শিরোনাম:
হবিগঞ্জে ৪১৩তম রোভার স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্স সম্পন্ন শাহরাস্তিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ১৫ ভরণ-পোষণের দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে আফিয়া, স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া, নিম্নমানের খাবার ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন আইন ভাঙলেই ছাড় নয়: জুলাইয়ে চাঁদপুরে ট্রাফিক পুলিশের ১,২৮৫ মামলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ: পারিবারিক রাজনীতির বলির পাঁঠা, তবুও নীতিতে দৃঢ় মতলব উত্তরে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার চাঁদপুরে স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড পোর্টাল ওয়ার্কশপ ফরিদগঞ্জে চুরির আতঙ্ক: এক সপ্তাহে ২০টির বেশি ঘটনা, নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন চাঁদপুর ডিবির জালে বাঘ শাহজাহান

মতলব উত্তরে সোহেল রানা হত্যাকান্ডের ৮ দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন।। আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি প্রদান

reporter / ৩৯৩ ভিউ
আপডেট : সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২

মতলব উত্তর প্রতিনিধি :
মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ষাটনল গ্রামের সোহেল রানা খুনের আসামী মোঃ সিদ্দিক বকাউলকে ১০ এপ্রিল বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হইলে আসামী ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।৯ এপ্রিল অভিযান পরিচালনা করিয়া মুন্সিগঞ্জ হইতে আসামী মোঃ সিদ্দিক বকাউলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হত্যাকান্ডের ৮ দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ।
২ এপ্রিল  মতলব উত্তর থানাধীন পূর্ব ষাটনল (মেহারুল্লাহ প্রধানিয়া কান্দি, পাঠানবাড়ী) গ্রামের জনৈক রোকেয়া বেগমের বসত বাড়ীর পশ্চিম পার্শ্বে খাল পাড়ে কবরস্থান সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে ধানি জমিতে উক্ত গ্রামের সোহেল রানা (২৮) এর মৃতদেহ চোখে ও মাথায় জখম সহ পড়িয়া আছে মর্মে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া দ্রুত থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করতঃ উক্ত মৃতদেহের ময়না তদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে মৃত সোহেল রানার মাতা রোকেয়া বেগম থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করিলে মতলব উত্তর থানার মামলা নং-০২, তাং-০২/০৪/২০২২ইং, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
 উক্ত মামলা রুজু হওয়ার পর চাঁদপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার  মোঃ মিলন মাহমুদ, বিপিএম বার মহোদয়ের নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)  সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মঈনুল হোসেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, মতলব সার্কেল,  মোঃ ইয়াসির আরাফাত, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ  মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)  মোঃ মাসুদ ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই/মোঃ মোবারক আলী উক্ত খুনের মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামীদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের নিমিত্তে তদন্তে নামেন।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারে যে, উক্ত হত্যাকান্ডটি পরকীয়া প্রেম ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে বিরোধের কারণে সংঘঠিত হয়। তদন্তেপ্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আসামী মোঃ মাসুদ রানা ও তাহার স্ত্রী মোসাঃ সুফিয়া দ্বয়কে গ্রেফতার করিয়া বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে  ০৯ এপ্রিল অভিযান পরিচালনা করিয়া মুন্সিগঞ্জ হইতে আসামী মোঃ সিদ্দিক বকাউলকে গ্রেফতার করে। উক্ত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হইলে আসামী ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে যে, ভিকটিম মৃত সোহেল ও গ্রেফতারকৃত আসামী মাসুদ পরষ্পর ফুফাতো/মামাতো ভাই হয়। ভিকটিম সোহেলের সহিত মাসুদের স্ত্রী মোসাঃ সুফিয়ার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং আসামী সিদ্দিকের সহিত জায়গা-জমি বায়না টাকা নিয়া পূর্ব হইতে বিরোধ চলিয়া আসিতেছিল। এই  দুই বিরোধের জের ধরিয়া আসামী মাসুদ, তাহার স্ত্রী সুফিয়া  ও আসামী সিদ্দিক ভাড়াটিয়া খুনীর মাধ্যমে সোহেল কে খুন করিয়া লাশ গুম করিবার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক মামলার ঘটনার দিন আসামী মাসুদ, তাহার স্ত্রী সুফিয়া ভিকটিম সোহেল রানাকে ঘটনাস্থলে ডাকিয়া আনে এবং  আসামী সিদ্দিক বকাউল কর্তৃক ভাড়াটে তিনজন খুনির সহায়তায় ভিকটিম সোহেল কে সিদ্দিক বকাউল  ভিকটিমের গামছা দিয়া মুখ বাধে এবং হাত চাপিয়া ধরে। আসামী মাসুদ লোহার রড দিয়া মাথার পিছনে আঘাত করিয়া খুন করে। তাহার লাশ শিয়ালে খেয়ে বিনষ্ট করিয়াছে মর্মে প্রচার পাওয়ার লক্ষ্যে আসামী সুফিয়ার পরিকল্পনা মোতাবেক সকল আসামীরা ভিকটিমের চোখ ব্লেড দিয়ে উপড়াইয়া ফেলে এবং গুম করার উদ্দেশ্যে মামলার ঘটনাস্থলে তথা ভিকটিমের পারিবারিক কবরস্থানের পার্শ্বে ধানি জমিতে ফেলে রাখে।


এই বিভাগের আরও খবর