শিরোনাম:
মতলবে খামার শ্রমিক হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চরকুমিরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে খতমে শেফা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে গুপ্টিতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মারধরে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ওব্যাট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার বিতরণ চাঁদপুর পৌর এলাকায় স্কাউট সদস্যদের সাথে ইফতার ও রোড ডিউটি পরিদর্শন যানজট নিরসনে মাঠে ফরিদগঞ্জ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মতলব-ঢাকা রুটের বাসগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলে রূপগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসের কার্যক্রম

reporter / ৩০৭ ভিউ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২

মাহবুব আলম প্রিয়ঃ
নারায়ণগঞ্জের ২শত বছরের পুরনো অতিঃ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যক্রম। এতে ভুমি অফিসের কর্মকর্তা,কর্মচারী ও ভুমি সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা রয়েছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। এদিকে ভবনটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে হওয়ায় ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও সংস্কার করতে পারছেন না স্থানীয় প্রশাসন।
 স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর মুড়াপাড়ার জমিদার  জগদীশ চন্দ্র তার পরিবার নিয়ে কলকাতা গমন করেন। এরপর থেকে জমিদার বাড়ি ও আশপাশের ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন সরকার মুল বাড়িটি দখল  নেয়। এছাড়াও পাশের মঠের ঘাট এলাকায় থাকা জমিদার পরিবারের অপরবাড়িও দখলে নেয়।  এখানে মুল বাড়িতে হাসপাতাল ও কিশোরী সংশোধন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে এখানে স্কুল ও কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করা হত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উভয় বাড়ির দায়িত্ব গ্রহণ করে সেটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বর্তমানে ৪০ একরের জমিদার বাড়িটি মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নামে পরিচিত। এবং পাশের মঠের ঘাট এলাকার  ভবনটিতে রূপগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মূল জমিদার বাড়ির
দ্বিতল ভবনে প্রায় ৯৫টি কক্ষ এবং মঠের ঘাটস্থ ভবনে আরো ১৭টি কক্ষ রয়েছে।
বর্তমান দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্প্রতি সেত্রাং নামীয় ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভুমি অফিসের মুল ছাঁদ ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি কক্ষের ছাঁদের পলেস্তরা খসে, কাঠ পঁচে পড়ে যাচ্ছে নিচে। এর পাশেই নিয়মিত কাজ করছেন ভুমি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। শতশত সেবা গ্রহীতারাও ভির করছেন তাদের জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য।
রূপগঞ্জের  প্রবীণ সাংবাদিক আলম হোসেন জানান, মুড়াপাড়া তেমন কোন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া না গেলেও মুড়াপাড়ায় দুজন জমিদারের নাম জড়িয়ে আছে। তারা হলেন হরেন্দ্র নারায়ন ব্যাণার্জি এবং জ্ঞানেন্দ্র নারায়ন ব্যানার্জী। তারা ১৯০৪ সালের এর আগে এখানে জমিদারীর গোড়পত্তন করেন। এই এলাকায় তারা বিশাল জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। যা বর্তমানে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ীর মুড়াপাড়া সরকারি কলেজ এবং উপজেলা ভুমি অফিস হিসেবে পরিচিত।  মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িটি স্থাপনার কাজ ১৭৮৯ সালে রাজা রাম রতন ব্যানার্জী নামের তৎকালীন হিন্দু রাজা শুরু করেন প্রাসাদটির নির্মাণ কাজ শেষ হতে প্রায় ১০ বছর লেগে যায় ১৭৯৯ সালের কিছু পূর্বে জমিদার বাড়িটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এই এলাকায় তারা প্রায় ১৩০ বছরেরও বেশি সময় রাজত্ব করেন।
এদিকে ভূমি অফিস সূত্র জানায়,  গ্রাহকেরা  অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান সুবিধার কারণে নাগরিক হয়রানি অনেক হ্রাস পেয়েছে। ফলে ভুমি অফিসে গ্রাহকেরা কম আসছেন,কিন্তু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাধ্য হয়েই এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুমি অফিসে কর্মরত প্রবীণ চাকুরীজীবি মোবারক হোসেন বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৪০ দিনেই সারা দেশে প্রায় ৪০ কোটি টাকার বেশি ভূমি উন্নয়ন কর আদায় হয়েছে। রূপগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিস থেকেও জেলার সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। কিন্তু একটি নিরাপদ ভবন পাচ্ছে না।  ফলে যারা এখানে কাজ করছে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন।
এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ বলেন, সম্প্রতি সেত্রাং নামীয় ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে পুরনো ভবনের ভূমি অফিসের ক্ষত আরো দেখা গেছে। এ ভবন প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হওয়ায় আমাদের সংস্কার বা কোনরূপ পরিবর্তনের সুযোগ ছিলো না। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি চলে আসে। এতে ভুমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নষ্ট হচ্ছে। তবে একটি বিকল্প রেকর্ডরূম তৈরী হলেও আমরা যারা দায়িত্ব পালন করছি, অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছি। এসব বিষয়ের সমাধান ও নতুন ভবনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর