সাইফুর রহমান সবুজঃ
পাভেল হাসান রাব্বি (২৩), লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতো । ঢাকায় ভাড়া বাসায় বাবা মায়ের সঙ্গে থাকতো। সে ছিলো ছাত্রদলের একজন ত্যাগী নেতা ছিলো। বিএনপির যেকোনো প্রোগ্রামে ছিলো সক্রিয় একজন কর্মী।আওয়ামি সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ জুলাই আন্দোলনে প্রতিদিনই অংশগ্রহন করেছেন। ১৯ জুলাই ছিলো পাভেল হাসান রাব্বির শেষ আন্দোলন। সকলকে ফাঁকি দিয়ে বৃদ্ধ বাবা মায়ের বুক খালি করে গুলিতে নিহত হয়ে পরপারে চলে যান পাভেল হাসান রাব্বি। নিহত হওয়ার এক বছর পরও থামেনি তার পরিবারের কান্না।
গত বছরের ১৯ জুলাই ঢাকা পল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রতিদিনের ন্যায় অংশগ্রহণ করেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাধি ইউনিয়নের দক্ষিণ নওগাঁ গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির বাবুল হোসেন পাটোয়ারীর বড় ছেলে ছাত্রদল নেতা পাভেল হাসান রাব্বি । কর্মসূচি চলাকালে তার মাথায় বুকে গুলি লাগে।গুলিবিদ্ধ হলে তাঁর বন্ধুরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঐদিনই হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শহীদ পাভেল হাসান রাব্বির পরিবারের সদস্যরা অঝোরে কান্নায় ভেঙে পরেন। নিহতের এক বছর পার হলেও স্বজনহারা শহীদ পরিবারের সদস্যদের কান্না আজও থামেনি। তাদের কান্নায় আকাশ বাতাস এখনও ভারী হয়ে যাচ্ছে। স্বজনরা ও পরিবারের সদস্যরা শহীদ পাভেল হাসান রাব্বি হত্যার বিচার চায়।
মতলব পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক ইদ্রিস সরকার মুন্না বলেন, জাতির ক্রান্তিলগ্নে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে থেকে আমাদের ছাত্রদল নেতা পাভেল হাসান রাব্বি দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। এমন ত্যাগী পাভেল হাসান রাব্বিদের রক্তের বিনিময়ে আজ নতুন ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমাদের দলের অনেক নেতা কর্মীদের আওয়ামী লীগ সরকার বিনা অপরাধে জেল,গুম,হত্যা করছে। আজ ছাত্রদল নেতা পাভেল হাসান রাব্বি শহীদ হলেও তার জীবনের বিনিময়ে গোটা জাতি যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এটাই আমাদের বড় পাওয়া। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ছেলের শোকে কাতর হয়ে শহীদ পাভেল হাসান রাব্বির মা পারভীন বেগম বলেন, আমার দুইডা পেলার মধ্যে বড় পাভেল হাসান রাব্বি। অয় দেশের জন্য শহীদ হয়েছে। আমার পোলাডারে যেন শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়। পাশাপাশি খুনিদের বিচার চাই। সন্তানকে ছাড়া মনে হয় আমরা বেঁচে থেকেও মরা মানুষের মতন আছি।
কান্নাজরিত কন্ঠে শহীদ পাভেল হাসান রাব্বির বাবা বাবুল হোসেন পাটোয়ারী কালবেলাকে বলেন,আমার ছেলে জুলাই আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছে।আমার ছেলের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। আমরা একটা দূর্নীতিমুক্ত দেশ চাই। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে আল্লাহ তাদের বিচার করবে এবং প্রশাসনের কাছে জোড়ালো বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে এই উপজেলায় চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছেন। তিনজন মুসলিম আর একজন সনাতনধর্মের। আমরা তাঁদের পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। ঈদ,পূজায় উপজেলা পরিষদ থেকেও সাহায্য করেছি। এ ছাড়াও তাঁদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি।