রাফিউ হাসান হামজাঃ আলোকিত মানুষ গড়ার বিদ্যাপীঠ চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার কেশরাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসেছিল নবীন আর প্রবীণদের এক মিলনমেলা। এ উপলক্ষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যেন বাঁধভাঙ্গা আনন্দ আর উৎসবের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী, নবীন-প্রবীণের আড্ডায় প্রাণ ফিরে পায় দিনব্যাপী এ আয়োজন। সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে একে অপরের সাথে কুশল বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান চত্বর হয়ে ওঠে মুখরিত। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য।
বিশাল প্যান্ডেল জুড়ে চলে দিনভর বিভিন্ন ব্যাচের শৈশবের কথা, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা। ফাঁকে ফাঁকে চলে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সেলফি আর ফটোসেশন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় সহপাঠি বা প্রিয় বান্ধবীকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই।
কেশরাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং শতবর্ষ পূর্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে
প্রধান অতিথি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি, ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, ৯০-৯৬ তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, সাবেক সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ এ ভূষিত, শাহরাস্তি-হাজিগঞ্জ এর উন্নয়নের রুপকার, মাননীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম খুরশিদ আলম, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ জামাল নাসের। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু জাফর খান। শাহরাস্তি উপজেলা চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদ, শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদ হোসেন, শাহরাস্তি পৌর মেয়র ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাজী আব্দুল লতিফ সহ সকল স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ।
শতবর্ষ পূর্তি উৎসবে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। তারা ফিরে যান উচ্ছল তারুণ্যে ভরা দিনগুলোতে। পুরোনো সব বন্ধু আর সহপাঠীকে পরষ্পর জড়িয়ে ধরে আত্মহারা হয়ে হাত হাত ধরে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন। অনেকে আবার পুরোনো সহপাঠীদের পেয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যালয়টি ছিলো লোকারণ্য। হাজারো নবীন প্রবীণের প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহনে সবুজে প্রকৃতি আর শীতের সন্ধ্যা যেন আরও চঞ্চল হয়ে ওঠে। মুখর হয়ে ওঠে স্কুলমাঠ প্রাঙ্গন। যেন সবার মাঝে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানে আগত সকলের আপ্যায়ন, চিকিৎসা, তদারকিসহ সব ব্যবস্থা নেয় আয়োজক কমিটি। এছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিল কঠোর নিরাপত্তা উৎসবের চারিদিকে।
কেশরাঙ্গা বিদ্যালয়ের গৌরবময় পথচলা ও শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের দিনব্যাপী শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় বৃটিশ শাসনামলে পরিকল্পিত ও অপরুপ নৈসর্গিক পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কেশরাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও পুনর্মিলনীর এই আয়োজন।