গত ২১ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা এলাকায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক পিকাপ ভ্যানটি আটক করে থানা হেফাজতে রেখেছে।
এদিকে ঘটনার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত পিকাপ ভ্যপনের চালক কিংবা মালিক পক্ষের কেউ আহত মোখলেছুর রহমানের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি বেঁচে আছেন কি না, সে খবরও কেউ রাখেনি। উল্টো ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য একটি পক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত মোখলেছুর রহমান চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা চৌরাস্ত শেখ বাড়ির মৃত আব্দুল কাদের শেখের ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষক এবং দুই ছেলে দুই মেয়ের পিতা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আহত মোখলেছুর রহমান ঘটনার দিন ছেলের বিয়ের দাওয়াক কার্ড নিয়ে অটোরিকশা যোগে আত্মীয়র বাড়ি যাচ্ছিলেন। বেলা ১২টার সময় ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা এলাকা পার হওয়ার সময় বেপোরোয়া গতীর পিকআপ ভ্যান একটি হাইস গাড়িকে পিছন থেকে সাজোরো ধাক্কা দেয়। এতে হাইস গাড়িটি মোখলেছুর রহমানকে বহন করা অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা লাগে। এতে মোখলেসুর রহমান গাড়ি থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। পরে পিকআপ ভ্যানের চালক দ্রুত পালিয়ে যেতে হাইস গাড়িটিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় বৃদ্ধর পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার দু’পায়ের হাড়গুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।
আহত মোখলেসুর রহমানকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তার আত্মীয় বাড়িতে খবর দিলে তারা এসে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে আহত মোখলেসুর রহমানের স্ত্রী আমেনা খাতুন জানান, আমার স্বামী অটোরিকশ থেকে পরে হামাগড়ি দিয়ে কিছুটা সড়ে না এলে পিকাপক ভ্যানটি তার বুকের উপর দিয়ে যেত। গাড়ির চালক কতটা অমানুষ হলে এই কাজ করে। আমার স্বামী পায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে গেলেও তাকে ধরে একটু হাসপালেই নিলো না।
আহত মোখলেসুর রহমানের ছেলে ইয়াসিন বলেন, আমার বাবার দুটো পায়েরর হাড় ভেঙ্গে কয়েক টুকরো হয়ে গেছে। ঈদের পরের দিন আমার বিয়ে ছিলো। সে দাওয়াত দিতে গিয়ে বেপোরোয়া গাড়ির চালকের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। বাবার পায়ের সাথে আমাদের অনেক স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। আমার বাবা অমাদের অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন। এই ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও গাড়ি চালকদের কেউ একটু খোঁজও নেয়নি। এ বিষয়ে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে অর্থোপেডি চিকিৎসক ডাক্তার নূর হোসাইন বান্না বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী মোখলেছুর রহমানের দুটি পা ই মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে। আমরা ইমার্জেন্সি অপারেশন করেছি, তবে ওনার পা বাঁচাতে হলে মেজর অপারেশন করা লাগবে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই শামসুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনা পরপরই আমরা দুটি গাড়ি বালুর ফিকাফ ও হাইস টিকে থানা আটক করি। ঘটনায় থানায় একাধিক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে আমরা থানায় ডেকেছি। তারা বলেছে, উভয় পক্ষ মিলে বসে আলোচনা সাপেক্ষে একটা সমাধান বের করে আমাকে জানাবে।