শিরোনাম:
অসহায় ও দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে ছাত্র হিযবুল্লাহর শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাসিরচরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা মতলব উত্তরে শীতার্তদের পাশে ‘নবজাগরণ ঐক্য ফাউন্ডেশন’ মতলবে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, মালামাল লুট মতলব দক্ষিণে পরিত্যক্ত রান্নাঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল মতলব দক্ষিণে ভেটেরিনারি ফার্মেসীগুলোতে অভিযান, চাঁদপুরে সম্পত্তিগত বিরোধ : হাতুড়ির আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু মতলবে সরকারি গাছ নিধন: বনবিভাগ-এলজিইডির দোষারোপে জনরোষ মতলব উত্তরে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

হাইকোর্টের রায়ের ১ মাস হলেও বন্ধ হয়নি  চাঁদপুরে চলছে লাইসেন্স বিহীন ৫৪ টি ইট ভাটা

reporter / ৩৩৭ ভিউ
আপডেট : সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২

 বিশেষ কোন স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বা অনুরূপ কোন স্থান বা প্রতিষ্ঠান হইতে কমপক্ষে ১ (এক) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ইট ভাটা চালানো যাবে না
বিশেষ প্রতিনিধিঃ দেশের সব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। আর ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার বন্ধ ও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য দেশের জেলা প্রশাসকদের সাত দিনের মধ্যে কার্যকর নির্দেশনা দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিবেশ সচিবকে গত ১৩ নভেম্বর তারিখে  নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অগ্রগতি জানিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে ও বলা হয়েছিলো তখন।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি তে  বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। শীত মৌসুম সামনে রেখে দেশের বেশির ভাগ জেলায় অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু করছে এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছে
 হাইকোর্টের আদেশ কে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে এবং নিয়মনীতি অনুসরণ না করে চলছে চাঁদপুর জেলার ৫৪টি ইট ভাটা। যাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।  যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠেছে শতাধিক ইটভাটা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা  ইটভাটার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। বিশেষ করে ইটভাটাগুলোতে কাঠ, টায়ার ও মাত্রাতিরিক্ত সালফারযুক্ত পাথুরে কয়লা ব্যবহারের ফলে পরিবেশও রয়েছে হুমকির মুখে। শুধু তা-ই নয়, এসব অবৈধ ইটভাটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ জনপদ ও ফসলি জমিও। কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ফসলি  জমি। অথচ ফসলি জমি  যাতে নষ্ট না হয় ইট ভাটার কারনে সেজন্যই
  ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ)  আইন, ২০১৩ এর ৫ (১) ধারায় বলা হয়েছে,  ” আপাতত বলবৎ অন্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিবার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা হইতে মাটি কাটিয়া বা সংগ্রহ করিয়া ইটের কাঁচামাল হিসাবে উহা ব্যবহার করিতে পারিবেন না।”
চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের আট উপজেলায় ১২৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে হালনাগাদ ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৪০টি ইটভাটার। বন্ধ রয়েছে ২৫টি। বাকি  ইটভাটা গুলো নিয়মনীতি না মেনে এবং লাইসেন্স বিহীন ভাবে অবৈধভাবে ইট উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। তবে এর মধ্যে ১০/১৫টি ইটভাটার ছাড়পত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ হান্নান।
অবাক করার বিষয় হচ্ছে চাঁদপুর সদরে ৮টি ইটভাটা, হাইমচরে  ২টি, হাজীগঞ্জে ৫টি,  শাহরাস্তিতে  ১১টি, ফরিদগঞ্জে  ১৬টি, কচুয়ায় ৪টি, মতলব দক্ষিণে ৪টির মধ্যে সব ক’টি ও মতলব উত্তরে  ৪ টি ইটভাটা লাইসেন্সহীন হয়ে আছে। আবার কোনো-কোনো ইটভাটা পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই চলে আসছে। এছাড়া ইটভাটা মালিকদের নানা সংকট সমস্যা থাকলেও তা দূরীকরণেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
সূত্র মতে, এসব অবৈধ ইটভাটার বেশিরভাগই ১২০ ফুট উচ্চতার চিমনিবিশিষ্ট সনাতন ইটভাটা। আবার কিছু ইটভাটা রয়েছে নিষিদ্ধ এলাকায় যেমন, পৌরসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রেলাইনের পাশে অবস্থিত। এসব ভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে কাঠ, টায়ার, পোশাক কারখানার বর্জ্য, ভূষি জ্বালিয়ে তা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত করছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি ইটভাটার ধোঁয়ায় জমির ফসল ও ফলদ গাছে ফল ধরাও প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে। মানা হচ্ছে না ইট ভাটা আইন।
 এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনে স্পষ্ট বলা আছে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ)  আইন, ২০১৩ এর ৮(১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে ” আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ছাড়পত্র থাকুক বা না থাকুক, এই আইন কার্যকর হইবার পর নিম্নবর্ণিত এলাকার সীমানার অভ্যন্তরে কোন ব্যক্তি কোন ইটভাটা স্থাপন করিতে পারিবেন না, যথাঃ-
 (ক) আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যেক এলাকা,
 (খ) সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর,
 (গ) সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, (ঘ) কৃষি জমি, (ঙ) প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, (চ) ডিগ্রেডেড এয়ার শেড (Degraded Air Shed)।
৮(২) ধারায় বলা হয়েছে,  এই আইন কার্যকর হইবার পর, নিষিদ্ধ এলাকার সীমানার অভ্যন্তরে ইটভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কোন আইনের অধীন কোনরূপ অনুমতি বা ছাড়পত্র বা লাইসেন্স, যে নামেই অভিহিত হউক, প্রদান করিতে পারিবে না।
৮ (৩) ধারায় বলা হয়েছে,  কোন ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত দূরত্বে বা স্থানে ইটভাটা স্থাপন করিতে পারিবেন না, যথাক্রমে
(ক) নিষিদ্ধ এলাকার সীমারেখা হইতে ন্যূনতম ১ (এক) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে, (খ) সরকারি বনাঞ্চলের সীমারেখা হইতে ২ (দুই) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে,
 (গ) কোন পাহাড় বা টিলার উপরিভাগে বা ঢালে বা তৎসংলগ্ন সমতলে কোন ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে উক্ত পাহাড় বা টিলার পাদদেশ হইতে কমপক্ষে ১/২(অর্ধ) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে, (ঘ) পার্বত্য জেলায় ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে, পার্বত্য জেলার পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থানে, (ঙ) বিশেষ কোন স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বা অনুরূপ কোন স্থান বা প্রতিষ্ঠান হইতে কমপক্ষে ১ (এক) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে । ‘
এদিকে ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর চলাচলে গ্রামীণ জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ট্রাক্টরের যাতায়াতে ভেঙে পড়ছে বহু সেতু-কালভার্ট। এতে নিত্য-নৈমিত্তিক কাজে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
এছাড়াও চাঁদপুরে কিছু ইটভাটায় মাত্রাতিরিক্ত সালফারযুক্ত পাথুরে কয়লা ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর আমদানি করা এসব কয়লা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কয়লা ব্যবহারের ফলে ইটভাটা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগেও আক্রান্ত হয়ে শত-শত মানুষ ভুগছে। অ
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ)  আইন, ২০১৩ এর ১১(গ) ধারায় বলা হয়েছে,  স্থাপিত ইটভাটার কারণে তৎসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন।
কৃষক ও একাধিক এলাকাবাসী জানান, অবৈধ ভাটাগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন উপজেলাসহ জেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি চলছে ঢিলেঢালা গতিতে । গত সপ্তাহে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ছোট, ছোট কয়েকটি ইট ভাটা গুড়িয়ে দিলেও থেমে নাই ইট ভাটাগুলো। পুনরায় ওই ভাটাগুলো ম্যানেজ করে চালু করেছে দাবি করে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে সদর উপজেলার শাহতলী এলাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম ও কাউছার আলম অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় ওইসব কয়লা যত্রতত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
চাঁদপুর পরিবেশ আন্দোলনের নেতা নাছির চোকদার বলেন, ওইসব ইটভাটার ধোঁয়া বাতাসে মিশলে মানুষ শ্বাসকষ্টসহ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়। তাই অচিরেই এগুলো বন্ধ করা দরকার।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রশাসনের অনুমোদন ও ছাড়পত্র না থাকলেও অদৃশ্য অলিখিত অনুমোদনে চলছে ভাটাগুলো
পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক অভিযানে ভেঙে দেয়ার পরেও পুনরায় এ অবৈধ ইট ভাটা নির্মাণ করে ইট পোড়ানো হয়। তাই জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে বলে তারা দাবি
সচেতন মহল বলছে, এর আগেও বিভিন্ন পত্র- পত্রিকায় অবৈধ ইট ভাটা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরে অবৈধ ভাটাগুলোর কার্যক্রম নজরে আসছে।
ভাটাগুলোতে নদী ও খাল থেকে ড্রেজিং দিয়ে মাটি এনে ইট তৈরি করা হচ্ছে বলেও ভাটা সংলগ্ন বাসিন্দারা দাবি করেন। তাঁরা বলেন, রাতভর ড্রেজিং ও বেকু দিয়ে ফসলী জমির পাশে মাটি কেটে গভীর করে ইট তৈরির মাটি সংগ্রহ করছে ভাটাগুলো।
ইটভাটার মালিকরা জানান, তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ হান্নান বলেন , লাইসেন্স বিহীন ইট ভাটা পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। চাঁদপুর জেলায় ১০৪ টি ইট ভাটার মধ্যে  ৫৪টির মতো লাইসেন্স বিহীন ভাটা রয়েছে। আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শিগগিরই একজ ম্যাজিস্ট্রেট আসবেন এবং ভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর