বেলায়েত সুমন
প্রায় এক সপ্তাহ যাবত অসহ্য লোডশেডিং যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর গ্রাহকরা।প্রতিদিনই ঘন্টার পর ঘন্টা টানা লোডশেডিংয়ের ফলে ইতোমধ্যেই গ্রাহকের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকগণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার প্রশ্নে দায়িত্বরত জেলারেল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুললেও লোডশেডিং এর নেপথ্যে রয়েছে চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি।ফলে প্রতিদিনই রাত দিন চাহিদা আর প্রাপ্তির যোগফল মিলিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা থাকছে লোডশেডিং।
সূত্রমতে,চাঁদপুর জেলার তিনটি উপজেলার (হাজীগঞ্জ,শাহরাস্তি,কচুয়া) ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৮৯ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। ৬ টি উপকেন্দ্রের মধ্যে হাজীগঞ্জ -১(৩০ এমবিএ,হাজীগঞ্জ-২ বলাখাল(২০ এমবিএ),শাহরাস্তি -২৫ এমবিএ,কচুয়া-১ (২০ এমবিএ),কচুয়া -২ রহিমানগর (২০ এমবিএ),কচুয়া-৩ পালাখাল (২০ এমবিএ) উপকেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ৩৭ টি ইউপি ও তিনটি পৌর এলাকার ৫৬৯ টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।এর আওতাভুক্ত রয়েছে ২লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৫ টি আবাসিক,৩২ হাজার ৪৮০টি বাণিজ্যিক, ২হাজার ২৭৬ টি সেচ,২হাজার ৪৫০ টি শিল্প,৪হাজার ৮০৪ টি সিআই, ২৮১ টি সড়ক ও ১৩ টি বৃহৎ শিল্প সংযোগ।প্রতিদিন চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ এ ৭৮-৮০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা থাকলেও সরবরাহ রয়েছে ৫০-৫২ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ।ঘাটতি থাকছে প্রায় ৩০ মেঘাওয়াট।ফলে প্রতিদিনই প্রায় ২০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে রাত-দিন লোডশেডিং থাকছে।
বিগত দশ দিনের বিদ্যুৎ সরবরাহের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১অক্টোবর ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫২ দশমিক ৭ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৩৬দশমিক ৯ মেঘাওয়াট।লোডশেড ছিলো ১৫ দশমিক ৮ মেঘাওয়াট। ইভেনিং পিকে চাহিদা ছিলো ৭০ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৫০ মেঘাওয়াট। লোডশেড ছিলো ২০ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট।২ অক্টোবর ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫১ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৩১ দশমিক ১মেঘাওয়াট।লোডশেড ছিলো ১৯ দশমিক ৯ মেঘাওয়াট। ইভেনিং পিকে চাহিদা ছিলো ৬২ দশমিক ৯ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৪৯ মেঘাওয়াট। লোডশেড ছিলো ১৩ দশমিক ৯ মেঘাওয়াট। ৩ অক্টোবর ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫০ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৩৯ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট।লোডশেড ছিলো ১১ মেঘাওয়াট। ইভেনিং পিকে চাহিদা ছিলো ৬৫ দশমিক ৭ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৫১ মেঘাওয়াট। লোডশেড ছিলো ১৪ দশমিক ৭ মেঘাওয়াট।৪ অক্টোবর ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫১দশমিক ১ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো শূণ্য।লোডশেড ছিলো ৫১ দশমিক ১ মেঘাওয়াট। ইভেনিং পিকে চাহিদা ছিলো ৬৯ দশমিক ২ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৩৭ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট। লোডশেড ছিলো ৩১ দশমিক ৭ মেঘাওয়াট।
৫ অক্টোবর ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫০ দশমিক ৯ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৩২ দশমিক ৮ মেঘাওয়াট।লোডশেড ছিলো ১৮ দশমিক ১ মেঘাওয়াট। ইভেনিং পিকে চাহিদা ছিলো ৬৪ দশমিক ৯ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৪৮ দশমিক ৬ মেঘাওয়াট। লোডশেড ছিলো ১৬ দশমিক ৩ মেঘাওয়াট। ৬ অক্টোবর ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫০ দশমিক ৬ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ২৯ দশমিক ৬ মেঘাওয়াট।লোডশেড ছিলো ২১ মেঘাওয়াট। ইভেনিং পিকে চাহিদা ছিলো ৬৩ দশমিক ৭ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৪৭ মেঘাওয়াট। লোডশেড ছিলো ১৬ দশমিক ৭ মেঘাওয়াট।৭ অক্টোবর ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫৪ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ২৮ দশমিক ৮ মেঘাওয়াট।লোডশেড ছিলো ২৫ দশমিক ২ মেঘাওয়াট। ইভেনিং পিকে চাহিদা ছিলো ৬৭মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৪৩ দশমিক ৮ মেঘাওয়াট। লোডশেড ছিলো ২৩ দশমিক ২ মেঘাওয়াট।
৮ অক্টোবর ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫৩ দশমিক ১ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৩৪ দশমিক ৬ মেঘাওয়াট।লোডশেড ছিলো ১৮ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট। ইভেনিং পিকে চাহিদা ছিলো ৬৭ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৬৭ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট। লোডশেড ছিলো শূণ্য।
৯ অক্টোবর ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫০ দশমিক ৮ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৩০ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট।লোডশেড ছিলো ২০ দশমিক ৩ মেঘাওয়াট। ইভেনিং পিকে চাহিদা ছিলো ৬৮ দশমিক ৩ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৪৪ দশমিক ৭ মেঘাওয়াট। লোডশেড ছিলো ২৩ দশমিক ৬ মেঘাওয়াট।১০ অক্টোবর বেলা ১২ টার বিদ্যুৎ সরবরাহের চিত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে,ডে-পিক আওয়ারে চাহিদা ছিলো ৫০ দশমিক ৫ মেঘাওয়াট সরবরাহ ছিলো ৩১ দশমিক ৬ মেঘাওয়াট।লোডশেড ছিলো ১৮ দশমিক ৯ মেঘাওয়াট।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন,চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিনই লোডশেডিং হচ্ছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।