মোঃ জাহিদুল ইসলাম ফাহিমঃ
জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক (মাদ্রাসা)’ নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দক্ষতা, গবেষণা ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।
মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন। সহজ-সাবলীল পদ্ধতিতে পাঠদান, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ যত্ন, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন ও ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
তিনি চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবন সংলগ্ন ও চাঁদপুর সদর হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতীব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণাতেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বিএমটিটিআই), গাজীপুরের অনলাইন আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্সের একজন মাস্টার ট্রেইনার।
শিক্ষাজীবনে তিনি ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস) প্রথম শ্রেণি, চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে বিএ ও এমএ প্রথম শ্রেণি এবং দারুল উলূম ঢাকা থেকে ইফতা বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নজিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ২০২২ সালে তিনি এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. বিলাল হুসাইনের তত্ত্বাবধানে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নরত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘আব্বাসীয় যুগে আরবি অভিধান চর্চা ও বিকাশ’।
জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক (মাদ্রাসা)’ নির্বাচিত হওয়ায় ফরিদগঞ্জের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এ অর্জন শিক্ষা ক্ষেত্রে নিষ্ঠা, মেধা ও গবেষণার প্রতি নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের আরও উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
মাও. মো. মোশাররফ হোসাইনের এ গৌরবময় অর্জনে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ কর্মময় জীবন এবং শিক্ষা ও গবেষণায় আরও সাফল্য কামনা করা হয়েছে।