শিরোনাম:
মতলবে খামার শ্রমিক হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অপরাধে ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে জরিমানা ফরিদগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চরকুমিরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে খতমে শেফা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে গুপ্টিতে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মারধরে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ওব্যাট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের ইফতার বিতরণ চাঁদপুর পৌর এলাকায় স্কাউট সদস্যদের সাথে ইফতার ও রোড ডিউটি পরিদর্শন যানজট নিরসনে মাঠে ফরিদগঞ্জ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ মতলব-ঢাকা রুটের বাসগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

অত্যাচারি দুই শাসকের স্মৃতি চিহ্ন ফরিদগঞ্জের ঐতিহাসিক লোহাগড় মঠ

reporter / ৮০৮ ভিউ
আপডেট : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মোঃ জাহিদুল ইসলাম ফাহিমঃ
লোহাগড় মঠ  চাঁদপুর জেলায় অবস্থিত  মঠ।প্রায় চার থেকে সাত শতাব্দী পুরাতন প্রাচীন নিদের্শন এই মঠ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নে  লোহাগড় গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর পাশে অবস্থিত। যা লোহাগড় জমিদার বাড়ির জমিদাররা তৈরি করেছিলেন।
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনামলে বর্তমান বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের লোহাগড় গ্রামে মানিক সাহা (লৌহ) ও রূপক সাহা (গহড়) নামের দুই সহদোর ভাই এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে তাদের উপ নামানুসারে উক্ত গ্রামের নাম লোহাগড়।
 তখনকার সময়ে তারা উক্ত এলাকার খুবই প্রভাবশালী ও অত্যাচারী জমিদার ছিলেন। যা এখনো উক্ত এলাকা এবং আশেপাশের এলাকার লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। তাদের প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল। তারা মূলত প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হয়েছেন লবণের ব্যবসা করতে গিয়ে। তবে লবণের ব্যবসা দিয়ে নয়। একদা নদীপথে নৌকায় করে লবণ নিয়ে যাবার সময় নদীর পানির শ্রোতের সাথে কাঁচা টাকা নামতে দেখেন। তখন তারা নৌকায় থাকা লবণ ফেলে দিয়ে ঐ টাকাগুলো নৌকায় ভরে নেন। আর এই থেকেই প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন। তাদের এতোই ধন-সম্পদ ছিল যে, তারা তাদের বাড়ি থেকে ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত সিকি ও আধুলী দিয়ে রাস্তা তৈরি করেছিল। এছাড়াও ডাকাতিয়া নদীর কুলে তাদের বাড়ির এবং জমিদারীর অবস্থানের নির্দেশিকাস্বরূপ পাঁচটি সুউচ্চ স্তম্ভ লোহাগড় মঠ নির্মাণ করেন। তাদের আর্থিক প্রতিপত্তির নিদর্শনস্বরূপ তারা মঠের শিখরে একটি স্বর্ণদ­ণ্ড (স্বর্ণের কুলা) স্থাপন করেন। প্রচুর ধন-সম্পদের পাশাপাশি তারা অনেক অত্যাচারী জমিদারও ছিলেন। একদা তাদের মা তাদের কাছে আম ও দুধ খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। তখন তারা দুই ভাই একটি বড় পুকুর খনন করে তাদের জমিদারীর আওতাভুক্ত সকল প্রজাদেরকে আদেশ দেন যে তাদের যত আম এবং দুধ রয়েছে তা এই পুকুরটিতে ঝড়ো করার জন্য এবং প্রজারা তাদের কথামতো তাই করেন। এরপর তারা তাদের মাকে উক্ত পুকুরে আম, দুধ খাওয়ার জন্য ফেলে দেয়। আর এতে তাদের মা মৃত্যুবরণ করেন। আর তা দেখে তারা দুই ভাই অট্টো হাসিতে মজে, গ্রামবাসীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এছাড়াও তারা এতোই অত্যাচারী ছিল যে, তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে কোনো গর্ভবতী মহিলা হেটে যাওয়ার সময় তারা দুই ভাই বাজি ধরতো এই বলে যে, এক ভাই বলতো এই মহিলার পেটে ছেলে সন্তান রয়েছে। অন্য ভাই বলতো এই মহিলার পেটে মেয়ে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে তা যাচাই করার জন্য ঐ গর্ভবতী মহিলার পেট কেটে তারা তা যাচাই করত। এইভাবে যে জয়লাভ করতো সে অট্টোহাসিতে ভেঙ্গে পড়ত আর আনন্দ উপভোগ করত। একটি সূত্র থেকে জানা যায় ব্রিটিশদের হাতে পতন হওয়া বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বাসঘাতক কর্মচারী রাজবল্লভের ছেলে কৃষ্ণবল্লভ খাজনার টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে এসে এই জমিদার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমানে এখানে এই জমিদার বাড়ির কোনো বংশধর নেই।


এই বিভাগের আরও খবর