শিরোনাম:
অসহায় ও দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে ছাত্র হিযবুল্লাহর শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাসিরচরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা মতলব উত্তরে শীতার্তদের পাশে ‘নবজাগরণ ঐক্য ফাউন্ডেশন’ মতলবে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, মালামাল লুট মতলব দক্ষিণে পরিত্যক্ত রান্নাঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল মতলব দক্ষিণে ভেটেরিনারি ফার্মেসীগুলোতে অভিযান, চাঁদপুরে সম্পত্তিগত বিরোধ : হাতুড়ির আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু মতলবে সরকারি গাছ নিধন: বনবিভাগ-এলজিইডির দোষারোপে জনরোষ মতলব উত্তরে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

ফরিদগঞ্জ থানার লোককে হাজিগঞ্জে আটক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ পরিবারের

reporter / ২৬৮ ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নাটকীয়তার মধ্যেদিয়ে হাজিগঞ্জ থানা পুলিশ সাদা পোশাকে এসে ফরিদগঞ্জ থানা এলাকা থেকে আটক করে হাজিগঞ্জে আটক দেখানো নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও রহস্যের ধুম্রজাল দেখা দিয়েছে। কেন বা এমন নাটক করা হয়েছে, এ নিয়ে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মাঝে। অপরাধ করলে থানা পুলিশ আটক করবে এটাই স্বাভাবিক কথা, কিন্তু তার জন্য এক থানা এলাকা থেকে আটক করে অন্য থানা এরিয়া দেখানো কি রহস্যজনক নয়! এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের মাঝে। এমনি ঘটনা স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার মূলপাড়া গুদারাঘাট থেকে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদউল্যা তপদারের ছেলে আরিফকে আটক করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলার মূলপাড়া গুদারা ঘাটের সামনে থেকে বুট মুরি খাওয়ার সময় তাকে সাদা পোশাকে থাকা হাজিগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই মিজবাহুল আলম চৌধুরীসহ তিন জন আরিফকে আটক করে। এসময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে নৌকা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হাজিগঞ্জ চলে যান। হাজিগঞ্জ থানা এলাকার মধ্যে বাকিলা বিসমিল্লাহ কপি হাউজে তাকে আটক করেছে বলে মামলায় দেখানো হয়। মামলায় আরিফের কাছে ১৫০ পিস ইয়াবা আছে বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
উপজেলার মূলপাড়া গুদারা ঘাটের বুট মুরির দোকানদার মফিজ সরদার বলেন, আরিফ আমার দোকান থেকে বুট ও মুড়ি নিয়ে মিজানের দোকানে যায়। কিছুক্ষন পরে হঠাৎ করে তিনজন লোক এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়।
মূলপাড়া গুদারা ঘাটের আরেক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আরিফ আমার দোকানে বসে বুট আর মুড়ি খাচ্ছিল এসময় তিনজন লোক এসে আরিফ কে পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি বাঁধা দেই। তারা আমার কাছে ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দেয়। আরিফের অপরাধ কি জানতে চাইলে চুপ থাকার কথা বলে নৌকা করে আরিফ কে নিয়ে চলে যায়।
নৌকার মাঝি নাছির উদ্দিন বলেন, ঐ দিন তিনজন লোক এই খানে আরিফকে ধরে । পরে আমার নৌকায় দিয়ে পার করে আসি। কেন আটক করা হয়েছে আমি জানিনা।
হাজিগঞ্জ উপজেলার বাকিলা বিসমিল্লাহ কপি হাউজের মালিক আক্তার হোসেন বলেন, পুলিশ ছেলেটা সিএনজি করে এই খানে নিয়ে আসে। পরে ইয়াবা ট্যবলেটের প্যাকেট টেবিলের উপর রাখে।
মাদক মামলার প্রথম স্বাক্ষী শাহাজাহান বলেন, এই খানে পুলিশ একটা ছেলেকে নিয়ে এসেছে। টেবিলের উপরে তিনটি প্যাকেট ছিলো। আমাকে বলেছে সাক্ষীর দেওয়ার জন্য আমি দিয়েছি। আমার আগে হুজুর শিক্ষিত মানুষ তিনি দিয়েছে, তাই আমিও দিয়েছি।
২য় সাক্ষী মাওলানা নজির আহাম্মেদ বলেন, আমি নামাজ পড়ে বের হয়েছি দেখলাম অনেক মানুষের ভিড়। ভিতরে গিয়ে দেখি মাদক সহ ছেলেটি বসে আছে। আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলেছে আমি দিয়েছি।
আরিফের বাবা শহিদ উল্যা তপদার বলেন, আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য কেউ তাকে ইয়াবা দিয়ে আটক করিয়েছে। আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করবে। হাজিগঞ্জ থানা পুলিশ করলো তাও আবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে। আর আটক করলো ফরিদগঞ্জে দেখিয়েছে হাজিগঞ্জে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার পরিকল্পনার হিসাবে একটি চক্র এই কাজ করিয়েছে।  এতে বুঝা যায় কেউ পরিকল্পিত ভাবে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠ তদন্ত চাই। প্রকৃত অপরাধীর বিচার চাই।
মামলার তদন্তকর্মকর্তা এস আই মিছবাহুল আলম চৌধুরী বলেন, আমরা বাকিলা কপি হাউজ থেকে আরিফকে ১৫০ পিস ইয়বাসহ গ্রেফতার করি, পরে তার স্বীকারোক্তিতে তাঁকে সাথে নিয়ে ফরিদগঞ্জে মুলপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান করি।
ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনর্চাজ আঃ মান্নান বলেন, আমাকে একজন ফোন করেছে পুলিশ নাকি কাউকে আটক করেছে। পরে আমি খবর নিয়ে দেখলাম হাজিগঞ্জ থানা পুলিশ মাদকসহ একজনকে আটক করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজিগঞ্জ সার্কেল) পংকজ কুমার দে বলেন, এক থানার পুলিশ অন্য থানায় আসামী ধরতে হলে সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করতে হয়। আরিফের বিষয়ে আমি জানি, তাঁকে বাকিলা থেকে আটক করেছে
হাজিগঞ্জ থানা পুলিশ।


এই বিভাগের আরও খবর