সরকারকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে এসব ফোন কেনাবেচার কারণে একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অন্যদিকে গ্রাহকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া এসব মোবাইল রেজিস্ট্রেশনও করা যায় না। এতে করে মোবাইল চুরি হলে আইএইমইআই নম্বর না থাকার কারণে ফোন উদ্ধার করা যায় না। ক্রেতারা আইনগত ও প্রশাসনিক ঝামেলার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এই সমস্ত দোকানগুলোতে রয়েছে আইফোন সেভেন, স্যামসাং, অপ্পু, আইটেল, শাওমি সবগুলোই দামি ব্র্যান্ডের ফোন। দামও জানালেন ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই।
এতো কম দামের কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কেটের এক ব্যাবসায়ী জানান, সেটের দাম শুনে বুঝে নেওয়া উচিৎ এগুলোর মধ্যে হয়তো সেল রিসিট, বক্স অথবা চার্জারের কোন ঝামেলা রয়েছে। এখান থেকে সেট কিনলে নিজের দায়িত্বেই কিনে নিতে হবে। কম দামে যারা দামি ব্র্যান্ডের সখ মেটাতে চান তারাই এখান থেকে সেট কেনেন। অনেকে পুরাতন সেটের উপরে নতুন কেসিং লাগিয়ে অরিজিনাল ব্র্যান্ডের নতুন ফোন বলে বিক্রি করেন। অরিজিনাল ব্র্যান্ডের যত ফোন থাকবে সেগুলো দেখতে যেমনই হোক সেগুলো পুরাতন। অনেক পুরাতন সেটে বিভিন্ন সমস্যা থাকে। সেগুলো ঠিকঠাক করেও এখানে দোকানিরা বিক্রি করেন। প্রতিদিন অনেক ধরনের মানুষ আসে এখানে পুরাতন মোবাইল বিক্রি করতে। তাদের দেখলেই বোঝা যায়, অনেকেই মাদকাসক্ত। এছাড়া, দোকানিদের সঙ্গে মোবাইল চুরি পার্টির এক ধরনের যোগসাজস রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পুরাতন মোবাইল কিনতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবক বলেন, দামে কম হওয়ায় ঝুঁকি আছে জেনেও চোরাই মোবাইল নিয়েছি। শো-রুমের চেয়ে অনেক কম দামে এখানে মোবাইল পাওয়া যায়। মার্কেটে যে মোবাইল ২০-২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সে মোবাইল এখান থেকে অর্ধেক দামে পাওয়া যায়।
চাঁদপুর শহরের মোবাইল ব্যবসায়ীরা বলেন, চোরাই মোবাইলের জন্য আমাদের ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলে চোরাই মোবাইল বেচাকেনা। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার। এসব চোরাই মোবাইল বেচাকেনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্থানীয় কিশোর গ্যাং জড়িত। বর্তমানে আইফোনের প্রতি বেশি ঝোঁক ক্রেতারা। চোরাই আইফোনের আইএমই নম্বর ফ্লাশ দিয়ে পরিবর্তন করে বিক্রি করছে দোকানদারের কাছে। এর সাথে সম্পৃক্ত মোবাইল ফোন বিক্রেতা, টেকনিশিয়ান, চোর ও ছিনতাইকারীরা রয়েছেন। প্রশাসন চাইলে আইন প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল ইয়াসির আরাফাত বলেন, সদরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি রয়েছে। যারা চোরাই মোবাইল ফোন বেচাকেনা করে প্রমাণ পেলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, মোবাইল ফোন সহ নতুন যে কোন ডিভাইস যারা কিনবেন অবশ্যই সম্পূর্ণ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ক্রয় করবেন। এতে ক্রেতা এবং বিক্রেতারা আইনি ঝামেলায় পড়তে হবে না।
চোরাই মোবাইল ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের প্রতি আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান চাঁদপুরের সচেতন মহল।