চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের ষোলঘর বিটি রোড এলাকায় জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ফারজানা ইসলাম (৩৭) নামে এক বিধবা নারীকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেবর ও ভাড়াটিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর ১৩ বছর বয়সী ছেলে তালহা ইবনে আলিফকেও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ষোলঘরের খান বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ফারজানা ইসলাম। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে তাঁর ছেলে তালহা ইবনে আলিফকেও মারধর করা হয় বলেও তিনি জানান। সেই মারধরের ঘটনায়ও চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ফারজানা ইসলাম ওই বাড়ির মৃত ইউসুফ খানের স্ত্রী। তাঁর স্বামী ২০২৩ সালে সৌদি আরবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তার অসহায়ত্বের সুযোগে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে বসতঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ফারজানার অভিযোগ, তাঁর দেবর ইসমাইল খান ওরফে কবু, মামা-শ্বশুর আক্কাছ গাজী এবং আক্কাছ গাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ইকবাল বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। এ ছাড়া ভাড়াটিয়া রুবেল খান ও তাঁর বাবাকে দিয়ে তাঁকে মারধর করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা ফারজানাকে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, হাত এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করেন। তাদের আঘাতে ফারজানা রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুতর আহত হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই জায়গাটি সরকারি জমি দাবি করে ফারজানাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, জমিটি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বসতঘর ছাড়তে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময়ে মারধর করছেন তারা।
স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বসবাসরত ফারজানা ইসলাম এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।