শিরোনাম:
পচা দুর্গন্ধে ৯৯৯-এ ফোন, ফরিদগঞ্জে তরুণের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার মতলব প্রেসক্লাবের সদস্য সোবহান ফারুক বেঁচে নেই, বিভিন্ন সংগঠনের শোক ‎মতলব উত্তরে দুর্বৃত্তদের আগুনে দোকান পুড়ে ছাই হত্যা করে মাকে কলাবাগানে ফেলে রাখে ছেলে, ৮ দিন পর গ্রেপ্তার শাহমাহমুদপুরের সাবেক চেয়ারম্যান  অ্যাড: তাহের হোসেন রুশদী’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের জোরালো দাবি চাঁদপুরে ‘সচেতনতা ও সুরক্ষা ইভেন্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে এতিম ভাতিজী’র সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অভিযোগ আপন জেঠার বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে তালাক দিতে সাজানো মামলা শ্বশুরের! ফরিদগঞ্জে ভয়াবহ অ**গ্নী***কাণ্ডে ১১টি পরিবারের বসতঘর পু**ড়ে ছাই

এখন আর দেখা মিলেনা বিনোদন ও সংবাদের একমাত্র ঐহিত্যবাহী রেডিও

reporter / ৫১৬ ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
এক সময় রেডিও ( বেতার) ছিলো একমাত্র (সংবাদ) বিনোদন মাধ্যম। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় জনপ্রিয় এই যন্ত্রটি হারিয়ে গিয়েছে প্রায়। তবে বাংলার বুকে রেখে গেছে স্মৃতিময় অধ্যায়।

বর্তমানে মতলব উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরেও রেডিওর দেখা পাওয়া প্রায় দুষ্কর হয়েছে। হাতেগোনা কিছু ঘরে রেডিও থাকলেও তা আজ বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী হিসেবে ব্যবহিত হচ্ছে। অনেকে স্মৃতি হিসেবে সাজিয়ে রেখেছে শোকেস, বা ডেসিন টেবিলে।

গ্রামের বয়জৈষ্ঠদের মাধ্যমে জানা যায়, তাঁদের সময়ে নানা অনুষ্ঠান, বিনোদন ও খেলার ধারাবর্ণনা ছাড়াও আবহাওয়া, রাজনৈতিক খবরাখবর শোনার একমাত্র মাধ্যম ছিল এই রেডিও।
বিশেষ করে উপকূলবাসীদের আবহাওয়ার খবর জানার প্রধান যন্ত্র ছিল এটি। এছাড়া জেলে সম্প্রদায় যারা গভীর সাগরে মাছ শিকার যেত তারা আবহাওয়ার খবর শুনতে ব্যবহার করতো রেডিও।

৫১ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯এর গন অভ্যুত্থান ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার মানুষের খবরের একমাত্র বাহন ছিলো এই রেডিও। মুক্তিযুদ্ধের ডাক, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিদিনের খবর, যোদ্ধাদের সাহস, সন্মান দেখিয়ে দেশাত্ববোধক গান, স্বাধীনতার ঘোষণা এই সকল কিছু দেশ বাসীর মাঝে পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র বাহন ছিলো রেডিও। তৎকালীন সময়ের মানুষ গুলোই রেডিও এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া হতো এটি। এমন কি সদ্য নতুন জামাই কেউ দেয়া হত।  তখন তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্কদের কাছে রেডিওর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

বেতার শ্রোতারা বেশিরভাগ সময় নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, জারি ,সারি, ভাটিয়ালী, গানের ডালি, দুর্বার, সুখী সংসার, দর্পণ, বাংলা ছায়াছবির গান, নাটক শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন।

আধুনিকতার সুবাদে এখন সকলের হাতে হাতে মোবাইলফোন, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট পৌঁছে বিলুপ্ত হয়েছে রেডিও। গ্রামগঞ্জে এখন রেডিও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিছু প্রবীণ মানুষের কাছে রেডিওতে বিবিসির খবর শোনা এখনো পছন্দনীয়।

অদূর ভবিষ্যতে বাচ্চারা বইতে বেতারযন্ত্রের নাম পেলেও বাস্তবে দেখতে পাবে না।

অনেক খোঁজাখুঁজির পরে উপজেলার জোড়খালী গ্রামের নাজমুল প্রধানের ঘড়ে রেডিও এর সন্ধান পাওয়া যায়। রেডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে, আমি যেদিন থেকে রেডিও কিনি এটা আমার চলার সঙ্গী। ছোট বেলায় এই রেডিও একবার আমার মামাতো ভাই নিয়ে গেলে, আমার কান্নার ঢোল দেখে কে।

ছোটকাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যা কিছু জানা তার প্রায় সব এই রেডিও এর কারনে। কত আনন্দ নিয়ে এখনো বিবিসি নিউজ শুনি। এই রেডিও পরবর্তী প্রজন্ম বইতে লিখা কিংম্বা ছবিতে দেখতে পাবে, বাস্তবে না।


এই বিভাগের আরও খবর