শিরোনাম:
অসহায় ও দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে ছাত্র হিযবুল্লাহর শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাসিরচরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা মতলব উত্তরে শীতার্তদের পাশে ‘নবজাগরণ ঐক্য ফাউন্ডেশন’ মতলবে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, মালামাল লুট মতলব দক্ষিণে পরিত্যক্ত রান্নাঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল মতলব দক্ষিণে ভেটেরিনারি ফার্মেসীগুলোতে অভিযান, চাঁদপুরে সম্পত্তিগত বিরোধ : হাতুড়ির আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু মতলবে সরকারি গাছ নিধন: বনবিভাগ-এলজিইডির দোষারোপে জনরোষ মতলব উত্তরে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

দীর্ঘ ৯ বছর পর চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন রোগীরা অবসরে গিয়েও মানবতায় সেবা দিচ্ছেন ডাঃ গোলাম মোস্তফা

reporter / ২৫১ ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ ৯ বছর পর পুনরায় চোখের চিকিৎসাসেবা পেতে শুরু করেছেন রোগীরা। এতে করে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ রোগীদের মনে।
খবর নিয়ে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে হাসপাতালে নিয়মিত রোগীদের চোখের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অবসর প্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা মজুমদার। তবে তিনি হাসপাতালের শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে নয়, তত্ববধায়কের আবদার, অনুরোধ এবং মানবিক দিক চিন্তা করেই কোন সম্মানী ছাড়াই এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি ছুটির দিন ব্যধিত নিয়মিত হাসপাতালে এ চক্ষু সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে হাসপাতালের চোখের ডাক্তারের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। গত ৯ বছর আগে ওই পদে দায়িত্বে থাকা ডাঃ মনোজ কান্তি বড়ুয়া চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর থেকে সে পদটি আজো শূন্য হয়ে পড়ে। আর স্বাস্থ্য সেবায় এই গুরুত্বপূর্ন পদটি শূন্য থাকার কারনে গত ৯ বছর ধরে হাসপাতালটিতে চক্ষুচিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন সাধারণ রোগীরা।
এর পূর্বে ডাক্তার মনোজ কান্তি বড়ুয়া অবসর নেয়ার পর থেকেই এ পদে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোন কাজ হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। যদিও ৩/৪ বছর পূর্বে একজন নারী চক্ষু চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তিনি ২/৩ মাস দায়িত্ব পালনের পর সেখান থেকে অনত্র বদলী হয়ে যান। সেই থেকে হাসপাতালে এই চক্ষু চিকিৎসক পদগুলো শূন্য পড়ে থাকে। যার কারনে চোখের চিকিৎসাসেবা পায়নি রোগীরা।
প্রতিদিনই চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ রোগীরা চোখের নানা সমস্যা নিয়ে সরকারি এ হাসপাতালটিতে ডাক্তার দেখাতে আসেন। কিন্তু এত বছর ধরে চক্ষু চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ব্যর্থ মনে বাড়ি ফিরেছিলেন রোগীরা।
জেলার এই প্রধানতম সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি চক্ষু চিকিৎসক পদটি শূন্য থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনা করে গত ১ জানুয়ারি থেকে হাসপাতালে আগত রোগীদের নিয়মিত চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ডাঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা মজুমদার। তবে তিনি হাসপাতালের নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে নন, তত্ববধায়কের আবদার, অনুরোধ এবং নিজের বিবেকের তারনায় মানবিক দিক চিন্তা করে কোন সম্মানি ছাড়াই রোগীদের এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
ডাঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা মজুমদার ২০২০ সালে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। এর পর তিনি ওই পদে থেকেই চাকরি থেকে অবসর গ্রহন করেন। অবসরে গিয়েও ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত রোগীদেরকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার এ কে এম মাহাবুবুর রহমান  জানান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদটি শূন্য থাকায়, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আমরা একাধিক বার লিখিত ভাবে আবেদন করেছি। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। এ পদে বিশেষজ্ঞ না পাওয়ার কারণে উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষও এই পদে কোন চিকিৎসক নিয়োগ দিতে পারছেন না। তাই আমরা ডাক্তার গোলাম মোস্তফা মজুমদারকে হাসপাতালে রোগীদেরকে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। তিনি আমাদের আবদার রেখে এখন নিয়মিত রোগীদের এই চোখের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।


এই বিভাগের আরও খবর