শিরোনাম:
শাহরাস্তিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ১৫ ভরণ-পোষণের দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে আফিয়া, স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া, নিম্নমানের খাবার ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন আইন ভাঙলেই ছাড় নয়: জুলাইয়ে চাঁদপুরে ট্রাফিক পুলিশের ১,২৮৫ মামলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ: পারিবারিক রাজনীতির বলির পাঁঠা, তবুও নীতিতে দৃঢ় মতলব উত্তরে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার চাঁদপুরে স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড পোর্টাল ওয়ার্কশপ ফরিদগঞ্জে চুরির আতঙ্ক: এক সপ্তাহে ২০টির বেশি ঘটনা, নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন চাঁদপুর ডিবির জালে বাঘ শাহজাহান দেশসেরা কর্মচারী এখন হাজীগঞ্জের গর্ব

ভরণ-পোষণের দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে আফিয়া, স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ

reporter / ১২ ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ জাহিদুল ইসলাম ফাহিম:

৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন সংসার করেছেন আফিয়া বেগম। তবে দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর কাছ থেকে ভরণ-পোষণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। ন্যায্য অধিকার ও পারিবারিক সমস্যার সমাধান চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়া এবং পরে তাঁর পক্ষে কথা বলায় স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) হামলায় আহত হয়ে আফিয়া বেগমের ভগ্নিপতি মো. জাহিদুল ইসলাম শাওন ও তাঁর ছোট বোন জান্নাতুল সাহারা ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম শাওন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

৯ নম্বর গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়া আফিয়া বেগমের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছর আগে নুরু ছৈয়ালের তৃতীয় ছেলের সঙ্গে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

আফিয়া বেগমের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে তাঁর স্বামী বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিতেন। প্রায় দুই বছর আগে বিদেশে যাওয়ার কথা বলে তাঁর নামে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নেন তাঁর স্বামী। এছাড়া আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা ধার নিয়ে তিনি বিদেশে চলে যান। যাওয়ার সময় আফিয়া বেগমকে বাবার বাড়িতে রেখে যান।

এরপর থেকে স্বামী তাঁর কোনো খোঁজখবর নেননি এবং ভরণ-পোষণের জন্যও কোনো অর্থ দেননি বলে অভিযোগ আফিয়ার। এতে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান। এমনকি স্বামী তাঁকে নিজে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভরণ-পোষণ ও পারিবারিক সমস্যার সমাধান চেয়ে ৯ নম্বর গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দিতে যান আফিয়া বেগম। তাঁর অভিযোগ, পরিষদে যাওয়ার পর তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টাও করা হয়। পরে পরিষদে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে দাবি করেন তিনি।

আফিয়া বেগম বলেন, “আমি কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চাই না। দীর্ঘদিন ধরে ভরণ-পোষণ না পেয়ে অসহায় অবস্থায় আছি। ন্যায়সংগত সমাধানের আশায় ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছি। আমার সঙ্গে আমার ভগ্নিপতি শাওন গিয়েছিলেন। তিনি আমার পক্ষে কথা বলেছেন, এ কারণেই তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে।”

 

শাওনের দাবি, আফিয়া বেগমের অভিযোগের বিষয়ে সহযোগিতা করার কারণেই তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আফিয়া বেগমের মেয়ের জামাই বাদল হাসান। তিনি বলেন, “শাওন ও তাঁর খালাতো ভাই মোহাম্মদ আলী আমার শাশুড়ির বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি করছিলেন। আমি তাঁদের থামাতে যাই। একপর্যায়ে শুনি, শাওন আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে গেছে।”

আফিয়া বেগমের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৯ নম্বর গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি জানান, আফিয়া বেগম নামের এক নারী এ ধরনের একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমগীর বলেন, অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। বিষয়টি আত্মীয়স্বজনদের মধ্যকার হওয়ায় উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনো পক্ষ সমঝোতায় না এলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি আদালতে পাঠানো হবে।

দীর্ঘ ৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর কাছ থেকে ভরণ-পোষণ না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে এখন ন্যায়সংগত সমাধানের অপেক্ষায় আফিয়া বেগম। তাঁর দাবি, লিখিত অভিযোগ ও হামলার ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধটির শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সংগত সমাধান করা হোক।


এই বিভাগের আরও খবর