আনোয়ার হোসেন মানিকঃ
একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুধুমাত্র দাপ্তরিক কাজই করেন না। আবার ছুটির দিনও বসে থাকেন না। কাজের সীমানাও নির্ধারণ করেননি। ছুটে চলছেন অভিরাম। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমনই হওয়া প্রয়োজন। কারণ সোনার বাংলা গড়ার দায়িত্ব সকলের। বলছিলাম হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল ইসলাম এর কথা। তিনি এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রতিটি কাজই সহকর্মী ও সমাজের সকল পেশার মানুষের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা।
নিয়মিত ভাল কাজের অংশ হিসেবে তিনি বুধবার (২০ জুলাই) অফিসিয়াল ফেসবুকে লিখেন “ বহুকাল আগেই স্বামীর বাড়ি ছেড়েছেন লক্ষ্মী দেবী। পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেই জীবন কাটে তার..
মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে, চাহিদা খুবই সামান্য। বিয়ের একটা শাড়ি আর কিছু বাজার সদাই। চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করতে করতে কেউ একজন পরামর্শ দিয়েছে ‘ইউএনওর কাছে যাও, উনি বাজার কইরা দিবেন’
আমি জিজ্ঞেস করি, ‘আমি কই থেকে দিব!!’ কিছু বলে না, ইতস্তত হাসে৷ তার বিশ্বাস, আমি দিতে পারবো।
এত আশা করে যে আসে, তাকে কিভাবে ফেরাই। পিআইও এর সাথে কথা বলে একজন স্টাফকে ঠিক করে দিয়ে বললাম, ‘উনি উনার খুশীমতো কিনুক, তুমি শুধু পাশে থেকো’
সব বাজার করে আমার সাথে দেখা করতে এসেছে লক্ষ্মী দেবী৷ হাসিমুখে জানালো বিয়ের শাড়ি পরিয়ে নাকি মেয়েকেও নিয়ে আসবে এর পরের বার..
একই পৃথিবীর মানুষের চাওয়াপাওয়ার কত ফাঁরাক। কি অকৃত্রিম হাসি, কত অল্পতেই না কারো মুখে ভুবনজয়ের আনন্দ..।
ইউএন’র এমন পোস্ট দেখে অনেকেই লক্ষ্মী দেবীকে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মহতী কাজের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানন।