চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম লুৎফর রহমান (লুতু) পাটোয়ারীর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৪ অক্টোবর শুক্রবার।
মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ শুক্রবার বাদ আসর চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার বাগাদী সড়কস্থ মরহুমের নিজ বাড়িতে (পাটোয়ারী বাড়িতে) আত্মার মাগফেরাত কামনায় কবর জিয়ারত, দোয়া, মিলাদ ও তবরক বিতরণ করা হবে বলে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম লুৎফর রহমান (লুতু) পাটোয়ারী ২০১৩ সালের ১৪ অক্টোবর দুপুরে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদিন দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে তিনি চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীস্থ নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সাথে সাথেই তাঁকে শহরের হাজী মহসিন রোডস্থ প্রিমিয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরদিন ১৫ অক্টোবর চাঁদপুর পৌর ঈদগাহে মরহুমের জানাজা শেষ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি ১ ছেলে ২ মেয়ে রেখে যান।
জানা যায়, জাতির গর্বিত সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ লুৎফর রহমান পাটোয়ারী চাঁদপুরবাসীর কাছে জনতার লুতু ভাই নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি এক যুগের অধিক সময় ধরে চাঁদপুর শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন এবং তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন (প্রায় ২৩ বছর)। অসহায়, নিরীহ দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষের কাছে ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য একজন শ্রদ্ধার ব্যক্তিত্ব।
তিনি সারা জীবন প্রকৃত মানবসেবায় রাজনীতি করে গেছেন। তিনি ছিলেন এক উদার মনের মানুষ। তার বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে দীর্ঘদিনের সামাজিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে, যা চাঁদপুরের মাটি ও মানুষ এখনো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। ওনার মৃত্যুর দিনটি ছিল পবিত্র হজ্জের দিন এবং সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গা পূজার বিসর্জনের দিন, চাঁদপুরের সনাতন ধর্মালম্বী মানুষ তার মৃত্যুতে সম্মান জানাতে সিদ্ধান্ত নেয়, বাদ্য বাজনা ছাড়াই মৌনভাবে বিসর্জন অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে। যা চাঁদপুরের ইতিহাসে এক নজির স্থাপন করে।
মরহুমের সুযোগ্য পুত্র আবুল বারাকাত লিজন পাটোয়ারী বলেন, আমার বাবা তার জীবদ্দশায় মানুষের সেবা করে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ১৪ অক্টোবর আমার বাবার ৯ম মৃত্যুবার্ষীকি। আমার বাবার আত্মার মাগফেরাত কামনার জন্য আমি সকালের নিকট দোয়া যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, আমার পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত ও মানুষের সেবা করার লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা পরিষদের নির্বাচনে আমি সদর ১নং ওয়ার্ড থেকে একজন সদস্য প্রার্থী হয়েছি। আমি আমার পিতার অর্জিত সুনাম যাতে ধরে রাখতে পারি, মানুষের সেবা করতে পারি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করতে পারি সে জন্যও সকলের নিকট দোয়া চাচ্ছি।