শিরোনাম:
অসহায় ও দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে ছাত্র হিযবুল্লাহর শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাসিরচরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা মতলব উত্তরে শীতার্তদের পাশে ‘নবজাগরণ ঐক্য ফাউন্ডেশন’ মতলবে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, মালামাল লুট মতলব দক্ষিণে পরিত্যক্ত রান্নাঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল মতলব দক্ষিণে ভেটেরিনারি ফার্মেসীগুলোতে অভিযান, চাঁদপুরে সম্পত্তিগত বিরোধ : হাতুড়ির আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু মতলবে সরকারি গাছ নিধন: বনবিভাগ-এলজিইডির দোষারোপে জনরোষ মতলব উত্তরে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ‘টর্চার সেল’! 

reporter / ২৫৪ ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৩

 
অর্পণ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রোগী নির্যাতনের অভিযোগ 
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁদপুর শহরের খলিশাডুলি এলাকায় অবস্থিত  অর্পণ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগী কে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদক নিরাময় কেন্দ্রেটিকে একধরনের  টর্সার সেলে পরিনত করেছেন পরিচালক মিতাতের নেতৃত্বে কয়একজন কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে 
নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী তরুন সরকার  জানান, আমাকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করে তারা, আমি আমার পরিবারের কাছে ঔষধ চাওয়ায় কারনে আমাকের শারিরীক নির্যাতন শুরু করেন। এছাড়াও শাহরাস্তি উপজেলার সুচিপাড়ারা এলাকার শরিফ মিজি নামের একজন রোগীকেও ব্যাপক  নির্যাতনের কথা জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানাযায় অর্পণ  মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে  নেই পর্যন্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা কর্মী। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণও নেই। ন্যূনতম মান বজায় রেখে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার নামে চলছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নজরদারির অভাবে  কেন্দ্র হয়ে উঠেছে রোগীদের জন্য”টর্চার সেল” এমন একটি টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে চাঁদপুর শহরের মঠখোলা  এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, “অর্পন মাদকাসক্ত  নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র” নামে বিশেষায়িত এই চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রায়ই ভেসে আসে রোগীর কান্নার আওয়াজ। কখনো কখনো রাতে গগণবিদারী কান্নায় ঘুম ভেঙে যায় তাদের। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিরাময় কেন্দ্রটিতে প্রতিদিনই রোগীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করে থাকে। ভিতরে চিকিৎসাসেবা দানের আড়ালে যে আলাদা টর্চার সেল রয়েছে যে তা তাদের অজানা ছিল। ১২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে   ওই নিরাময় কেন্দ্রে থাকা তরুন সরকার নামক একজন রোগী   অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনই তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি বলেন, মারধর করা, ঘুষি দেওয়া এবং শাস্তি হিসেবে না খাইয়ে রাখা হয়। কখনো রাতের বেলা দাঁড় করিয়ে রাখে। খাবারের কোনো নিয়ম নেই। পঁচাবাসি খাবার জোর করে খাওয়ানো হয়। শুধু কথায় কথায় মারধর আর ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোই এখানকার চিকিৎসা। তিনি আরও বলেন, আসক্তির কারণে অস্থির হয়ে উঠলে কর্মীরা আমাকে লাঠি দিয়ে পেটান। গোপনাঙ্গে মেরে জখম করে দেন। কিল ঘুষি তো আছেই। মাঝে মাঝে এই অমানবিক আচরণ সহ্য করতে আমার মতো অনেকেই গলা ছেড়ে চিৎকার করি। কেউ আমাদেরকে বাঁচাতে আসে না। সবাই মনে করে এখানে চিকিৎসা হচ্ছে।
 কেন্দ্রের ইনচার্জ মিতাত তাদেরকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প  দিয়ে পায়ের ও ঘাড়ের মধ্যে চেপে ধরে মারধর করে। আমার হাত আঘাত করলে আমার ডান হাত গুরতর আঘাত প্রাপ্ত হই। এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তার না দেখানোর কারনে আমরা হাত এখন প্রায় অকেজো আমি এখন কাজ  করতে পারছি না।
অভিযোগের বিষয়ে অর্পণ মাদকাসক্তির পরিচালক মিতাত হোসেন মুঠোফোনে  বলেন এ ধরনের অভিযোগ উদ্দেশ্য মুলক। আমরা কাউকেই নির্যাতন করিনা।
এ ব্যাপারে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন জানান মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে কোন রোগী কে নির্যাতন করার সুযোগ নাই, অর্পন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রটি এখনো অনুমতি পায়নি তাদের বিরুদ্ধে যদি এধরণের লিখিত  অভিযোগ কোন রোগীর পরিবার করে থাকে তাহলে উক্ত অভিযোগ টি আমাদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, এবং  তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর