শিরোনাম:
অসহায় ও দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে ছাত্র হিযবুল্লাহর শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাসিরচরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা মতলব উত্তরে শীতার্তদের পাশে ‘নবজাগরণ ঐক্য ফাউন্ডেশন’ মতলবে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, মালামাল লুট মতলব দক্ষিণে পরিত্যক্ত রান্নাঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল মতলব দক্ষিণে ভেটেরিনারি ফার্মেসীগুলোতে অভিযান, চাঁদপুরে সম্পত্তিগত বিরোধ : হাতুড়ির আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু মতলবে সরকারি গাছ নিধন: বনবিভাগ-এলজিইডির দোষারোপে জনরোষ মতলব উত্তরে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

শাহরাস্তিতে উপজেলা পর্যায়ে সপ্রাবি’র শ্রেষ্ঠ সভাপতি মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী

reporter / ২৫৯ ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রাফিউ হাসান হামজাঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা পর্যায়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ সভাপতি হিসেবে মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী’র নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শাহরাস্তি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২২ বাছাই কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ূন রশিদ ও মোঃ লুৎফুর রহমান ভুঁইয়ার যৌথ স্বাক্ষরে গত ১১ সেপ্টেম্বর/২০২২ তারিখে ওই শ্রেষ্ঠ সভাপতির নাম ঘোষণা দেওয়া হয়।
এছাড়া একই তারিখে উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক, শিক্ষিকা, শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রেষ্ঠ এস,এম,সি, শ্রেষ্ঠ ক্যাব শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নামের তালিকা ঘোষণা দেওয়া হয়।
মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী’র জন্ম ১লা ডিসেম্বর ১৯৫৯ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কেশরাঙ্গা গ্রামের এক সুনামধন্য পরিবারে। পিতা মরহুম মোঃ আজিজুর রহমান পাটোয়ারী। ২ ছেলে ৩ মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে আদরের ছিলেন তিনি। ভাই-বোন সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-লেখা শেষ করে আজ স্ব-স্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত।
শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নস্থ কেশরাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতেই তার শিক্ষা জীবনের হাতে-খড়ি। আর সেই বিদ্যালয়ের সভাপতি হয়ে সুনামের সহিত দীর্ঘ ৬ বছর একটানা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ১৯৭৫ সালে এসএসসি, ঢাকা নটরডেম কলেজ হতে ১৯৭৭ সালে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম. কম ( ফিন্যান্স) ১৯৮১ সালে পাশ করে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি কর্মজীবনে উন্নতির শিখরে পৌঁছে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোঃ লিমিটেড কুমিল্লাতে সুনামে সহিত দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্বও তিনি সুনামের সাথে পালন করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাখরাবাদ গ্যাস অফির্সাস ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের দুই বার সভাপতির দায়িত্ব পালন, পেট্রোবাংলার অফিসারদের পেট্রোমিন এসোসিয়েশনের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই এসোসিয়েশন  এর আজীবন সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রাট গ্রাজুয়েট । জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদ, কুমিল্লা’র ১৫ বছর ধরে সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংস্কৃতিক সংগঠন খেলাঘর,কচিকাচার আসরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে ছিলেন।পাশাপাশি কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের দীর্ঘদিন টেন্ডার কমিটির সদস্যও তিনি ছিলেন।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ২ ছেলের বাবা তিনি। ছেলেরাও আজ শিক্ষিত হয়ে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার পেশায় থেকে বাবার মতো সমান আলোয় আলোকিত করছে এই ভুবন।
গত ৬ বছরে বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ করেছেন, যার জন্য সব সময় এই বিদ্যালয়টি দিন দিন উন্নতি করছে, এমনটাই ধারণা বিদ্যালয়ের পাঠদানকারী শিক্ষক ও কর্মচারী সহ অভিভাবক মহলের। বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষক ও দায়িত্বশীল কমিটির সকলের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি সভাপতি হয়ে আসার পর থেকেই বিদ্যালয়ের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, সকলের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা গরীব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, পোশাক তৈরী, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্রয় ও সজ্জিতকরণের লক্ষ্যে নিজের অর্থ অকাতরে বিলিয়েছেন এই সাদা মনের মানুষটি। প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পুরষ্কার বিতরণ, সবুজ বনায়নের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফ্রি চারা গাছ বিতরণ, অভিভাবক ও মা সমাবেশে নিজে উপস্থিত থেকে অভিভাবক ও শিক্ষকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, করোণাকালীন সময়ে চিকিৎসা উপকরণ বিতরণসহ আরও নানা কাজে সামনের থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরেই ঢাকা থেকে প্রায় ২২ জন ডাক্তার এনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীসহ প্রায় তিন হাজার লোকের জন্য বিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করে পুরো উপজেলায় সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। করোণাকালীন সময়ে সরকারী বিধি নিষেধাজ্ঞার জন্য না পারলেও শীঘ্রই বিদ্যালয়টির শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মিলন মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
শ্রেষ্ঠ সভাপতি হিসেবে উপজেলায় মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী’র নাম আসায় তার অভিব্যক্তি জানতে চাইলে তিনি  প্রতিবেদককে জানান, এই অর্জন আমার একার নয়। আমার বিদ্যালয়ের প্রতিজন শিক্ষক, অভিভাবক, এলাকাবাসী, আমার পরিবার ও সন্তানেরা এর অংশীদার। তাদের সহযোগিতা মনোভাব না থাকলে আমি আজ এই পর্যন্ত আসতে পারতাম না। স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। বিদ্যালয় নিয়ে যখন যা আবদার করেছি, তিনি তা পূরণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
কেশরাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা আক্তার বলেন, একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে আমাদের বর্তমান সভাপতি জনাব মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী অতূলনীয় ব্যক্তি। যিনি তার চাকুরীর অবসর জীবনের পুরোটা সময় আমাদের বিদ্যালয়ের উন্নয়নের চিন্তায় ব্যয় করেন। আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবক সকলের খোঁজ খবর তিনি প্রতিদিন নেন। এজন্যই সকলের প্রিয় ব্যক্তি হিসেবে আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।


এই বিভাগের আরও খবর