বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব
—— জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক এক কর্মশালা বুধবার চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ও ইপসার উদ্যোগে এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় এতে সভাপতিত্ব করেন , চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র সহকারি জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা সাকিব আল হাসান
, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বশির আহমেদ , অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, এ এস এম মোসা , মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ কুদ্দুছ। কর্মশালায় আরো জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন, শিক্ষক, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কিন্তু বিভিন্ন সভা সেমিনার হচ্ছে।
বাল্যবিবাহ রোধকল্পে কর্মকৌশল বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিদের ও ষ্টেকহোল্ডারদের ভুমিকা রাখতে হবে । তিনি বলেন, নিরাপদে মা হওয়া মায়ের বড় অধিকার। অল্প বয়সে মা হওয়ার কারনে অনেক মেয়েই শারিরীক সক্ষমতার হারিয়ে ফেলে। আর এটি হলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসে। সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া স্বল্প বয়সে মা হলে সন্তানরাও সুস্থ হয় না। যত্নের অভাবে নিঃশেষ হয়ে যায়। এছাড়া খাদ্যের উপর প্রভাব পড়ে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগের একটি নারীর ক্ষমতায়ন। এটিকে বাস্তবায়ন করতে হলে বাল্যবিবাহরোধে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, যদি বলা হয় বাল্যবিবাহ কমে গেছে এটা ঠিক না, সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের হাতে আসে না। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে পারলে বহুবিধ সমস্যা আমরা দূর করতে পারি। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ পেতে হলে বাল্যবিবাহরোধ করতে হবে।
সিনিয়র সহকারি জজ সাকিব আল হাসান বলেন, স্বল্প বয়সী মা নানাভাবেই বুঝা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা এখনো বাল্যবিবাহ রোধে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। অভিভাবকসহ সবাইকে এ ব্যপারে ভূমিকা নিতে হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন, বাল্যবিবাহরোধে যে পরিকল্পনাই থাকুক আগে দরকার সমন্বিত সচেতনতা। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে সুশিক্ষাবোধ আসেনি। আমাদের মাধ্যমিক বা প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগামী মেয়ে শিক্ষার্থীরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এর শংকায়ও বাল্যবিয়ে হয়। দারিদ্র্যতা একটা বড় কারন। তিনি বলেন, মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এছাড়া আমাদের কাজী সাহেবরাসহ বিবাহ দেয়া নেয়ার কাজে যারা সম্পৃক্ত আছেন তারা অনেক সময়েই মেয়েদের বয়স বাড়িয় দেন। এটা ঠিক না। অনুষ্ঠানে ইপসার বিভাগীয় ব্যবস্হাপক ফারহানা ইদ্রিস কর্মশালা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সংক্ষেপে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সার্বিক ব্যবস্হাপনায় ছিলেন ইপসার জেলা সমন্বয়কারী জনাব গোলাম ছরওয়ার।