শিরোনাম:
মতলবে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী আটক মতলব উত্তরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: মাদক ও পরোয়ানার ৭ আসামি গ্রেপ্তার দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিএনপি নেতা তানভীর হুদা প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও ছাত্রঅধিকার পরিষদ নেতার আন্তরিক সহযোগিতায় দেশে আসলো সৌদি প্রবাসীর মৃতদেহ ইসলামাবাদে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্মরণে মিনিবার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত চাঁদপুর পৌরসভায় বেওয়ারিশ কুকুরের জলাতঙ্ক রোগের ভেক্সিন প্রদান সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত চাঁদপুরে সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত মতলব উত্তর থানায় বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ৪, পরোয়ানাভুক্তসহ গ্রেপ্তার ৮ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মতলব বালিকা উ’বির সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে শিক্ষার্থীদের অঙ্গীকার করালেন ‘ক্লিন চাঁদপুর’

চাঁদপুরের বাজার গুলোতে দেশি প্রজাতির মাছের তেমন দেখা মিলে না

reporter / ৩৩৪ ভিউ
আপডেট : রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চাঁদপুর জেলার বাজার গুলোতে এখন দেশি মাছের আকাল। একসময় দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছে গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজারগুলো সয়লাব হয়ে যেত। এখন আর সেসব মাছ হাট বাজার গুলোতে তেমনটা চোখে পড়ে না। গত কয়েক দশকে বেশ কয়েক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ গুলো বাজারে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।মৎস্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, দেশে মিটা পানির দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা আড়াইশ,র ও  বেশি। বর্তমানে হাটবাজার, পুকুর, খাল, বিল কোথায়ও এখন আর মিঠাপানির বহু সুস্বাদু দেশি মাছের তেমন দেখা মিলছে না। দেশি মাছের বদলে এখন বাজারে জায়গা দখল করে নিয়েছে চাষের সিলভার কার্প,তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, গ্যার্স  কার্প জাতীয় মাছ।এখন বিলুপ্ত প্রায় দেশি প্রজাতীয় মাছ।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় মাছ ক্রমেই হারিয়ে যাওয়ার জন্য মূলত অনেকগুলো কারণই দায়ী। এর মধ্যে জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, নদ-নদীর নব্য হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদী সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরে ফেলা, ডোবা-নালা, পুকুর সেছে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ ও মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানো।এছাড়া কৃষি ও চাষাবাদ ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। একই সঙ্গে পোনা আহরণ, নেটজাল ও মশারি জাল ব্যবহার করে খাল, বিল, সাগরে মাছ ধরার কারণেও দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে।গবেষণা প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান ,দেশে প্রায় ২৬০ প্রজাতির দেশি মাছ আছে। ২০ থেকে ৩০ বছর আগেও সেগুলো সচারচার নদী-নালা, খাল-বিল গুলোতে পাওয়া যেত। তবে বিদেশি কার্প প্রজাতির মাছগুলোর চাষ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও কিছু মানবসৃষ্ট কারণে এসব দেশি মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এরই মধ্যে বেশ কিছু ছোট দেশি মাছের প্রজাতি স্থানীয়ভাবে বিলুপ্তও হয়েছে। চাঁদপুর  জেলা মৎস কর্মকর্তা গোলামমেহেদী হাসান ও  উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ তানজিমুল ইসলাম  জানান,নদী-নালা-খাল বিলে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রায় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে মৎস্য হ্যাচারিগুলোও কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে দেশি মাছের পোনা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন মাছ চাষের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। এ ব্যাপারে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারকেও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার জন্য আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় মাছের স্বাদ-গন্ধ পুনরুদ্ধার করা যায় কি-না, তারও গবেষণা হওয়া উচিত।বর্তমানে চাষ করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছে বিরক্তিকর গন্ধের উপস্থিতি ভোক্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে মাছ চাষীরা, ট্যানারির বর্জ্যসহ ক্ষতিকর বস্তু মাছের খাবারে মেশানো হয়। ক্ষতিকারক এই খাবারে বেড়ে ওঠা মাছ খেলে মানবদেহে নানা জটিল রোগ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো মাছের খাবারের সঙ্গে মাছ দ্রুত বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। মাছ মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই মাছ চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিষয় যথাযথ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষত মাছের কৃত্রিম খাবার নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে, সেগুলোতে কোনো ক্ষতিকর পদার্থ আছে কি-না।এ ব্যাপারে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা  জানান,দেশি মাছের বিলুপ্তি ঠেকাতে ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর সব ভূমিকা পালন করবে এমনটাই প্রত্যাশা।


এই বিভাগের আরও খবর