র/ছাত্রীরা। এ ঘটনায় মামলা থেকে বাঁচতে প্রথমে ৫ লাক টাকার বিনিময়ে রফাদফা হলেও পরে ভুক্তভোগী পরিবারকে চার লাখ টাকা দেওয়ার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। এমনকি লেনদেন হওয়ার পর জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, কালীপুর থেকে চরমাহুয়া লেগুনা সার্ভিস নিয়ে রাজত্ব করেন। স্থানীয় রহমত উল্লাহ চৌধুরী নামে এক রাজনৈতিক নেতা। এই রুটে লেগুনা সার্ভিসের সভাপতি তিনি নিজেই। সোমবার তার গাড়িতে এই দুর্ঘটনার শিকার হল স্কুলছাত্রী মুক্তা। দুর্ঘটনার পর মামলা থেকে বাঁচতে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি হল বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। মুক্তা আক্তারের নিষ্পাপ জীবন। মতলব উত্তর থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, লেগুনা গাড়িটি থানায় জব্দ করে রাখা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে চাইলে পরিবার রাজি হননি।
হাসপাতাল থেকেই তারা মৃতদেহ নিয়ে গেছে। মামলা করতেও রাজি হয়নি নিহতের পরিবার। এসআই রমিজ উদ্দিন বলেন, দু’পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে সমাধান হয়েছে। মুক্তার বাবা আয়েত আলী একজন গরীব রিক্সা চালক। এ ব্যাপারে লেগুনা গাড়ির মালিক ও লেগুনা সার্ভিস নিয়ন্ত্রণকারী রহমত উল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের নিউজ না করার অনুরোধ করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের গাড়ির লাইসেন্স আছে। টাকার বিনিময়ে রফাদফার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।