সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে জুলাই মাসজুড়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশ। মাসব্যাপী এ অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ২৮৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬১টি মামলার নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে ২১১টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই মাসে দায়ের হওয়া ১ হাজার ২৮৫টি মামলার মধ্যে বাসের বিরুদ্ধে ৮টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ৩৭টি, পিকআপের বিরুদ্ধে ৫৭টি, কাভার্ডভ্যানের বিরুদ্ধে ৮টি, প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে ৭টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ২২৬টি, ইজিবাইকের বিরুদ্ধে ৯৫টি, ভ্যান ও রিকশার বিরুদ্ধে ১২৫টি, মাইক্রোবাসের বিরুদ্ধে ১০টি এবং সর্বাধিক ৭১২টি মামলা মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।
জুলাই মাসের অভিযানে জব্দ হওয়া ২১১টি যানবাহন বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এছাড়া জুলাই মাসের আগ থেকেই আরও ১০৯টি জব্দকৃত যানবাহন ট্রাফিক বিভাগের হেফাজতে রয়েছে, যা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট মামলার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালানো, হেলমেট ব্যবহার না করা, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অনিয়ম, অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, মহাসড়ক ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট, মোবাইল টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাই, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) প্রবীর কুমার দাশ বলেন, “সড়কে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই নিয়মিত চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা কমানো। যারা ট্রাফিক আইন অমান্য করবেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন চালাবেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে নামাবেন কিংবা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান।”
তিনি বলেন, “জরিমানা আদায়ই আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চালক ও পথচারী সবাই সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমবে, যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।”
চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক ব্যবহারকারী সকলের প্রতি ট্রাফিক আইন মেনে চলা, প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ এবং নিরাপদে যানবাহন চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে চাঁদপুরে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।