শিরোনাম:
মতলবে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক বহিষ্কার মতলবে খামার শ্রমিক হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চরকুমিরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে খতমে শেফা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে গুপ্টিতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মারধরে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ওব্যাট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার বিতরণ চাঁদপুর পৌর এলাকায় স্কাউট সদস্যদের সাথে ইফতার ও রোড ডিউটি পরিদর্শন যানজট নিরসনে মাঠে ফরিদগঞ্জ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

শাহরাস্তিতে ভাতা ও গেজেটে নাম না উঠায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

reporter / ৩৪৬ ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
শাহরাস্তিতে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও গেজেটে নাম না উঠায় মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ মিনারে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের গেজেট ভাতার বিষয়টি নানা জটিলতায়  ঝুলে থাকা বর্তমানে ১৮১ জন মুক্তিযোদ্ধা দুঃখে-কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করছেন।
সোমবার (৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাতের জন্য এসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি খোলাসা করেন। সুবিধা ও ভাতা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বর্তমানে উপজেলায় ভাতা স্থগিত ৩৪ জন, সনদধারী ১৯ জন ও অনলাইনে আবেদনকারী ১শ’ ২৮ জনসহ ১শ’ ৮১ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে ৩৪ জনের ভাতা স্থগিত রয়েছে। ২০১৭ সালে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক ১ শ’ ৮১ জনের তালিকা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। পুনরায় ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাতা স্থগিত ও সনদধারি ৫৩ জনের তালিকা মন্ত্রনালয়ে পাঠান।
মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন পুনরায় যাচাই করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে পাঠানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সে প্রতিবেদন পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রিতায় তাঁরা গেজেটভূক্ত হতে পারছেন না। ইতোমধ্যে এঁদের মধ্যে কেউকেউ মারা গেছেন। অনেকেই মৃত্যুশয্যায়। যারা বেঁচে আছেন তাঁরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তাঁরা সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
খনেশ্বর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলুল হক জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে আমাদের বাছাইয়ের তালিকা না পাঠানোয় আমরা ভাতা বঞ্চিত হয়ে দূর্বিষহ জীবন যাপন করছি। কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রিতায় ভাতা না পেয়ে অনেক দুঃখে কষ্টে দিনাতিপাত করছি। অনেকের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে আছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর পরিধেয় শাড়ি পর্যন্ত ছিঁড়ে গেছে। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। অথচ আজ আমরাই অসহায়।
কুলশী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল হাশেম জানান, বর্তমানে আমি দৃষ্টিহীনতায় ভুগছি। ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের তালিকা জামুকা’তে পাঠানো হচ্ছেনা। সেটা কেন? কি জন্য?  আমাদের কি অপরাধ? সেটার প্রতিকার চাই।
উঘারিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা একেএম ফজলুল হক জানান, আমরা সঠিক মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কেন অবহেলিত সে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
রায়শ্রী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মমতাজউদ্দিন জানান, ভাতা বন্ধ একথা লজ্জায় কাউকে বলতে পারছি না। বিষয়টি নিজের স্ত্রী-সন্তানদের কাছে পর্যন্ত লুকাতে হচ্ছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি লজ্জিত ও বিব্রত। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, বিভিন্ন জটিলতায় এই মুক্তিযুদ্ধারা বাতা ও সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত রয়েছে। জুলে থাকা বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে পরিবারগুলো উপকৃত হতো।


এই বিভাগের আরও খবর