বিশেষ প্রতিনিধিঃ চাঁদপুর পৌরসভায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে ভুয়া নিয়োগে চাকুরি দেয়ার কথা বলে টাকা আদায় করায় কাজী শামীম হাবিব ও সাইফুল ইসলাম নামের দুই প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলের নির্দেশে শহরের চিত্রলেখার মোড়ের গাজী বোর্ডিং এর তৃতীয় তলার ১০১নং কক্ষ থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ৯ টায় তাদেরকে আটক করা হয়।
প্রতারক কাজী শামিম হাবিব চট্টগ্রাম জেলার পিসি রোড নিমতলার কাজী হানিফের ছেলে ও সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঢাকায়।
প্রতারনার শিকার হওয়া মোঃ মাঈনুদ্দিন ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোয়ালভাড় ইউনিয়নের দঃ হাঁসা গ্রামের আঃ রাজ্জাকের ছেলে। সে পেশায় একজন গাড়ীচালক।
এ সময় চাঁদপুর পৌরসভার মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মেহেদী হাসান, গাড়ী চালক জাহাঙ্গীর হোসেন, পানি শাখার মাহবুব হোসেন ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের গাড়ী চালক মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ মাঈনুদ্দিন জানায়, আগামী ১৭ নভেম্বর চাঁদপুর পৌরসভার অফিস সহকারি পদে নিয়োগ দেয়া হবে এই মর্মে কাজী শামীম এর সাথে চাকুরী পেয়ে দেয়ার সুবাধে আড়াই লক্ষ চুক্তি হয়। চুক্তি ভিত্তিতে গতকাল বুধবার সকালে শহরের গাজী বোডিং এর ১০১নং কক্ষে প্রতারক কাজী শামীমকে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়।
এদিকে মোঃ মাঈনুদ্দিন রাতে পুনরায় প্রতারক কাজী শামীম ও সাইফুলকে ২৫ হাজার টাকা দিতে আসলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই আব্দুল আলিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে প্রতারক চক্র কাজী শামীম ও সাইফুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তবে বাকী ২ লক্ষ টাকা চাকুরী পাওয়ার পর দিবে বলে মাঈনুদ্দিনের সাথে প্রতারক চক্রের চুক্তি হয়।
আটকের পর জানা যায়, প্রতারক চক্র চাঁদপুর পৌরসভার সচিবের স্বাক্ষর জাল করে একটি নিয়োগপত্র মাঈনুদ্দিকে প্রদান করেন। কিন্তু সচিব নামে বর্তমানে চাঁদপুর পৌরসভায় কোন পদ নেই। পূর্বের সচিব পদটি বর্তমানে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রতারক চক্র জানতো না।
চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক সচিব বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, চাঁদপুর পৌরসভায় বর্তমানে সচিব নামে কোন পদ নেই। এছাড়া পৌরসভায় কোন নিয়োগ হবে তা পৌর কর্মকর্তা হিসেবে আমার জানা নেই। বিষয়টি তারা সম্পূর্ণ প্রতারণা করেছে।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল জানান, এ প্রতারক চক্রকে আটক করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। এ প্রতারক চক্রের মূল হোতা এবং এদের সম্পূর্ণ ঠিকানা অবশ্যই জানতে হবে।