শনিবার ২৬ নভেম্বর দুপুরে চাঁদপুর মডেল থানায় ডাকাত জুলহাস কে মতলব উত্তর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১১ টায়৷ চাঁদপুর সদর উপজেলার মহমায়া বাজারের পশ্চিম পাশে কামারভাঙ্গা ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের জুলহাস মিজি দুলু ও ইউপি সদস্য লাকী বেগম এর ছেলে মোঃ সজিব মিজি ও সাগর মিজি। তারা মহমায়া বাজারের প্রিন্স এক্সপোর্ট গ্যালারীর মালিক।
ডাকাত জুলহাস ওরফে আরিফ কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের রাজারামপুর ইউনিয়নের দৌলত মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। যার নং-৩৮।
ভূক্তভোগী সজিব মিজি জানান, প্রতিদিনের মত দোকান বন্ধ করে ছোট ভাই সাগর মিজিকে নিয়ে রাত সাড়ে ১১ টায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। মহমায়া বাজারের পশ্চিম পাশে কামারভাঙ্গা ব্রিজের কাছে আসলে ৩ জন ডাকাত আমাদেরকে গতিরোধ করে সাথে যা আছে দিয়ে দেওয়ার কথা বলে পিস্তল ঠেকায়। পরে আমাদের সাথে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ৩ টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। আমরা প্রথমে টাকা ও মোবাইল সেট দিতে রাজি না হলে ডাকাতরা আমাদের উপর হামলা করে। পরে আমাদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আমরা ১ জন কে ছুরি ও চাপাতিসহ ধরতে সক্ষম হই এবং অপর ২ ডাকাত পিস্তল ঠেকিয়ে পালিয়ে যায়।
ডাকাত জুলহাস ওরফে আরিফ জানান, আমার সাথে মিন্টু নামের একজন ছিল, তবে অপরজনের নাম জানি না।
মতলব উত্তর থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) মোঃ আব্দুল আউয়াল জানান, জুলহাস ওরফে আরিফের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। যার নং-৩৮। এই মামলায় সে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়া আসামী। তাকে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান নান্টু জানান, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নবাসী শান্তিপ্রিয়। এই ইউনিয়নের প্রায় সকলে কাজ-কর্ম করে খায়। এখানের বেশিরভাগ লোক ব্যবসা করে। ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা রাতে দোকানপাট বন্ধ করে যার যার বাড়িতে যায়। অনেক সময় আমাদের কাছে অভিযোগ আসে ব্যবসায়ীরা বাড়িতে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। তেমনি শুক্রবার আমাদের পরিষদের মহিলা মেম্বার লাকি বেগমের ছেলেদের অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়। এই স্থানে বেশি বেশি পুলিশের টহল জোরদার করা দরকার।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ জানান, ডাকাত জুলহাস মতলব উত্তর থানায় জবানবন্দীমূলক ১৬৪ এর আসামী। আমরা তাকে মতলব উত্তর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।