শিরোনাম:
পচা দুর্গন্ধে ৯৯৯-এ ফোন, ফরিদগঞ্জে তরুণের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার মতলব প্রেসক্লাবের সদস্য সোবহান ফারুক বেঁচে নেই, বিভিন্ন সংগঠনের শোক ‎মতলব উত্তরে দুর্বৃত্তদের আগুনে দোকান পুড়ে ছাই হত্যা করে মাকে কলাবাগানে ফেলে রাখে ছেলে, ৮ দিন পর গ্রেপ্তার শাহমাহমুদপুরের সাবেক চেয়ারম্যান  অ্যাড: তাহের হোসেন রুশদী’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের জোরালো দাবি চাঁদপুরে ‘সচেতনতা ও সুরক্ষা ইভেন্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে এতিম ভাতিজী’র সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অভিযোগ আপন জেঠার বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে তালাক দিতে সাজানো মামলা শ্বশুরের! ফরিদগঞ্জে ভয়াবহ অ**গ্নী***কাণ্ডে ১১টি পরিবারের বসতঘর পু**ড়ে ছাই

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিল মেয়ে

reporter / ৫২৭ ভিউ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
একযোগে সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত ৩০ এপ্রিল রোববার। সব শিক্ষার্থী প্রতিদিন মা-বাবার দোয়া নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে। কিন্তু বাড়িতে বাবার লাশ রেখে চোখে জল নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে এসেছে ফেরদৌসী আক্তার জুঁহি।
ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ভাটেরগাঁও গ্রামে। বুধবার (৩ মে) সকাল ৭টার দিকে ফেরদৌসী আক্তার জুঁহির বাবা মকবুল হোসেন বেপারী শারীরিক অসুস্থ হয়ে মারা যান। এদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষায় অংশ নেন জুঁহি। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে এসে বাবার শেষ বিদায় দেন সে।
মকবুল হোসেন ভাটেরগাঁও গ্রামের বেপারী বাড়ির মৃত আবুল হাশেম বেপারীর ছেলে। ফেরদৌসী আক্তার জুঁহি উপজেলার শাহাতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। বুধবার তার ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। এদিন সকালে বাবা মারা যাওয়ায় ভেঙে পড়ে জুঁহি। পরে স্বজনদের পরামর্শে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। এক হাতে চোখের অশ্রু মুছে আর অন্য হাতে কলম চালিয়ে পরীক্ষা দেয় ফেরদৌসী।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকাল ৭টার দিকে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান ফেরদৌসী আক্তার জুঁহির বাবা মকবুল হোসেন। বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়ে দুই বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট জুঁহি। অন্যদিকে সকাল ১০টায় তার ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা। বাবার মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাওয়া ফেরদৌসীর পক্ষে পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এসময় তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা তাকে বুঝিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠায় এবং সে এম এম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি পৌঁছে বাবার লাশের পাশে বসে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল ঐ ছাত্রী। বাড়ি পৌঁছার পর তার বাবার লাশ বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উক্ত বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বলেন, ফেরদৌসী একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তাদের বাড়িতে আমাদের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক গিয়েছেন। তিনি পরিবারটির পাশে আছেন। আমরা ফেরদৌসীর পাশে আছি এবং সে যেন কোনোভাবেই মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে সেই চেষ্টা করছি। সামনে যাতে সবগুলো পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করে সেজন্য আমরা তাকে সহযোগিতা করবো। এছাড়াও ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ফেরদৌসীর যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয় আমি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করবো। আমি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।


এই বিভাগের আরও খবর