শিরোনাম:
মতলবে ১৫ মামলার আসামি মেজর ডালিমসহ গ্রেফতার ৬ ইব্রাহিমপুর শাহী জামে মসজিদের নির্মাণকাজে বাদশা মিয়া চকিদারের আর্থিক অনুদান কচুরিপানার দখলে ধনাগোদা নদী, তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বন্ধ নৌযান চলাচল মতলবে ১৫শ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ নতুন এনআইডিতে ১৮ সিম, নিজের নামে সিম তুলতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী : দায় নিচ্ছে না কেউ! মতলবে ডাকাতের কবলে প্রথম আলোর সাংবাদিক আলম পলাশ উত্তর রাড়ীকান্দি জামে মসজিদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম ইলিয়াছ আলীর উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল মতলবে দেশীয় অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্য গ্রেফতার মতলবে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৫ বছরের বৃদ্ধ পুলিশ হেফাজতে মতলবে অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

মতলবে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক বহিষ্কার

reporter / ২৩৫ ভিউ
আপডেট : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার রাড়ীকান্দি দারুসুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে মাদ্রাসা পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি। ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তিনি মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. মামুন মিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউএনও ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মামুন মিয়া রাড়ীকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, মো. মামুন মিয়া প্রায় দুই-তিন বছর আগে মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। অনেক সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও করতেন।

তারা আরও জানায়, সবসময় তার ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হতো এবং বিষয়টি একাধিকবার অন্য শিক্ষকদের কাছে জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানায়। ইউএনও সরেজমিনে এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করায় শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করে।

মাদ্রাসার একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য মাদ্রাসায় পাঠাই। কিন্তু যদি শিক্ষকরাই এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকেন, তাহলে সন্তানের নিরাপত্তা কোথায় থাকবে?

একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষার্থীরা ভয় ও লজ্জার কারণে অনেক সময় এমন ঘটনা বলতে পারে না। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় আমরা ইউএনও মহোদয়ের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। তবে আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগে সরেজমিনে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর