নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব গোবিন্দপুর খান বাড়িতে (বড় বাড়ী) একদল সন্ত্রাসীরা হামলা করে বসত ঘর ভাংচুর করেছে। হামলাকারীরা শিশু কিশোর এবং প্রত্যেকের হাতে ধারালো দেশিয় অস্ত্র ছিল বলে এলাকাবাসী জানায়। গত শনিবার(১৫অক্টোবর) সন্ত্রাসীরা হামলা করে প্রবাসী লিটন’র বসত ঘর, রান্নাঘর ও বাড়ীর চারপাশে বেড়া ভাংচুর করে।
বিলম্বে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিন গেলে প্রবাসী লিটনের স্ত্রী শারমিন বেগম জানান, সন্ত্রাসীরা তাকে ও তার ছেলেকে হত্যা করার উদ্যেশে দেশিয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বসতঘরে হামলা করে। এসময় তিনি বাড়িতে না থাকায় প্রানে বেঁচে যান। সন্ত্রাসীরা তাকে না পেয়ে তার বসতঘর রান্নাঘর এবং বাড়ির চর্তুদিকের টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাংচুর করে। পরে হামলার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি এসে দেখি আমার সব শেষ। পরে পরিস্থিতি এমন দেখে থানায় অভিযোগ করতে গেলে সেখানেও তার সাথে থাকা ভাগ্নে ফয়সাল(২২)ও তার ভাই ইউপি সদস্য আমান উল্যা’কে মারধর করে সে সন্ত্রাসীরা। ভাগ্নে ফয়সাল’কে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭/৮ জন সন্ত্রাসীরা তাকে তাড়া করে। সে জীবন বাাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে প্রানে রক্ষা পায়। তিনি আরো বলেন, থানার সামনের ঘটনা থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বুঝতে পারবেন কতটা ভয়াবহ ছিল সন্ত্রাসীরা।
প্রতিবেশী জাকির খান(৩৫) বলেন, আমি মাঠে কাজ করতে ছিলাম। সন্ধ্যার একেটু আগে ভাংচুরের শব্দ শুনে এসে দেখি ১৫থেকে ২০ জন ছেলে সাথে আবুল বাশারের স্ত্রী রেহেনা বেগম ও তাদের ছেলে ইয়াছিনসহ প্রত্যেকের হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারা কুপিয়ে ভাংচুর করতেছে।
আবদুল কাদির খান (৬৫) বলেন, আবুল বাশার, মিলন, লিটন এরা তার ছোট ভাই। তার ভাই মিলন’কে ভিসা দিয়েছিল আরেক ভাই আবুল বাশারের শ্যালক, বর্তমানে মিলন সেখানে খুব কষ্টে আছে, তার কোন কাগজ পত্র(আকামা) ঠিক নেই। এই ব্যাপারে ছোট ভাই লিটন মিলনের জন্য আবুল বাশারের সাথে কথা বললে, তাদের মাঝে কথার কাটাকাটি হয়। তারই জেরধরে আবুল বাশারের স্ত্রী ও তার ছেলে ইয়াছিন (আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজা) গত শনিবার (১৫ অক্টোবর) ছোট ভাই লিটনের ঘরে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে অন্যান্যরা পালিয়ে গেলেও এলাবাসী ইয়াছিন’কে আটক করে আমার ঘরে এনে আমার কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তিতে ফরিদগঞ্জ থানার এস আই বরকত উল্লাহ এসে তাকে( ইয়াছিন) কে নিয়ে যায়।
ফিরোজ খান(৬৫) আকতার পাটওয়ারী(৬৫) এসকান্দার খান(৭০) মুনাফ খান(৫৫) সংবাদকর্মীদের জানান, হামলা ভাংচুরের শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ভাংচুরকারী সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র থাকায় তারা ভয়ে পেয়ে যান। এরকম ছোট ছোট বাচ্ছাদের হাতে অস্ত্র তারা আর কখনও দেখেননি। শুনেছি এরা সবাই “হট হৃদয়” কিশোর গ্যাং দলের সদস্য।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন মশু জানান, শুনেছি পুর্ব শত্রুতার জের ধরে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে বসতবাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আবার থানার সামনেও তাদের উপর হামলা করা হয়েছে। তাই দ্রুত পুলিশ প্রশাসসকে এব্যাপারে আইনী পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত রেহানা বেগম ও ইয়াছিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।
ফরিদগঞ্জ থানার এস আই বরকত জানান, উক্ত ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এলাকাবাসী কারো নাম বলতে পারেনাই। থানার সামনে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এরকম কিছু ঘটেনি। সেখানে আমরাও ছিলাম।