শিরোনাম:
হবিগঞ্জে ৪১৩তম রোভার স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্স সম্পন্ন শাহরাস্তিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ১৫ ভরণ-পোষণের দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে আফিয়া, স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া, নিম্নমানের খাবার ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন আইন ভাঙলেই ছাড় নয়: জুলাইয়ে চাঁদপুরে ট্রাফিক পুলিশের ১,২৮৫ মামলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ: পারিবারিক রাজনীতির বলির পাঁঠা, তবুও নীতিতে দৃঢ় মতলব উত্তরে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার চাঁদপুরে স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড পোর্টাল ওয়ার্কশপ ফরিদগঞ্জে চুরির আতঙ্ক: এক সপ্তাহে ২০টির বেশি ঘটনা, নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন চাঁদপুর ডিবির জালে বাঘ শাহজাহান

শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক

reporter / ৫২০ ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৩

মানহীন ট্রাক চলাচলের ফলে সৃষ্ট দূর্ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যু
রাফিউ হাসান হামজাঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমি ও পুকুর সংস্কারের নামে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই একটি অসাধু চক্র প্রকাশ্যে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে। এসব মাটি ট্রলি ও ট্রাকসহ বিভিন্ন গাড়িতে নিয়ে যাবার সময় সড়কে মাটিগুলো পড়ছে। আবার এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করা হলেও এ বিষয়ে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই। এতে স্থানীয় সড়ক নষ্ট হচ্ছে। আর প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারী) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠ থেকে এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন স্থানীয়রা। এসব পুকুর খননকারী ও মাটি বিক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে তারা প্রশাসনের অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। ওই ইউনিয়নের ভূমি অফিসের নায়েবের কাছ থেকে জানা গেছে, তাদের কারোরই মাটি কাটার অনুমতি নেই।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, কিছু মাটি ব্যবসায়ী ফসলি জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। মাটি বহনকারী গাড়ি, ট্রলি, ট্রাক চলাচলে বিভিন্ন রাস্তায় দ্রুত গতিতে চলাচল করছে। আকার ভেদে প্রতি গাড়ি মাটি ১৫শ’ থেকে ২৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের অংশ কেটে গাড়ি উঠা-নামার ব্যবস্থা করায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এসব যানবাহনে মাটি বহন করার সময় ধুলাবালিতে পথে চলাচলকারী মানুষের নানা সমস্যা হচ্ছে। মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বায়ু দূষণজনিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
মাটি নিয়ে যাওয়ার কারণে আশপাশের ফসলি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানানোর পর তারা মাটি খনন বন্ধ করে দিলেও কিছুদিন পর মাটি ব্যবসায়ীরা আবার মাটি কাটা শুরু করেন। এভাবেই ফসলি জমিতে পুকুর খনন আর মাটি বিক্রির উৎসব চলছে। অনেকে আবার দিনে মাটি না কেটে রাতের আঁধারে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারিতেও বন্ধ হচ্ছে না মাটি কাটা ও বিক্রির ব্যবসা।
উল্লেখ্য, উপজেলায় একই সপ্তাহে ট্রাকের ধাক্কায় ২ জন শিশু নিহতের ঘটনা ঘটেছে। রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রাম ও রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বেরনাইয়া বাজারে দূর্ঘটনায় জন্য এসব ট্রাকগুলোই দায়ী। অজানা কারণেই মানহীন এই ট্রাকগুলো প্রশাসনের নাকের ডগায় চলাচল করলেও প্রশাসন কার্যকরী কোনো ভূমিকা না নেয়ায় স্থানীয়রা সকলেই ক্ষুব্ধ।


এই বিভাগের আরও খবর