বিশেষ প্রতিনিধিঃ
এমভি সোনার তরী লঞ্চের সিটে ব্যাগ রাখা নিয়ে তর্ক বিতর্কের জের ধরে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে সুমন গাজী (৩৫) নামের এক যুবককে ছুরিবাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
১৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাতেই চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজন এবং বুধবার ভোরে আরো তিনজনকে আটক করেছে। নিহত সুমন গাজী চাঁদপুর সদর উপজেলার ৭ নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের উত্তর পশ্চিম তরপুরচন্ডী গ্রামের গাজী বাড়ির মোঃ ইউসুফ আলী গাজীর পুত্র।
নিহতের স্বজনরা জানান, সুমন গাজী দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি দোকানে ফার্নিচারের কাজ করতেন। সে প্রতি এক দেড় মাস পর পর বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। সোমবার রাতেও সে ঢাকা সদরঘাট থেকে সোনার তরী- ৩ লঞ্চে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। লঞ্চে উঠার পর সিটে ব্যাগ রাখা নিয়ে তার সাথে বাবু আহমেদ মামুন (২২) নামে অপর এক যাত্রীর সাথে তর্ক হয়।
পরে নিহত সুমন তার সাথে কথা না বাড়িয়ে সেখান থেকে ওই সিট ছেড়ে দিয়ে অন্য স্থানে গিয়ে বসেন।
এদিকে আসামি বাবু আহমেদ মামুন এই সামান্য তর্কের জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইলফোনে কল করে তার সহপাঠীদের চাঁদপুর লঞ্চঘাটে থাকার কথা বলে।
রাত ১১ টার দিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে লঞ্চটি ঘাটে ভিড়লে সুমন গাজী লঞ্চ থেকে নামলেই মামুন ও তার সহপাঠীরা তাকে এলোপাতাড়ি ভাবে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। নিহত সুমন প্রাণে বাঁচার জন্য এদিক সেদিক অনেক ছোটাছুটি করেন।
এক পর্যায়ে সে তাদের এলোপাতাড়ি একাধিক ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী পাঁচজনকে আটক করে চাঁদপুর থানা নৌ-থানা পুলিশে সোপর্দ করে।
রাতেই চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশ আহত সুমনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে গতকাল ১৪ ডিসেম্বর বুধবার ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে সুমন হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বুধবার ভোরে নৌ পুলিশ আরও তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান।
আটককৃতরা হলেন,মতলব উত্তর ছেংগারচর এলাকার একেএমের ছেলে বাবু আহমেদ প্রকাশ মামুন(২২),
উত্তর শ্রীরামদী মাদ্রাসা রোড এলাকার হাসান আলীর ছেলে সবুজ প্রধানিয়া (২৩), খোকন মোল্লার ছেলে সাজ্জাদ মোল্লা (২৩),
চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার নাসির উদ্দিন মাঝির ছেলে সাজ্জাদ হোসেন আপন(২২), রহমতপুর কলোনি এলাকার বিল্লাল খানের ছেলে সবুজ খান (২১), গুনরাজদী এলাকার আমির হোসেন বেপারীর ছেলে হাসান মাহমুদ সোহাগ (২১), ইচলি এলাকার আঃ খালেক গাজীর ছেলে রাকিব হোসেন গাজী (২২), দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছেলে ইয়ামিন (২২) ও
চাঁদপুর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুজ্জামান দৈনিক প্রিয় চাঁদপুর’কে জানান, সোমবার রাতে সোনার তরী- ৩ লঞ্চে করে নিহত সুমন চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। লঞ্চে উঠার পর সিটে ব্যাগ রাখা নিয়ে বাবু আহমেদ মামুন নামে অপর এক যাত্রীর সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে আটককৃত মামুন মোবাইলে তার সহপাঠীদের খবর দিয়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে লঞ্চটি ভেড়ার পর সুমন লঞ্চ থেকে নামলে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। আমরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি দেই। পরে ভোর ৫ টার দিকে সে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরো জানান, আমরা রাতেই ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করেছি এবং ভোর তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আরও তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা লাশের সুরুতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠিয়েছি। বাকিটা পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।