নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল থেকে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, নিম্নমানের ও বাসি খাবার পরিবেশন, যাত্রী হয়রানি এবং পরিবেশ দূষণ বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে লঞ্চ মালিক, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি যাত্রীবাহী লঞ্চে দৃশ্যমান স্থানে হটলাইন নম্বর টানাতে হবে, যাতে যাত্রীরা সহজেই অভিযোগ জানাতে পারেন। কোনো লঞ্চ থেকে নদীতে বর্জ্য ফেলা যাবে না এবং এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। কেবিনের সামনে অতিরিক্ত চেয়ার বসানো কিংবা ডেকে অপ্রয়োজনীয় ভিড় সৃষ্টি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, লঞ্চের টয়লেট সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত ও তাজা খাবার বিক্রি করতে হবে। বাজারমূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি কিংবা বাসি খাবার পরিবেশন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে মোটরসাইকেল পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চাঁদপুর নৌরুটে রকেট স্টিমার পুনরায় চালুর বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সভায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর নদীবন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, ক্যাব ও লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, আজগর আলী সরকার ও ইউসুফ আলী বেপারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর নদীবন্দরের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম, চাঁদপুর নৌ থানার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় বক্তারা জানান, ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথে বর্তমানে ২০ থেকে ২২টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলাচলকারী এসব লঞ্চে ৫০০ থেকে সাড়ে ৯০০ জন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে লঞ্চ মালিকরা কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তারা বলেন, ক্যান্টিনে বাসি খাবার পরিবেশন ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ একযোগে কাজ করবে।