মতলব উত্তর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের গাজিরগাছখোলা গ্রামে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুন মোল্লার বসতবাড়িতে প্রবেশের পথে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হাই শিকদারের পরিবার। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সংবাদ ও মানববন্ধনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছেংগারচর পৌর জামায়াত।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার বড়মরাদোন এলাকার মুজাফফর সিকদার কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আব্দুল হাই শিকদারের ছোট ভাই পিজি হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব এবং ছেংগারচর পৌর জামায়াতের আমির রবিউল আলম।
সম্প্রতি মামুন মোল্লার বাড়িতে প্রবেশের পথে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। মামুন মোল্লার স্ত্রী আখি আক্তারের অভিযোগ, বাড়ির প্রবেশপথে বেড়া দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। তাঁর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আশরাফুল সাইকেল নিয়ে বের হতে না পেরে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করছে বলেও জানায়।
অন্যদিকে, আব্দুল হাই শিকদারের পরিবারের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্থানে তাদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থান রয়েছে। কবরস্থানের নিরাপত্তার জন্যই সেখানে বেড়া দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব বলেন, তাদের পূর্বপুরুষদের কবর রক্ষা করা সামাজিক দায়িত্ব। মামুন মোল্লার পরিবার বাড়ি নির্মাণের আগে যাতায়াতের পথের বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারণ করলে এ বিরোধ তৈরি হতো না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমরা তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা তো দিবই। তার দাবি, কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাতায়াতের জন্য তিন ফুট জায়গা দেওয়ার প্রস্তাব তারা আগেই দিয়েছেন। তবে প্রস্তাবিত পথ ও বাড়ির প্রবেশমুখের কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব আরও অভিযোগ করেন, তার ৮০ বছরোর্ধ্ব মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ কাহিনী করা হয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিষয়টি নিয়ে আইনগতভাবে সমাধান করা হবে।
ছেংগারচর পৌর জামায়াতের আমির রবিউল আলম বলেন, গত ১৮ অক্টোবরের মানববন্ধনটি তাদের মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থীকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। তার দাবি, ওই মানববন্ধনে প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকারও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, জমি ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আব্দুল বাসেদ মাস্টার, দুদ মিয়া মোল্লা, মজিবুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিল পাঠান, সিরাজুল ইসলাম সিকদার, আবুল কালাম পাঠান, খোরশেদ পাঠান, বাবু পাঠান, কিবরিয়া পাঠান, সোহরাব পাঠান, কামরুল পাঠান, রবিন প্রধান, নাছির পাঠান ও বাতেন মোল্লাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।